ট্রফি হাতে না নিয়েই শেষ বেলায় মঞ্চে উঠে উদযাপন করল ভারতীয় দল। হাতে ট্রফি নেই, কিন্ত লেখা চ্যাম্পিয়ন। ততক্ষণে ট্রফি না দিয়েই মঞ্চ ছেড়ে চলে গেছেন অতিথিরা। ট্রফি ছাড়াই উদযাপন করছে ভারত। কালক্ষেপণ, মান-অভিমান, এত নাটক কেবল ভারত-পাকিস্তান ফাইনালেই সম্ভব।
পাকিস্তানের মহসিন নাকভির হাত থেকে এশিয়া কাপের শ্রেষ্ঠত্বের ট্রফি নিতে অস্বীকৃতি জানাল ভারতীয় দল। শিরোপার ট্রফি চ্যাম্পিয়ন দলের হাতে না উঠেই প্রথমবারের মত পর্দা নামল এশিয়া কাপে। আয়োজক দেশ ভারত বলে প্রথমে ‘রানার আপ’ ট্রফি নিতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছিল পাকিস্তান, কিন্তু তাঁদের মন গললেও ভারতের মন গলানো যায়নি ভারতের।
শুধু ব্যক্তিগত অর্জনের ট্রফি দেওয়া গেছে ভারতকে। এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) ভারতীয় প্রতিনিধির হাত থেকে টুর্নামেন্ট সেরা ও সবচেয়ে দামী খেলোয়াড়ের পুরস্কার নেন যথাক্রমে অভিষেক শর্মা ও কুলদ্বীপ যাদব। পাকিস্তান দলের হাতে মেডেল তুলে দেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবু্ল।

অনুষ্ঠান সঞ্চালক সাইমন ডউল বলেন, ‘এসিসির পক্ষ থেকে আমাকে জানানো হয়েছে ভারত আজ কোনো পুরস্কার নেবে না।’ পুরো আসর জুড়ে পাকিস্তানের কোনো ক্রিকেটারের সাথে ম্যাচ শেষে বা টসের সময় হাত মেলায়নি ভারত। সেই ধারাবাহিকতা শেষ ম্যাচেও থাকল। এসিসি সভাপতি নাকভি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) সভাপতি। তাঁকেও এড়িয়ে গেল ভারত। রাজনৈতিক বৈরিতার রেশ থাকল শেষ ম্যাচেও।
দুবাইয়ে সময় রাত সাড়ে দশটা নাগাদ ম্যাচ শেষ হয়। তিলক ভার্মা ম্যাচ জিতিয়ে দেন ভারতকে। এরপর এক ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান কোনো ভাবেই শুরু করানো যাচ্ছিল না। এরপর রাত পৌনে ১২টায় শুরু হয় সেই অনুষ্ঠান, অনেক নাটকের পর। এতটাই নাটক হয় যে, ম্যাচ রেফারি রিচি রিচার্ডসন দেশের বিমান ধরতে পুরস্কার না নিয়েই চলে গেছেন বিমানবন্দরে।
এক ফাইনালের নাটকীয়তা মাঠ ছাড়িয়ে পৌঁছে গেল পুরস্কার মঞ্চেও— বিস্ময়কর ও অস্বস্তিকরও বটে। ভারতের শিরোপাজয়ের উদযাপনের জন্য আতশবাজিও তৈরি ছিল। কিন্ত, সেটা ফাঁটানো হল যখন তিলক কিংবা কুলদ্বীপ মঞ্চে উঠলেন। প্রটোকল অনুযায়ী চ্যাম্পিয়নের ট্রফি দিবেন এসিসি চেয়ারম্যান, কিন্তু তাঁকে সেই সুযোগই দিলেন না সুরিয়াকুমার যাদব।











