বয়সটা স্রেফ একটা সংখ্যা, নইলে কি আর ৪০-এর কোটা পার করা মোহাম্মদ নবী বাইশ গজে ওমন করে ঝড় তুলতে পারেন! সীমানা দড়ির ওপারে পাঠানো একেকটা ছক্কায় এক লহমায় বদলে দিতে পারেন সব হিসাব-নিকাশ!
বাংলাদেশের বিপক্ষে শেষ ওয়ানডেতে যখন ক্রিজে এলেন, দলের অবস্থা তখন পাঁচ উইকেট হারিয়ে ১৮৮। একটা সময় পর যা দাঁড়াল ৪৭ ওভারের শেষে নয় উইকেট হারিয়ে ২৪৯ রান। নবী তখন ২৫ বল খেলে ২৪ রানে। শেষটাতে তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে ৩৭ বলে ৬২ রানের বিধ্বংসী এক নক। ইনিংস সাজিয়েছেন চারটি চার আর পাঁচ ছক্কায়।
মাঝখানের পুরোটা সময় তিনি কেবল দেখে গেলেন সব, এরপর দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া সৈনিকের মতো প্রতিআক্রমণ চালালেন, যার সামনে মাথা নোয়াতে বাধ্য হলো বাংলাদেশের বোলাররা।

৪৯তম ওভারের প্রথম দুই বল করে যখন নাহিদ রানা ইনজুরিতে মাঠ ছাড়েন। ওভারের বাকি বলগুলো করতে আসেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ব্যাস, নবীর তাণ্ডবলীলা শুরু হয় সেখান থেকেই! মিরাজের চার বলের তিনটিকেই পাঠান মাঠের বাইরে।
শেষ ওভারে নবীর রোষানলে পড়েন হাসান মাহমুদ। ওই ওভারে দেন ১৯ রান। আফগানিস্তানের ২৫০ হওয়া নিয়েই একটা সময় শঙ্কা ছিল, তবে নবী সেসব ছক্কার মতোই উড়িয়ে দেন। শেষপর্যন্ত আফগানরা পায় ২৯৩ রানের পাহাড়সম সংগ্রহ, যার কারিগর বুড়ো ঘোড়া মোহাম্মদ নবী।
শুধু এক ম্যাচ নয়, নবী ধারাবাহিকভাবেই আফগানদের ফিনিশিংয়ে দায়িত্ব সামলে যাচ্ছেন। এশিয়া কাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেও একইভাবে ঝড় তুলেছিলেন, হিসাবের খাতা নিমিষেই করেছিলেন উলটপালট। আজও সেটাই করলেন।

তাঁর বয়সী অধিকাংশ ক্রিকেটারই ক্রিকেটের পাঠ চুকিয়েছেন অনেক আগেই। তবে নবী ব্যাট হাতে এখনও শাসন করছেন বাইশ গজে, বোলারদের সামনে এখনও ভয়ঙ্কর তিনি। নামটা মোহাম্মদ নবী বলেই হয়তো এটা সম্ভব।











