দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে আসন্ন টি-টোয়েন্টি সিরিজ ভারতীয় ক্রিকেটারদের জন্য এক বড় পরীক্ষা। স্কোয়াড ঘোষণা হয়েছে দলের মূল কাঠামো অপরিবর্তিত রেখেই। তবে চাপ রয়েছে তিন তারকার ওপর, যাদের জন্য এই সিরিজ কেবল ম্যাচ নয়, আত্মপ্রমাণের মঞ্চ। তিনজনই এই সিরিজে নিজেদের প্রমাণ করতে মুখিয়ে থাকবেন, নইলে যে ভবিষ্যৎটা পড়বে শঙ্কার মুখে।
শুভমান গিল
শুভমান গিলকে সহ-অধিনায়ক ঘোষণার পর জোর সমালোচনা হয়েছে। সেই সঙ্গে তাঁকে একাদশে রাখতে ভাঙতে হয়েছে সাফল্যে ঘেরা অভিষেক শর্মা এবং সাঞ্জু স্যামসনের ওপেনিং জুটিটা। তবে আস্থার প্রতিদান গিল সেরকমভাবে দিতে পারেননি। ২০২৫ সালে ১২ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ২৫৯ রান, গড় ২৮.৭৮, স্ট্রাইক রেট ১৪৩, এবং অর্ধশতক শূন্য। সংখ্যা দেখাচ্ছে, তিনি সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি। এই সিরিজ গিলের জন্য এক ফাইনাল ম্যাচের মতো। প্রতিটি বলের সঙ্গে লড়াই করতে, ভালো শুরু এনে দিতে হবে দলকে, ব্যাটে রান করে বন্ধ করাতে হবে সমালোচকদের মুখ।

সাঞ্জু স্যামসন
ওপেনিংয়ের জায়গাটা ছাড়তে হয়েছে গিলের জন্যই, সাঞ্জু স্যামসনকে তাই লড়াই করতে হচ্ছে প্রতিকূলতা ডিঙিয়ে। ব্যাট করতে হচ্ছে অচেনা পাঁচ কিংবা ছয় নম্বর পজিশনে। তবে ওপেনিংয়ে যতটা সফল ছিলেন, গিল জায়গা হারিয়ে পুরোনো সুরে আর ব্যাট করতে পারেননি। ৯ ম্যাচে করেছেন মোটে ১৫০ রান, যা একেবারেই তাঁর সঙ্গে বেমানান।
তবে গিল ইনজুরির কারণে যদি প্রথম কয়েকটি ম্যাচ মিস করেন, স্যামসন আবার ওপেনিংয়ে সুযোগ পেতে পারেন। ব্যর্থ হলে পথ সংকীর্ণ, কারণ ভারতের প্রথম পছন্দের কিপার জিতেশ শর্মা ইতিমধ্যেই প্রস্তুত। তাই সিরিজটি স্যামসনের জন্য আত্মপ্রমাণের মঞ্চ। ওপেনিংয়ে নামলেই শুধু রান নয়, প্রতিটি বলের সঙ্গে লড়াই করতে হবে, প্রতিটি সুযোগ কাজে লাগাতে হবে।

হার্দিক পান্ডিয়া
হার্দিক পান্ডিয়ার অনুপস্থিতি ভারতের ফিনিশিং ক্ষমতা কমিয়ে দিয়েছে। ইনজুরির কারণে মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছে বেশ কিছুদিন। তাই তো তাঁর চাপটা নিজেকে পরিপূর্ণভাবে মেলে ধরার। শুধু ব্যাট নয়, তাঁর ওপর যে ভারত নির্ভর করে চার ওভারের জন্যও। তাই তো বিশ্বকাপের আগে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়া যে বড্ড জরুরি।
তাই তো দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজ কেবল ম্যাচ নয়, এটি তিন ভারতীয় তারকার জন্য এক কঠিন পরীক্ষা। গিলের ওপেনিং, সাঞ্জু স্যামসনের ব্যাটিং পজিশন এবং হার্দিকের ফিনিশিং, সবই ভারতের কৌশলের সঙ্গেই যে ভবিষ্যৎও নির্ধারণ করবে।












