ব্যাটিং অর্ডারে বাবরই পাকিস্তানের ভারসাম্য!

কিন্তু ধারাবাহিকতা, চাপের মুহূর্তে ইনিংস গড়ে তোলা, সেট ব্যাটার হয়ে শেষ পর্যন্ত থাকা, এই জায়গাটায় পাকিস্তান এখনও পুরোপুরি নিশ্চিন্ত নয়। আর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ যখন মাত্র এক মাস দূরে, তখন এই শূন্যস্থান পূরণের জন্য সবচেয়ে বিশ্বস্থ নামটা বাবর আজম।

শ্রীলঙ্কার মাটিতে দাঁড়িয়ে জয় দিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু করেছে পাকিস্তান। তবে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে সেই পুরনো ভরসার নাম বাবর আজম।না এই সিরিজে তিনি নেয়, তবুও পাকিস্তানের ড্রেসিংরুমে বাবরের উপস্থিতি যেন অদৃশ্য হয়েও স্পষ্ট।  প্রধান কোচ মাইক হেসনের কথাতেই সেটা পরিষ্কার, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে ফিরলেই একাদশে জায়গা বাবরের জন্য নিশ্চিত।

ওপেনিংয়ে সায়িম আইয়ুব কিংবা শাহিবজাদা ফারহানের আগ্রাসন। বাবরের অনুপস্থিতিতে তিন নম্বরে নেমেছেন ফখর জামান। ত্রিদেশীয় সিরিজে যার ভূমিকা ছিল মিডল অর্ডারে। তিন জনেই আগ্রাসী ব্যাটার। তাই তো পাকিস্তানের এই দলে পাওয়ার, আগ্রাসন সবই আছে, তবে নেই স্থিরতা। যা আছে কেবল বাবরের কাছেই।

ফখর জামান, সাইম আইয়ুব, উসমান খান কিংবা শাদাব খান, এরা সবাই ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে পারেন এক ঝটকায়। কিন্তু ধারাবাহিকতা, চাপের মুহূর্তে ইনিংস গড়ে তোলা, সেট ব্যাটার হয়ে শেষ পর্যন্ত থাকা, এই জায়গাটায় পাকিস্তান এখনও পুরোপুরি নিশ্চিন্ত নয়। আর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ যখন মাত্র এক মাস দূরে, তখন এই শূন্যস্থান পূরণের জন্য সবচেয়ে বিশ্বস্থ নামটা বাবর আজম।

ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে মাইক হেসন স্পষ্ট ভাষায় জানালেন তার ভাবনার কথা। তার মতে, বাবর শুধুই সাধারণ ব্যাটার নন তিনি পুরো ব্যাটিং ইউনিটের ভারসাম্য। হেসন বলেন, ‘আমাদের দলে অনেক স্ট্রোক-মেকার আছে। বাবর হলো সেই আঠা, যে পুরো ব্যাটিং ইউনিটকে একসঙ্গে ধরে রাখে। সে ফিরলে আমাদের শক্তি আরও বাড়বে।’

তবে বাবরের পথটা একেবারেই মসৃণ নয়। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে নিজের ব্যাটিংয়ের খুঁটিনাটি ঠিক করার মঞ্চ হিসেবে ধরা হচ্ছিল বিগ ব্যাশ লিগকে। কিন্তু সেখানে বাবরের পারফরম্যান্ ওঠানামায় ভরা। সাত ইনিংসে ১৪৫রান, গড় ২৪.১৬, স্ট্রাইক রেট মাত্র ১০৮। দুটি ফিফটি থাকলেও নেই ধারাবাহিকতা।

তবুও পরিসংখ্যানের পাতায় বাবর আজম পাকিস্তানের অবিচ্ছেদ্য নাম। টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার রান ৪৪২৯, পাকিস্তানের হয়ে সর্বোচ্চ। যদিও বিশ্বকাপের মঞ্চে তার পরিসংখ্যান কিছুটা ম্লান। ৫৪৯ রান করেছেন ৩৬.৬ গড়ে, স্ট্রাইক রেট ১১১.৩৫।

কিন্তু বিশ্বকাপ তো শুধু সংখ্যা দিয়ে বিচার হয় না। বিশ্বকাপ মানে চাপ, বিশ্বকাপ মানে দায়িত্ব, বিশ্বকাপ মানে নেতৃত্ব। আর এই তিনটাতেই বাবর আজম পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় ভরসা।

লেখক পরিচিতি

স্টাফ রিপোর্টার

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Share via
Copy link