গল্প হলেও সত্যি

ক্রিকেট ইতিহাসে অনেক ঘটনা আছে যা রীতিমতো অবাক করে দেওয়া মত। অনেকটাই ভাবনা-চিন্তার বাইরে গিয়ে অনেক কিছুর দেখা মিলে ২২ গজে। ভারতীয় ক্রিকেটেও এমন কিছু ঘটনা বা কীর্তি আছে যা রীতিমতো বিস্ময়ের জন্ম দেয়। প্রথম শোনায় মিথ্যে মনে হলেও আদতে সত্যি – ভারতীয় ক্রিকেটের এমন কিছু ঘটনা নিয়ে এবারের আলোচনা।

ক্রিকেট ইতিহাসে অনেক ঘটনা আছে যা রীতিমতো অবাক করে দেওয়া মত। অনেকটাই ভাবনা-চিন্তার বাইরে গিয়ে অনেক কিছুর দেখা মিলে ২২ গজে। ভারতীয় ক্রিকেটেও এমন কিছু ঘটনা বা কীর্তি আছে যা রীতিমতো বিস্ময়ের জন্ম দেয়। প্রথম শোনায় মিথ্যে মনে হলেও আদতে সত্যি – ভারতীয় ক্রিকেটের এমন কিছু ঘটনা নিয়ে এবারের আলোচনা।

  • বৈধ ডেলিভারি ছাড়াই বিরাটের প্রথম টি-টোয়েন্টি উইকেট

ব্যাটিংয়ের জন্যই থাকেন আলোচনায়, ব্যাটিংয়ের জন্যই নাম ডাক ভারতীয় তারকা বিরাট কোহলির। তবে, আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে বিরাট একমাত্র বোলার যিনি নিজের প্রথম উইকেট শিকার করেছেন বৈধ্য ডেলিভারি ছাড়াই। ২০১১ সালের ৩১ আগস্ট – ভার‍ত ও ইংল্যান্ডের টি-টোয়েন্টি ম্যাচে এই কীর্তি করেন বিরাট।

ইংল্যান্ডের ইনিংসের সময় অষ্টম ওভারে বোলিংয়ে আসেন বিরাট। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে কেভিন পিটারসেনকে নিজের প্রথম বলটাই করলেন লেগ স্টাম্পের বাইরে। হ্যাঁ, ওয়াইড বল। কিন্তু বলটা ফ্লিক করতে গিয়ে ভারসাম্য না রাখতে পেরে খানিকটা পা উপরে উঠে যায় পিটারসেনের। ব্যাস চোখের পলক না ফেলতেই স্টাম্প ভেঙে দেন উইকেটের পেছনে থাকা মহেন্দ্র সিং ধোনি।

কোনো বৈধ ডেলিভারি ছাড়াই টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে প্রথম উইকেট শিকারের কীর্তি গড়েন বিরাট। ৩ ওভারে ২২ রান দিয়ে ওই ম্যাচে এক উইকেট নেন তিনি।

  • বদলি খেলোয়াড় হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে খেলেন মানদ্বীপ সিং

২০১৫ সালে ভারত এ দলের বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকা এ দলের হয়ে ফিল্ডিং করেন ভারতীয় ক্রিকেটার মানদ্বীপ সিং। দক্ষিণ আফ্রিকা এ দল ও ভারত এ দলের সেই ম্যাচে প্রোটিয়াদের চার ক্রিকেটার অসুস্থ হয়ে পড়ায় মানদ্বীপ সিংকে দিয়ে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে ফিল্ডিং করায় দক্ষিণ আফ্রিকা।

ওই ম্যাচে অবশ্য আফ্রিকার বিপক্ষে সহজ এক জয় পায় ভার‍ত। উন্মুক্ত চাঁদ ও মায়াঙ্ক আগারওয়াল ওপেনিং জুটিতে করে ২১৯ রান। দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি হাঁকান আগারওয়াল। দুই তারকার ব্যাটিংয়ে আট উইকেটের বড় জয় পায় ভারত।

  • টি-টোয়েন্টি অলরাউন্ডার র‍্যাঙ্কিংয়ে বিরাট

ব্যাটিংয়ের সেরা তারকা হিসেবে বরাবরই আলোচনায় থাকেন বিরাট কোহলি। কালেভদ্রে বোলিংয়ে দেখা মিললেও বিরাট অলরাউন্ডার র‍্যাঙ্কিংয়ে আসতে পারেন – সেটা অনেকের জন্য বিশ্বাসযোগ্য না। তবে এমনটাই ঘটেছিল ২০১৭ সালে। সেবার নভেম্বরে ১৯০ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে টি-টোয়েন্টি অলরাউন্ডার র‍্যাঙ্কিংয়ের দশে উঠে আসেন বিরাট। শীর্ষে ছিলে বাংলাদেশী তারকা সাকিব আল হাসান।

অবাক করা ব্যাপার হল, ২০১৭ সালে টি-টোয়েন্টিতে বোলিংয়েই আসেননি বিরাট! তবুও টি-টোয়েন্টি অলরাউন্ডার র‍্যাঙ্কিংয়ে দশে জায়গা করে নেন এই তারকা।

  • রাহুল দ্রাবিড়ের স্কটল্যান্ডের হয়ে খেলা

ভারত তথা ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা তারকা হিসেবে পরিচিত ‘দ্য ওয়াল’ খ্যাত রাহুল দ্রাবিড়। টেস্ট ও ওয়ানডে দুই ফরম্যাটেই তিনি দশ হাজারেরও বেশি রানের মালিক। ভারতের এই কিংবদন্তি তারকা স্কটল্যান্ডের হয়েও খেলেছেন – সেটা অনেকেরই অজানা।

২০০৩ সালে স্কটল্যান্ডের জার্সিতে ১১টি ওয়ানডে খেলেছিলেন তিনি। ১১ ম্যাচে ৬০-এর বেশি গড়ে তিনি ৬০০ রান করেন। এরপর স্থায়ী ভাবে ভারতের জার্সিতে খেলা শুরু করেন সাবেক এই তারকা।

  • চার ব্যাটার, বিনা উইকেটে ৪০৮ রান!

২৫ মে ২০০৭। মিরপুরে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে মুখোমুখি ভারত ও বাংলাদেশ। মিরপুরের মাটিতে অভিষেক। সমর্থক সহ সবার মাঝেই তাই বাড়তি উত্তেজনা। তবে সেই উত্তেজনা ম্লান হয়ে যায় প্রথম দিনেই। ভারতের চার ব্যাটারের প্রতাপে অসহায় আত্মসমর্পণ করে বাংলাদেশের বোলাররা। কোনো উইকেট না হারালেও সেদিন চার ব্যাটার ব্যাট করে ভারতের।

ওপেনিং জুটিতে চার ব্যাটার মিলে গড়েন ৪০৮ রানের জুটি। প্রথম দিনে দীনেশ কার্তিক ও ওয়াসিম জাফর অসুস্থ হওয়ায় ব্যাট করতে নামেন শচীন টেন্ডুলকার ও রাহুল দ্রাবিড়। দু’জনেই ব্যাটে বিপদ ছাড়াই দিন পার করে ভারত। ওই ইনিংসে দলীয় ৪০৮ রানে ব্যক্তিগত ১২৯ রানে দ্রাবিড় ফিরলে প্রথম উইকেটের পতন ঘটে। জাফর, কার্তিক, দ্রাবিড় ও শচীন – টপ অর্ডারের চার ব্যাটারই সেঞ্চুরির কীর্তি গড়েছিলেন ওই টেস্টে।

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Share via
Copy link