উসমান তারিকের বোলিং অ্যাকশন কি বৈধ?

ক্রিকেটে ব্যতিক্রম অনেক কিছুই সামনে আসে প্রতিনিয়ত। কোনোটা চোখের জন্য তৃপ্তির, আবার কোনোটা একটু দৃষ্টিকটু। উসমান তারিকের বোলিং অ্যাকশন সেরকমই এক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। তাই তো প্রশ্ন আসে, কিছুটা বৈচিত্র্যময় হলেও তারিকের বোলিং অ্যাকশন আসলেই কি বৈধ? 

ক্রিকেটে ব্যতিক্রম অনেক কিছুই সামনে আসে প্রতিনিয়ত। কোনোটা চোখের জন্য তৃপ্তির, আবার কোনোটা একটু দৃষ্টিকটু। উসমান তারিকের বোলিং অ্যাকশন সেরকমই এক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। তাই তো প্রশ্ন আসে, কিছুটা বৈচিত্র্যময় হলেও তারিকের বোলিং অ্যাকশন আসলেই কি বৈধ?

ঘটনার সূত্রপাত পাকিস্তান-অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি। উসমান তারিকের বলে কাটা পড়েন  ক্যামেরন গ্রীন।  আউট হয়ে ড্রেসিংরুমে ফেরার পথে অস্ট্রেলিয়ান অলরাউন্ডার ক্যামেরন গ্রিনের ‘চাকিং’ ইঙ্গিত ধরা পড়ে ক্যামেরায়। ব্যস, তাতেই সোশ্যাল মিডিয়া থেকে ক্রিকেট মহল, সবখানে শুরু হয় তোলপাড়। প্রশ্ন উঠতে থাকে, উসমান তারিক কি সত্যিই নিয়ম ভেঙে বল করছেন?

এই বিতর্কে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেন ভারতের সাবেক আইসিসি প্যানেল আম্পায়ার অনিল চৌধুরী। অভিজ্ঞ এই আম্পায়ারের কণ্ঠে স্পষ্ট বার্তা, উসমান তারিকের বোলিং অ্যাকশন আইসিসির গাইডলাইনের মধ্যেই রয়েছে।

অনিল চৌধুরী জানান, তারিকের অ্যাকশন কিছুটা সাইড-অন এবং ডেলিভারির সময় সামান্য বিরতি থাকলেও মূল বিষয় হলো, তিনি প্রতিটি বল একইভাবে করেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক, হাতে কোনো বেন্ডিং ও স্ট্রেইটেনিং নেই, যা আইসিসির নিয়মের বাইরে যায়। তাই তার মতে, এই অ্যাকশন বৈধ, ফেয়ার এবং নিয়মসিদ্ধ।

তবে উসমান তারিকের জন্য বিতর্ক নতুন কিছু নয়। পাকিস্তান সুপার লিগে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে দু’বার আম্পায়ারদের রিপোর্টে পড়েছিলেন এই স্পিনার। কিন্তু সেখানেই থেমে যায়নি তার লড়াই। লাহোরের ন্যাশনাল ক্রিকেট একাডেমিতে দু’দফা বায়োমেকানিক্যাল পরীক্ষায় অংশ নেন তিনি। দুইবারই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ক্লিন চিট পান এবং পিএসএলে বোলিং চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি পান অনায়াসেই।

২০২৫ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক উসমান তারিকের। অল্প সময়েই নজর কেড়েছেন পারফরম্যান্সে, তিন ইনিংসেই নিয়েছেন আট উইকেট। অস্ট্রেলিয়া সিরিজে সেই ধারাবাহিকতারই ছাপ রেখেছেন। কিন্তু গ্রীনের ইঙ্গিত যেন সব আলো কেড়ে নেয়। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টা প্রতিক্রিয়াও দেন তারিক। ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে  একটি ব্যঙ্গাত্মক ভিডিও শেয়ার করে বুঝিয়ে দেন, তিনি এই অভিযোগকে খুব একটা পাত্তা দিচ্ছেন না।

উসমান তারিকের পাশে দাঁড়িয়েছেন সাবেক অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটার উসমান খাজাও। তাঁর মতে, ক্রিকেটে কাউকে ‘চাকার’ বলা মানে শুধুই একটি অভিযোগ নয়, এটি একজন খেলোয়াড়ের মানসিক শক্তির ওপর সরাসরি আঘাত। খাজা স্মরণ করিয়ে দেন, উসমান তারিককে একাধিকবার ক্লিয়ার করা হয়েছে, তবু বারবার সন্দেহের তীর ছোড়া হচ্ছে।

সবশেষে প্রশ্ন থেকেই যায়, ভিন্ন মানেই কি অবৈধ? নিয়মের কাগজে-কলমে যে আপাতত উসমান তারিক নির্দোষই আছেন।

লেখক পরিচিতি

প্রত্যয় হক কাব্য

স্বপ্ন লেখার কি-বোর্ড

Share via
Copy link