জয়ের সুবাতাসে টিকে রইলো বাংলাদেশের আশা!

শ্বাসরুদ্ধকর লড়াই শেষে বাংলাদেশের জয়। আফগানিস্তানকে আট রানে হারিয়ে সুপার ফোরের আশা বাঁচিয়ে রাখলো লিটনরা। এবার অপেক্ষাটা কেবল শ্রীলঙ্কার জয়, ওখানেই যে দোদুল্যমান বাংলাদেশের স্বপ্ন।

শ্বাসরুদ্ধকর লড়াই শেষে বাংলাদেশের জয়। আফগানিস্তানকে আট রানে হারিয়ে সুপার ফোরের আশা বাঁচিয়ে রাখলো লিটনরা। এবার অপেক্ষাটা কেবল শ্রীলঙ্কার জয়ের, ওখানেই যে দোদুল্যমান বাংলাদেশের স্বপ্ন।

এদিন টস কয়েনটা বাংলাদেশের পাশেই পড়লো, লিটন দাস বেছে নিলেন ব্যাটিংটা। একাদশে চার পরিবর্তন, ইমনের বদলে সুযোগ পেলেন সাইফ হাসান। তানজিদ তামিমের সাথে ইনিংসের গোড়াপত্তন করতে এলেন তিনি।

সূচনাটা দেখে শুনেই করলেন দুই ব্যাটার, প্রথম দুই ওভার থেকে এলো মোটে আট। তৃতীয় ওভারে তামিম খোলস ছেড়ে বের হলেন, হাঁকালেন চারটি চার। আর তাতেই মোমেন্টাম পেল বাংলাদেশ। পাওয়ার প্লেতে যেটা গিয়ে ঠেকলো বিনা উইকেটে ৫৯ রান।

তানজিদ ব্যাট চালালেন, সাইফ সঙ্গ দিলেন। দুজনের জুটিটা শেষ পর্যন্ত দাঁড়ালো ৬৩ রানের। বড় ম্যাচে যেন স্বপ্নের মতো শুরু। ২৮ বলে ৩০ রান করে সাইফ বিদায় বললেও, অন্যপ্রান্তে তামিম বুঝে নেন দায়িত্বভার। লিটন দাসের সাথে আবারও নতুন শুরুর চেষ্টা করেন।

এদিন অবশ্য লিটনের ব্যাট হাসেনি, নূরের হাতে কাটা পড়েন মাত্র নয় রান করেই। তবে তামিম ঠিকই ফিফটি তুলে নেন, শেষটাতে থামেন ৩১ বলে ৫২ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলে।

মাঝের সময়টাতে তাওহীদ হৃদয়ের কাঁধে চাপের বোঝা যেমন ছিল তেমনই প্রত্যাশাটাও ছিল। এর মাঝেই খেললেন ২০ বলে ২৬ রানের ইনিংস। শামীম পাটোয়ারিকে আজ পাঁচে প্রমোট করা হলেও নিজের ঝলক দেখাতে পারেননি তিনি, ফিরতে হয় ১১ বলে ১১ করে।

শুরুটা বাংলাদেশের যেভাবে হয়েছিল একপর্যায়ে মনে হচ্ছিলো ১৮০ ছুঁই ছুঁই স্কোর হবে অনায়াসে। তবে শেষদিকে জাকের-সোহানদের ম্যাড়ম্যাড়ে ফিনিশিংয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৫৪ রান। বল হাতে রশিদ এবং নূরের ঝুলিতে জোড়া শিকার।

আফগানিস্তানকে এই রানের মধ্যে আটকাতে হলে শুরুতেই চাপে ফেলতে হতো। নাসুম আহমেদ বল হাতে সেই কাজটাই করলেন, প্রথম বলেই তুলে নিলেন সেদিকুল্লাহ অটলকে। পয়েন্ট অঞ্চলে ক্যাচ ফেলে দিয়ে ইব্রাহিম জাদরানকে ফেরানোর সহজ সুযোগ মিস করেন রিশাদ। তবে সেটাও পুষিয়ে দেন নাসুম, নিজের তৃতীয়তম ওভার করতে এসে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলে সাজঘরের পথ দেখান ইব্রাহিমকে।

পাওয়ার প্লে শেষে আফগানদের স্কোরবোর্ডে রান দাঁড়ায় দুই উইকেট হারিয়ে ২৭ রান। তবে একপ্রান্তে তখনও গলার কাঁটা হয়ে থাকেন রহমানউল্লাহ গুরবাজ, গুলবাদিন নাইবকে সাথে নিয়ে ইনিংস মেরামতের কাজে লেগে পড়েন।

তবে বাংলাদেশের ত্রাতা হয়ে আসেন রিশাদ হোসেন। দুই ওভারের ব্যবধানে ফেরান দুজনকেই। ১৩তম ওভারে মোহাম্মদ নবিকে মুস্তাফিজ শিকার বানালে ম্যাচ তখন অনেকটাই বাংলাদেশের পকেটে। তবে বিপত্তি বাঁধে আজমতউল্লাহ ওমরজাইয়ের ব্যাটিং তাণ্ডবে। ১৬ বলে ৩০ রানের ইনিংস খেলে জমিয়ে তোলেন ম্যাচ। শেষমেষ তাসকিনের সামনে থামতে হয় তাঁকে।

তবুও ম্যাচে বেশ ভালোভাবেই ছিল আফগানরা। দলের ভরসা জুড়ে তখন রশিদ খান। তবে ১৯তম ওভারে মুস্তাফিজের ম্যাজিক সব সংশয় দূর করে দেয়। রশিদ এবং গজনফারকে পরপর ফিরিয়ে দিয়ে আফগানিস্তানের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন। বাংলাদেশের শেষ পর্যন্ত আফগানদের আটকে ফেলেছে ১৪৬ রানে।

এ যাত্রায় আবারও লিটনদের সামনে টিকে থাকলো সুপার ফোরের স্বপ্ন। যদিও এখনও জটিলতার মেঘ কাটেনি। এবার যে তাকিয়ে থাকতে হবে আফগানিস্তান এবং শ্রীলঙ্কার ম্যাচের দিকে।

লেখক পরিচিতি

প্রত্যয় হক কাব্য

স্বপ্ন লেখার কি-বোর্ড

Share via
Copy link