জয়ের ব্যাটে আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণ

প্রায় ২১০ স্ট্রাইকরেটের ইনিংসটিতে জয় স্পষ্ট বার্তা দিলেন, এনসিএল টি-টোয়েন্টিতে তার সেই আগ্রাসন মোটেও ফ্লুক ছিল না। নিজের নতুন আগ্রাসী সত্ত্বাকে পরিচয় করিয়ে দিতে চান তিনি।

বিস্ফোরণ হওয়া ছিল অবধারিত। মাহমুদুল হাসান জয়, সেই বিস্ফোরণ মঞ্চস্থ করলেন অবশেষে। ২১ বলে ৪৪ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলে গেলেন তিনি। তার সামনে সুযোগ ছিল, চলতি আসরে দ্রুততম হাফসেঞ্চুরি তুলে নেওয়ার। কিন্তু সেই সুযোগ হাতছাড়া করেন তিনি। তৌফিক খান তুষারের এক দুর্ধর্ষ ক্যাচে পরিসমাপ্তি ঘটে জয়ের আগ্রাসী ইনিংসের।

সর্বশেষ এনসিএল টি-টোয়েন্টি-তে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন মাহমুদুল হাসান জয়। টেস্ট ব্যাটারের তকমা ঝেড়ে ফেলে রীতিমত ঝড়ে গতিতে চলেছিল তার ব্যাট। প্রায় ১৫৫ স্ট্রাইকরেটে তিনি আদায় করেছিলেন ৩২৩ রান। গড় ছিল তার ৪৬। ধারাবাহিক আগ্রাসনের প্রতিমূর্তি হয়ে তিনি ১০৫ রানের ব্যবধানে বসে ছিলেন সবার উপরে।

সেই ব্যাটার বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের মঞ্চে নিজেকে প্রমাণে সুযোগটা ঠিক পাচ্ছিলেন না। সিলেট টাইটান্সের বিপক্ষে মারকুটে ইনিংস খেলার আগে, পাঁচ ম্যাচে স্রেফ তিনটি ইনিংসেই ব্যাট করার সুযোগ মিলেছিল তার। সেই তিনটি ইনিংসে তিনি ব্যর্থ হয়েছিলেন বটে। তবে চট্টগ্রাম রয়্যালসের বিশ্বাস ছিল তার প্রতি।

সেই বিশ্বাসের যথাযথ মর্যাদা রাখলেন তিনি। দলের পক্ষে ধারাবাহিকভাবে রান করে যাওয়া নাঈম শেখের বিদায়ের পর, দলের তৃতীয় ব্যাটার হিসেবে ব্যাটিং প্রান্তে এসেছিলেন জয়। এরপর রীতিমত টর্নেডো বয়ে গেল সিলেট টাইটান্সের বোলারদের উপর দিয়ে। অভিজ্ঞ ইংলিশ অলরাউন্ডার মঈন আলীকে চার হাঁকিয়ে নিজের আগ্রাসনের শুরুটা করেছিলেন জয়।

তার আগ্রাসনের রুদ্রমূর্তি থেকে বাদ যাননি আজমতউল্লাহ ওমরজাই কিংবা স্বদেশী রুয়েল মিয়া। সব মিলিয়ে চার খানা ছক্কা হাঁকিয়েছেন জয়। রুয়েল ও ওমরজাইকে পিকআপ শটে হাঁকানো ছক্কাগুলো ছিল দারুণ দৃষ্টিনন্দন। চারটি ছক্কা ছাড়াও আরও তিনটি চারের মার এসেছে জয়ের ব্যাট থেকে।

দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি কোন কিছু তোয়াক্কা না করে। কিন্তু রুয়েল মিয়াকে পরপর দুই বলে দুই ছক্কা হাঁকানোর পরের বলেই তাকে ফিরতে হয়েছে প্যাভিলিয়নে। এক্সট্রা কাভারে হাওয়ায় ভেসে দারুণ ক্যাচ লুফে নেন তৌফিক খান তুষার। এমন দুর্ধর্ষ ইনিংসের পরিসমাপ্তি ঘটাতে দুর্দান্ত কিছুই করতে হয়।

তবে প্রায় ২১০ স্ট্রাইকরেটের ইনিংসটিতে জয় স্পষ্ট বার্তা দিলেন, এনসিএল টি-টোয়েন্টিতে তার সেই আগ্রাসন মোটেও ফ্লুক ছিল না। নিজের নতুন আগ্রাসী সত্ত্বাকে পরিচয় করিয়ে দিতে চান তিনি। বিপিএলের শুরুতে ব্যর্থ হলেও, তিনি বাকিটা সময় রাঙিয়ে যেতে চান নিজস্ব রঙে। সুযোগ পেলেই ঘটবে আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণ।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link