ভারতীয় স্পিন আক্রমণকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে যে শক্তির কথা বলা হতো, সাম্প্রতিক সময়ে সেই ধার আর সেভাবে দেখা যাচ্ছে না। বিশেষ করে টার্নিং কন্ডিশনে ভারতের স্পিনারদের সবচেয়ে বড় ঘাটতি হিসেবে উঠে এসেছে ধৈর্য ও লম্বা স্পেলে বোলিং করার অভ্যাসের অভাব। যার ফলে বিপাকে পড়তে হচ্ছে প্রতিপক্ষের উইকেট তুলতে।
ভারতের বর্তমান স্পিন সমস্যার মূল কারণ দুটি, ঘরোয়া ক্রিকেটে পর্যাপ্ত ওভার না করা এবং হোয়াইট-বল ক্রিকেটের অতিরিক্ত প্রভাব। ঘরোয়া সার্কিটে স্পিন-সহায়ক উইকেট কম থাকায় স্পিনাররা পরিস্থিতিভেদে বোলিংয়ের দক্ষতা শিখতে পারছেন না।
আগে ভারতের উইকেটগুলো ব্যাটিং সহায়ক হলেও তৃতীয়-চতুর্থ দিন থেকে স্পিনারদের সহায়তা দিত। সেই পরিবেশ স্পিনারদের ধৈর্য শেখাত, দীর্ঘ স্পেলে উইকেট শিকার করার অভ্যাস তৈরি করত। কিন্তু বর্তমান উইকেটগুলো হয় সবুজ, নয় সম্পূর্ণ ফ্ল্যাট, যার কারণে মানসম্পন্ন স্পিনার তৈরি হওয়াটা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ভারতের তিন স্পিনার খেলানোর প্রবণতাও সমস্যার একটি বড় অংশ। তিন স্পিনার খেললে একজন লম্বা স্পেল বল করার সুযোগই পান না। ফলে উইকেট নেওয়ার বদলে সবাই চাপ ধরে রাখার ভূমিকায় চলে যান। এতে একটি প্রান্ত থেকে ধারাবাহিক চাপ তৈরি হয় না, ব্যাটসম্যানরাও সহজেই পরিস্থিতি সামলাতে পারেন।
এদিকে বিদেশি স্পিনাররা ভারতে এসে বিশেষ কিছু করেন না, শুধু ধারাবাহিক লেংথ বজায় রাখেন। কিন্তু ভারতীয় স্পিনাররা তাড়াহুড়ো করে উইকেট খুঁজতে গিয়ে নিজেদের লেংথ ও ধৈর্য হারিয়ে ফেলেন।
তবে সবচেয়ে বড় পতন এসেছে অশ্বিন-জাদেজা যুগের পর। দীর্ঘদিন ধরে দুই প্রান্তে চাপ সৃষ্টি করে ভারত প্রতিপক্ষকে ভেঙে ফেলতে পারত। অশ্বিন তার বৈচিত্র্যে ব্যাটসম্যানকে চ্যালেঞ্জ করতেন, অন্যদিকে জাদেজা ধারাবাহিক লেংথ বজায় রাখতেন। অশ্বিনের অবসরের পর তাঁর শূন্যস্থান পূরণ করতে পারেনি কেউ।

সবমিলিয়ে ভারতের স্পিনে এখন বড় সমস্যা, অভিজ্ঞতার অভাব, ধৈর্যের অভাব এবং দীর্ঘ স্পেল বল করার পরিবেশের অভাব। যার ফলস্বরুপ ধরা দিচ্ছে না দলের সফলতা।











