রাজিনের সহায়তায় ঝুলি খুলে দিয়েছিলেন শচীন-সৌরভ

ঘটনাটা ২০০৪ সালের। তখন ভারত ক্রিকেট দল বাংলাদেশে এসেছিল দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে। সেই সিরিজে বাংলাদেশ দলের অন্যতম প্রতিনিধি ছিলেন রাজিন সালেহ।

চারিদিকে উত্তপ্ত পরিস্থিতি। এরই মাঝে রাজিন সালেহ ফিরে গেলেন পুরনো স্মৃতির ধারে। যখন রোষানলের গলিত লাভা সীমানার কাঁটাতারে আটকে গেছে। ময়দানে খেলোয়াড়দের মধ্যে ছিল সৌহার্দ্য। শচীন টেন্ডুলকারের হোটেল রুমের দরজার কড়া নেড়ে বসে যাওয়া যেত দীর্ঘ আলোচনায়।

ঘটনাটা ২০০৪ সালের। তখন ভারত ক্রিকেট দল বাংলাদেশে এসেছিল দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে। সেই সিরিজে বাংলাদেশ দলের অন্যতম প্রতিনিধি ছিলেন রাজিন সালেহ। ভীষণ ধুকছিলেন তিনি সেই সিরিজে। টেস্ট থেকে ওয়ানডে কোথাও তার ব্যাটে ছিল না হাসির উপস্থিতি।

ভারতীয় এক গণমাধ্যমে রাজিন সালেহ রোমন্থন করেছেন সেই স্মৃতি। তিনি বলেন, ‘ওই সিরিজে ব্যাট হাতে আমি ভীষণ সংগ্রাম করছিলাম। একটা টেস্ট ম্যাচে দুই ইনিংসেই শূন্য রান করি, এরপর ওয়ানডেতেও ভালো করতে পারিনি। প্রথম দুই ম্যাচে আমার রান ছিল ১৪ আর শূন্য।’

এরপর তিনি পরামর্শের জন্য কড়া নেড়েছিলেন দ্য লিটল মাস্টার খ্যাত শচীন টেন্ডুলকারের দরজায়। সে সম্পর্কে রাজিন বলেন, ‘আমি তখন মানসিকভাবে একেবারে ভেঙে পড়েছিলাম। মনোবল পুরোপুরি তলানিতে নেমে গিয়েছিল। ঠিক তখনই সৌরভ আর শচীনের সঙ্গে কথা বলার সিদ্ধান্ত নেই।’

রাজিনকে সেদিন সাদরে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন শচীন। এক বিস্তৃত হাসিতে রাজিনকে পরামর্শ দিয়েছিলেন তিনি। রাজিন বলেন, ‘তৃতীয় ওয়ানডের আগে আমি শচীনের দরজায় কড়া নাড়ি, তিনি আমাকে সাদরে গ্রহণ করেন। নিজের বাজে ফর্মের কথা ওনাকে বলি। তিনি হেসে কিছু টিপস দেন। ম্যাচের আগে মানসিকভাবে কীভাবে ফিট থাকতে হয়, সেটা বোঝান—আগের পারফরম্যান্স মাথা থেকে মুছে ফেলতে বলেন। তিনি বলেন, আউট হয়ে মাঠ ছাড়ার সময় ওই ইনিংসটা সেখানেই ফেলে আসবে, পরের ম্যাচে একেবারে নতুন করে শুরু করবে।’

তাদের সেই আলাপচারিতার মাঝে প্রবেশ করেন সৌরভ গাঙ্গুলিও। তিনি প্রথমে শচীনের দেওয়া পরামর্শ নিজে মনোযো দিয়ে শোনেন। এরপর তার অভিজ্ঞতার ঝুলি থেকে রাজিনকে দিয়েছিলেন পরামর্শ। সৌরভ বলেছিলেন নির্ভয়ে ব্যাট করতে। এরপরই গ্লানি সব পেছনে ফেলে রাজিন দারুণ এক পারফরমেন্স মঞ্চস্থ করেন সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডেতে।

এ নিয়ে রাজিন বলেন, ‘ঠিক সেই সময় গাঙ্গুলিও এসে প্রবেশ করেন এবং চুপচাপ বসে শচীন আমাকে কী বলছেন, তা শুনতে থাকেন। এরপর গাঙ্গুলি বলেন, বীরের মতো খেলো, যোদ্ধা হও’। তিনি আমাকে ক্রিজে ভয়ডরহীনভাবে ব্যাট করতে বলেন। কথাগুলো আমাকে ভীষণভাবে উজ্জীবিত করে তোলে। পরের ম্যাচেই ভারতের বিপক্ষে আমি ৮০ এর ঘরে রান করি। সেই ম্যাচে অজিত আগারকার, জাহির খান আর হরভজন সিংয়ের মতো বোলারদের বিপক্ষে রান তুলেছিলাম।’

ক্রিকেট ময়দান এভাবে এক সময় দূরত্ব ঘুচিয়েছে। অভিজ্ঞতার বিস্তৃতি ঘটিয়েছে। কিন্তু সময় বদলেছে। সবকিছুতেই এখন ঢুকে পড়ে তৃতীয় কোন অ্যাঙ্গেল। ক্রিকেট ময়দানে এখন আর শুধু ক্রিকেট হয় না, দাবার কোর্টের চাল চলে সর্বত্র।

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Share via
Copy link