লাউতারো জানেন কিভাবে নায়ক হতে হয়

তবু যখন আলো নিভে আসে, ম্যাচ যখন ‘বিগ ম্যাচ’ হয়, ইন্টার মিলানের দরকার পড়ে একজন নায়কের, পর্দায় ভেসে ওঠে একটাই নাম, লাউতারো।

লাউতারো মার্টিনেজ কি সময়ের সেরা খেলোয়াড়দের একজন? আড্ডার টেবিলে তো তাকে নিয়ে ঝড় ওঠে না। ব্যালন ডি’অরের শর্টলিস্টেও নাম খুব একটা ঘোরাফেরা করে না। কারণটা হয়তো সহজ—সে ইতালিতে খেলে। ক্যামেরার ফ্ল্যাশ পড়ে না বেশি, হেডলাইনও হয় না নিয়মিত।

তবু যখন আলো নিভে আসে, ম্যাচ যখন ‘বিগ ম্যাচ’ হয়, ইন্টার মিলানের দরকার পড়ে একজন নায়কের, পর্দায় ভেসে ওঠে একটাই নাম, লাউতারো।

বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগের রাতটা তার জন্যই লেখা। হ্যারি কেইনের গোলের পর সান সিরো স্তব্ধ, মানসপটে ভেসে ওঠা বায়ার্নের একের পর ক্যামব্যাকের ইতিহাস, শঙ্কার সাইরেন যেন একটু বেশিই তীব্র। তবে কি আবারও?

তখনই যেন চুপিচুপি নিজের গল্পটা লিখে ফেললেন। হেড থেকে বল ফিরে আসলো, সামনে কিমিখ, কিন্তু লাউতারো দাঁড়ালেন, তাকালেন, আর গোল করলেন—নিজের ১৫০তম গোল ইন্টার মিলানের জার্সিতে।

সেই গোল শুধু সমতা ফেরায়নি, বদলে দিয়েছে গতি, গড়েছে মোমেন্টাম। এগিয়ে দিয়েছে অ্যাগ্রিগেট স্কোরে। তারপর পাভার্ডের হেড, ইন্টার এগিয়ে যায় ৪-২ অ্যাগ্রিগেট স্কোরে। বায়ার্ন এরপর চেষ্টা চালিয়েছে, কেইন, মুলার, ডায়ার—কিন্তু ইয়ান সমার আর ইন্টারের রক্ষণ জানে কীভাবে লড়তে হয়।

ডায়ার একটা গোল শোধও করেছে, ম্যাচের ফলাফল বলবে ২-২ গোলে ম্যাচ ড্র। পার্থক্য গড়ে দিয়েছে দিন কয়েক আগের প্রথম লেগ। পার্থক্য গড়ে দিয়েছেন লাউতারো, সেদিনও।

এই ম্যাচ দিয়েই ইতিহাসে নাম লিখিয়েছেন লাউতারো। চ্যাম্পিয়নস লিগে ইন্টার মিলানের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে টানা পাঁচ ম্যাচে গোল।

লাউতারো হয়তো বিশ্ব ফুটবলের পোস্টার বয় না, তবু সে জানে — মঞ্চ যত বড়ই হোক, নায়ক হতে হলে হেডলাইন লাগে না। লড়াই করার সাহস লাগে, পার্থক্য গড়ে দেয়ার ইচ্ছা লাগে, আর লাগে পারফর্ম্যান্স।

Share via
Copy link