স্পিনস্বর্গ কলকাতা, দ্বিতীয় দিনে উইকেট নেই ১৬টা

ইডেন গার্ডেন্স ব্যাটারদের জন্য বনে গেছে দমবন্ধকর গ্যাস চেম্বার। কলকাতা টেস্টের দ্বিতীয় দিনে উইকেট পড়েছে মোট ১৬টি।

কলকাতা টেস্টের দ্বিতীয় দিনে উইকেট পড়েছে মোট ১৬টি। এক উইকেট হারিয়ে দিনের খেলা শুরু করা ভারত অলআউট হয়েছে, হারিয়েছে নয় উইকেট। অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকা নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে, ইতোমধ্যেই সাত ব্যাটার ফিরে গেছেন প্যাভিলিয়নে। ইডেন গার্ডেন্স ব্যাটারদের জন্য বনে গেছে দমবন্ধকর গ্যাস চেম্বার।

স্পিন বান্ধব উইকেট হবে, এ ধারণা তো আগে থেকেই ছিল। ঘরের মাঠে ভারতের সাম্প্রতিক টেস্ট পর্যালোচনা করলেই বরং এই বিষয়টি বোঝা যায় খুব সহজেই। কলকাতায় যার ব্যত্যয় ঘটেনি। টেস্টের প্রথম দিনে দক্ষিণ আফ্রিকা অলআউট হয়েছে স্রেফ ১৫৯ রানে। জবাবে ৩৭ রানে এক উইকেট হারিয়ে দ্বিতীয় দিন শুরু করেছিল ভারত।

কিন্তু তারাও বেশিদূর এগোতে পারেননি। সাইমন হার্মার ও কেশভ মহারাজ মিলে শিকার করেছেন পাঁচ উইকেট। তাতেই মাত্র ১৮৯ রানে থেমেছে ভারতের প্রথম ইনিংস। ৩০ রানের লিডটা ছিল ভীষণ মামুলি। তবে কলকাতার উইকেটে ভারতীয় স্পিনারদের সামলানো যে এভারেস্টের চূড়ায় ওঠার মত দুঃসাধ্য।

ভারতের তিন স্পিনার, প্রোটিয়াদের শ্বাসরুদ্ধ করে রাখে। অভিজ্ঞ রবীন্দ্র জাদেজা তুলে নেন চারটি উইকেট। কুলদ্বীপ যাদবের পকেটে গিয়েছে আরও দুইটি। অক্ষর প্যাটেল ভাগে পেয়েছেন একটি। আলোক স্বল্পতায় দ্বিতীয় দিনের খেলা একটু আগেভাগেই শেষ হয়েছে। তাতে করে কলকাতা টেস্ট দুই দিন হাতে থাকতেই শেষ হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল হয়েছে।

৯৩ রানে ৭ উইকেট হারানো প্রোটিয়াদের গুটিয়ে যাওয়া সময়ের বিষয় মাত্র। ৬৩ রানের লিড বাড়ানোর প্রচেষ্টা একটা অবশ্যই করতে চাইবে দক্ষিণ আফ্রিকা। কিন্তু তাতে আখেরে লাভ হবে কতটা- সেটা অজানা। নিদেনপক্ষে ১৫০ রানের একটা টার্গেট এই ম্যাচ জমিয়ে ফেলার জন্য যথেষ্ট। কিন্তু সফরকারীদের সেই সুযোগ হয়ত হয়ে উঠবে।

তৃতীয় দিনের সকালেই ভারত ব্যাটিংয়ের নামতে চাইবে। উইকেট আরও খানিকটা বিরুপ আচরণ করার আগেই ভারত টপকাতে চাইবে দক্ষিণ আফ্রিকার দেওয়া যেকোন টার্গেট। এমন উইকেটে আক্রমণাত্মক না হওয়ার বিকল্প যে নেই। তবে ভারতের গলার কাঁটা হয়ে টিকে আছেন টেম্বা বাভুমা। তিনি যদি আক্রমণের পথটা বেছে নেন, তাহলে পাশার দান পালটে যেতে সময় লাগবে না।

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Share via
Copy link