জন্টি রোডস, ইজ দ্যাট ইউ?

তানজিদের শটে যেমন ছিল আগ্রাসন, গ্যালারির সেই ক্যাচে ছিল সিনেম্যাটিক সৌন্দর্য্য। এই সৌর্ন্দয্যটাই তো ক্রিকেট!

স্ট্যান্ডে বসে কার সাথে যেন কথা বলছিলেন, বেরসিক বলটা এসে যেন বিরক্ত করল। ঝাঁপ দিয়ে ডান হাত দিয়ে ক্যাচ লুফে নিলেন, ফেরত পাঠালেন মাঠে। আবার ফোনে ব্যস্ত হয়ে গেলেন। ধারাভাষ্য থেকে কে যেন বললেন, ‘দ্য বেস্ট ক্যাচ অব দ্য ম্যাচ!’

ম্যাচের সেরা ক্যাচ তো বটেই, গোটা সিরিজেরও সেরা ক্যাচ এই লাল শার্ট পরা ভদ্রলোকই নিলেন কি না, সেটা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। জন্টি রোডস, ইজ দ্যাট ইউ?

শাদাব খান সম্ভবত গুগলি করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু, ফুল লেন্থ ডেলিভারিটা ছিল তানজিদ হাসান তামিমের জন্য এক উন্মুক্ত আমন্ত্রনপত্র। ঠিক যেন তামিম জুনিয়রের জন্য এক টেইলর মেইড ডেলিভারি। পুরো শরীর দিয়ে বল তিনি তুলে মারলেন লং অন দিয়ে, আকাশ ভেদ করে, গ্যালারির দিকে।

সেই বলের অপেক্ষায় কোনো ফিল্ডার ছিলেন না। বরং অপেক্ষায় ছিলেন কানে মুঠোফোন হাতে কথা বলতে থাকে এক যুবক। হাত বাড়িয়ে লুফে নিলেন। এক হাতে মোবাইল ফোন, অন্য হাতে বল! চোখে-মুখে বিন্দুমাত্র ঘাম নেই, ক্যামেরার সামনে যেন অনায়াস নায়ক তিনি। ক্রিকেট মাঠে এমন দৃশ্য রোজ রোজ দেখা যায় না!

তানজিদের শটে যেমন ছিল আগ্রাসন, গ্যালারির সেই ক্যাচে ছিল সিনেম্যাটিক সৌন্দর্য্য। এই সৌর্ন্দয্যটাই তো ক্রিকেট!

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Share via
Copy link