২০১৯ সালের ৭ জানুয়ারি। ভারতীয় টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসের এক উজ্জ্বলতম দিন। যে দিনে সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে বিরাট কোহলির নেতৃত্বাধীন ভারত রচনা করে নতুন ইতিহাস। প্রথম বারের মতো অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে লাল বলে পায় সিরিজ জয়ের স্বাদ।
এই সিরিজই বদলে দেয় ভারতের টেস্ট ফরম্যাটে বিদেশ সফরের দৃষ্টিভঙ্গি। ‘আশা’-র স্থলে জন্মাতে শুরু করে ‘প্রত্যাশা’। সাত বছর পেরিয়ে আজ ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে সেই ঐতিহাসিক সফরের দিকে তাকালে দেখা যায়- সেই সিরিজ জয়ের নায়কদের পথ এখন আলাদা। কেউ বয়সের ভারে সাদা জার্সিটা তুলে রেখেছেন। কেউ আবার ফর্মের কারণে দল থেকে সরে গেছেন অনেকটা দূরে। কিন্তু ইতিহাসের পাতাজুড়ে তাঁদের ছাপ রয়ে গেছে অমলিন।
- চেতেশ্বর পূজারা

এ সিরিজে ব্যাট হাতে ভারতের আকাশের সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্রটির নাম চেতেশ্বর পূজারা। সৌন্দর্য নয়, বরং অবিচল সহনশীলতাই ছিল তাঁর অস্ত্র। চার টেস্টে সংগ্রহ করেছেন ৫২১ রান, গড় ৭৪.৪২! তিনটি শতরান। সেই প্রেক্ষিতে সিরিজ সেরার পুরষ্কারটাও লুফে নিয়েছেন।
২০২৫ সালে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে অবসর নেন পূজারা। বর্তমানে বিভিন্ন মিডিয়ায় ক্রিকেট বিশ্লেষকের ভূমিকায় দেখা যায় তাঁকে। তাঁর বিদায় যেন গোটা একটি যুগেরই পরিসমাপ্তি।
- অজিঙ্কা রাহানে

এ সিরিজে সহ-অধিনায়ক রাহানের ভূমিকা ছিল স্থিরতার। বড় কোনো ইনিংস না এলেও চার ম্যাচে ২১৭ রান করে তিনি দলের ভারসাম্য বজায় রাখেন।
বর্তমানে তাঁর পথ ঘুরেছে ঘরোয়া ও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে। ২০২৫ সালে কলকাতা নাইট রাইডার্স তাঁকে অধিনায়ক করে এবং এখনও তিনি সেই দায়িত্বে। ভারতের হয়ে তাঁর শেষ টেস্ট ছিল ২০২৩ সালে, তবে ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দিয়ে তিনি এখনও প্রত্যাবর্তনের আশায়।
- মায়াঙ্ক আগারওয়াল

মেলবোর্ন টেস্টে অভিষেকেই খেলেছিলেন ৭৬ রানের এক অনবদ্য ইনিংস। মায়াঙ্ক আগারওয়ালের ব্যাটিং যেন ভারতের বহুদিনের অভাব পূরণ করেছিল। সিডনিতেও ৭০ এর বেশি রান করে তিনি প্রমাণ করেছিলেন, তাঁর নতুন বল খেলার অসামান্য দক্ষতার।
বর্তমানে তিনি ঘরোয়া ক্রিকেটের পরিচিত মুখ। ২০২৫ সালে তিনি ইংলিশ কাউন্টি ক্রিকেটে ইয়র্কশায়ারের হয়ে খেলেন।
- হনুমা বিহারি

এ সিরিজে বিহারির অবদান ছিল নিরব, কিন্তু প্রয়োজনীয়। পার্থে কঠিন উইকেটে ২০ ও ২৮, মেলবোর্নে নতুন বল সামলে দীর্ঘ সময় ব্যাটিং করা, আর সিডনিতে ৪২ রানের ইনিংস। সব মিলিয়ে দলকে টিকিয়ে রাখতে তাঁর অবদানও অস্বীকার করার অবকাশ নেই।
বর্তমানে তিনিও ভারতের টেস্ট দলে নেই। অন্ধ্র ছেড়ে ২০২৫-২৬ মৌসুমে ত্রিপুরার হয়ে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলছেন।
- ইশান্ত শর্মা

সিরিজের প্রথম ওভারেই ফিঞ্চের স্টাম্প ভেঙে দিয়ে ইশান্ত শর্মা বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, এই সিরিজ ভারতের জন্য আলাদা হতে যাচ্ছে। তিন টেস্টে ১১ উইকেট,সংখ্যার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল তাঁর স্পেলগুলোর প্রভাব।
এখন তিনি আইপিএলের গণ্ডিতে, গুজরাট টাইটান্সের স্কোয়াডে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে দূরে থাকলেও তাঁর বাউন্সটা যেন এখনও কার্যকর।
- মোহাম্মদ শামি

অ্যাডিলেডে পাঁচ উইকেট, মোটে ১৬ উইকেট – বল হাতে শামির ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। ব্যাটারদের যেন একটুর জন্যও স্বস্তি পেতে দেননি। টেস্ট থেকে কিছু টা দূরে সরে গেলেও, শামি এখনও ভারতের অন্যতম পেসার।
- বিরাট কোহলি

বিরাট কোহলির আগে কোনো ভারতীয় অধিনায়কই অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট সিরিজ জিততে পারেননি। এই জয় তাঁর নেতৃত্বের ক্যারিয়ারের অন্যতম শিখর।
২০২৫ সালের মে মাসে ১৪ বছরের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের ইতি টেনে কোহলি টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নেন। যদিও ওয়ানডে ক্রিকেটে তিনি এখনও ভারতের পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দু। তবে সাদা জার্সি গায়ে আর কখনও ভারতের হয়ে মাঠে নামতে দেখা যাবে না আধুনিক ক্রিকেটের মহারাজাকে।










