প্রতিবেশির খোঁজ তো রাখতেই হয়। সেটাই রাখছে দিল্লীর পুলিশ। কেঁচো খুড়তে গিয়ে বের হয়ে আসল সাপ। আসছে ভাঙচুরের শব্দ। টিভি ভাঙার শব্দ। কিন্তু, পাকিস্তানের যে অভাবের সংসার। টিভি কেনারই টাকা নেই, ভাঙবে কি করে!
পান থেকে চুন ঘসলেই যার সঙ্গে রেষারেষি বাঁধে, তাঁর কাছে দিনের পর দিন হারতে কেমন লাগে? উত্তরটা পাকিস্তানের সমর্থকেরাই বোধহয় ভাল বলতে পারবেন। ২০২২ সালের অক্টোবর থেকে পাঁচবার ভারতের মুখোমুখি হয়ে পাঁচবারই হেরেছে তাঁরা, সবশেষ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে তো অসহায় আত্মসমর্পণ করতে হয়েছে তাঁদের।
প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও তো প্রতিবেশী, দুর্দিনে তাই দিল্লী পুলিশ খোঁজ নিয়েছে প্রতিবেশী দেশটার। আর খোঁজ নিতে গিয়ে শোনা গেল ভাঙচুরের আওয়াজ। আসলেই তাই; সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট দিয়ে দিল্লী পুলিশ লিখেছে, ‘পাশের দেশ থেকে কিছু অদ্ভুত আওয়াজ শুনতে পাচ্ছি। আশা করি, সেগুলো যেন শুধু টিভি ভাঙার আওয়াজ হয়।’

ভারতের মুরুব্বিরা কিন্তু বলে দিয়েছেন পাকিস্তানের নাম মুখে না নিতে, তবে দিল্লী পুলিশ ঠিকই বাংলা সিনেমার খলনায়কের স্টাইলে খোঁচা মেরেছে পাকিস্তানকে। অবশ্য আশা ভরসা এভাবে জলাঞ্জলি দিতে গেলে যেকারো ঘরেই ভাঙচুর করার মত পরিবেশ তৈরি হতে পারে। তবে পাক কিংবদন্তি বাসিত আলী নিজেদের অর্থনৈতিক দুরাবস্থার দেখিয়ে যেন টিভি ভাঙার লজ্জা থেকে রক্ষা পেতে চাইলেন।
তিনি বলেন, ‘এবার ভারতের কাছে একতরফাভাবে হারলেও মনে হয় না টিভি ভাঙাভাঙি হবে। দেশে জিনিসপত্রের যা দাম। শুধু কথা হবে।’ তাহলে আওয়াজ কিসের? কান্নার না তো?
তাঁর কথা অবশ্য ঠিক, পাকিস্তানের ক্রিকেটাঙ্গনে এখন কেবল কথা চলছে। কার কথা কে শুনছে সেটার ঠিক ঠিকানা নেই, কিন্তু সবাই কথা বলছেন। এইতো মোহাম্মদ হাফিজ; নিজে নির্বাচক থাকাকালে বলেছিলেন শাহীন শাহ, নাসিম শাহ, হারিস রউফ প্রত্যেকেই দেশের সেরা বোলার। কিন্তু এখন তাঁর মুখে শোনা যাচ্ছে অবহেলার বাণী; আকিফ জাভেদ, মোহাম্মদ আলীদের খেলাতে বলছেন তিনি।

শুধু কি তাই? বাড়ির বড় ছেলেকে পাশের বাড়ির ছেলের দিকে দেখিয়ে অপমান করতেও ভুললেন না প্রফেসর সাহেব। তিনি বলেন, ‘বাবর আজম সত্যিকারের রাজা নয়, আসল রাজা বিরাট কোহলি।’
আবার নিজেদেরই পুরনো ইতিহাস টেনে তিনি বলেন, ‘মানছি বাবর আজম পাকিস্তানের সবচেয়ে ভালো খেলোয়াড়। কিন্তু সে ইনজামাম নয়। ইনজামাম ভাই কঠিন সব পরিস্থিতিতে ম্যাচ জিতিয়েছেন। বাবর আজ পর্যন্ত ভারতের বিপক্ষে একটি ম্যাচও জেতাতে পারেনি।’ – এ যেন পরিবারের বুড়ো সদস্যের ভাল ফলাফলের কথা ছোটদের আরও ছোট করে বয়ান দিলেন।
তবে সেই বুড়ো সদস্য আবার আরেক ঘরের ছেলেপুলেদের উদাহরণ টেনেছেন। যেন চার সাবজেক্টে ফেল করা একজন দুই সাবজেক্টে ফেল করা একজনের উদাহরণ টানছেন, ‘এই পিচেই বাংলাদেশ আমাদের চেয়ে ভালো খেলেছে। তারা প্রতিপক্ষকে আটকে রেখেছিল, স্বস্তিতে রান করতে দেয়নি।’

বাংলাদেশ, আর ভাল খেলা? সেটা কি করে আর সম্ভব? আসলে পাকিস্তান আর বাংলাদেশ দল – এখন পর্যন্ত একই রকম খারাপ খেলেছে। প্রতিবেশি বলে কথা!










