কলকাতা নাইট রাইডার্স এবং ইডেন গার্ডেনস – এই দুটি নাম যেন আবেগের এক মহাকাব্য। তবে এই মহাকাব্যের শুরুর অধ্যায়গুলো মোটেও সুমধুর ছিল না। প্রথম তিন মৌসুমে কেকেআর ছিল দিকভ্রান্ত এক জাহাজের মতো। ২০০৮ সালে ব্রেন্ডন ম্যাককালামের সেই বিধ্বংসী ১৫৮ রানের ইনিংস দিয়ে যাত্রা শুরু হলেও, শেষটা হয়েছিল পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে।
২০০৯ এ গেইল-ম্যাককালামদের মতো দানবীয় ব্যাটারদের নিয়ে মাত্র তিনটি জয় কপালে জুটেছিল। সেই আসরে মাশরাফি বিন মুর্তজাও ছিলেন নাইট রাইডার্স শিবিরে। ২০১০ এ সৌরভ গাঙ্গুলীর শেষ মৌসুমে কিছুটা লড়াই করলেও রানরেটের মারপ্যাঁচে কপাল পোড়ে কলকাতার।
তবে ২০১১ সালে গৌতম গাম্ভীরের হাত ধরে এক নতুন ভোরের সূচনা হয়। সেই দলে ক্যালিস, ব্রেট লি কিংবা ইউসুফ পাঠানের মতো মহাতারকারা থাকলেও, নেপথ্যের কারিগর ছিলেন তুলনামূলক দুই ছোট দেশের বড় দুই তারকা। বাংলাদেশের সাকিব আল হাসান এবং নেদারল্যান্ডসের রায়ান টেন ডেসকাট।

২০১১ আইপিএল ছিল কেকেআরের ইতিহাসের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার বছর। প্রথমবারের মতো প্লে-অফের টিকিট পায় তারা। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিপক্ষে সেই হাই-ভোল্টেজ এলিমিনেটরের স্মৃতি আজও ভক্তদের মনে অম্লান। ২০ রানে চার উইকেট হারিয়ে যখন কলকাতার ইনিংস ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল, তখনই বুক চিতিয়ে লড়াই শুরু করেন ডাচ কিংবদন্তি টেন্ডো।
প্রথমে ইউসুফ পাঠানের সাথে ৬০ রানের জুটি এবং পরবর্তীতে সাকিবের সাথে ২৫ বলে ৪১ রানের এক ক্যামিও ইনিংস কলকাতাকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেয়। পুরো টুর্নামেন্টে সাকিবের ব্যাট কথা না বললেও, চাপের মুখে সাতে নেমে তার ১৬ বলে ২৬ রানের সেই লড়াকু ইনিংসটি ধারাভাষ্যকারদের প্রশংসা কুড়িয়েছিল। অন্যদিকে, টেন্ডো খেলেছিলেন ৪৯ বলে ৭০ রানের অপরাজিত এক কাব্যিক ইনিংস।
মুম্বাইয়ের এইডেন ব্লিজার্ড যখন ঝড় তুলছিলেন, মনে হচ্ছিল ম্যাচটা একপেশে হয়ে যাবে। কিন্তু ক্যালিস আর সাকিবের নিয়ন্ত্রিত বোলিং কলকাতাকে ম্যাচে ফিরিয়েছিল। যদিও শেষ রক্ষা হয়নি। চার বল বাকি থাকতেই জয় ছিনিয়ে নেয় মুম্বাই। তবে সেই পরাজয়ের মধ্যেও লুকিয়ে ছিল ২০১২ সালের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার বীজ।

আজ সময় বদলেছে। সেই রায়ান টেন ডেসকাট এখন ভারতের জাতীয় দলের সহকারী কোচ। কিন্তু স্মৃতির পাতার ধুলো ঝাড়লে আজও ভেসে ওঠে ২০১১ এর সেই দৃশ্যপট। সাকিব আর টেন্ডো – এই দুই নাম কেকেআর সমর্থকদের কাছে কেবল দুজন বিদেশি ক্রিকেটার নন, বরং তারা ছিলেন সেই বিশ্বাসের প্রতীক, যা একটি অগোছালো দলকে বড় স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছিল।











