তিলকারত্নে পরিবারের নতুন রত্ন লিমানসা

ক্রিকেটার বাবার পথ অনুসরণ করে ক্রিকেটকে আকড়ে ধরার উদাহরণ একেবারে নেই বললেই চলে। তিলকারত্নে পরিবার অন্তত সেই ধারার এক নতুন দুয়ার খুলে দিলেন। 

পাল্লু স্কুপের কথা মনে আছে? তিলকারত্নে দিলশানের সিগনেচার শট ছিল সেটি। প্রসিদ্ধ নাম ছিল দিলস্কুপ। একটা প্রজন্মের কাছে দিলশান ছিলেন মারকাটারি ব্যাটিংয়ের দেবদূত। সেই দিলশানের লিগ্যাসি নিয়ে ক্রিকেট দুনিয়ায় পদার্পণ করেছেন তার কন্যা লিমানসা তিলকারত্নে।

বাবার পদচিহ্ন ধরে ক্রিকেট ময়দানে এসেছেন এমন বহু ছেলে ক্রিকেটারকে খুঁজে পাওয়া যাবে। কিন্তু ক্রিকেটার বাবার পথ অনুসরণ করে ক্রিকেটকে আকড়ে ধরার উদাহরণ একেবারে নেই বললেই চলে। তিলকারত্নে পরিবার অন্তত সেই ধারার এক নতুন দুয়ার খুলে দিলেন।

ইতোমধ্যে শ্রীলঙ্কার যুব পর্যায়ে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টও খেলে ফেলেছেন লিমানসা। যুব নারী দলের হয়ে বিশ্বকাপে প্রতিনিধিত্ব করেছেন তিনি লংকানদের। এই তো কিছুদিন আগে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সেঞ্চুরিও হাঁকিয়েছেন লিমানসা। বাবাকে দিয়েছেন সেই সেঞ্চুরির সকল প্রশংসা।

১৬ বছর পেরিয়ে ১৭ বছরের দিকে অগ্রসর হচ্ছেন লিমানসা। এখনও অনেকটা পথ পাড়ি দেওয়া বাকি। সম্ভাবনার একটা প্রদীপ অবশ্য জ্বেলেছেন তিনি। বাবর মতই হয়েছেন অলরাউন্ডার। ব্যাটে-বলে সমানতালে পারফরম করতে শিখছেন।

বয়স তো অল্প, জানার বা শেখার এখনও অঢেল সময় তার হাতে রয়েছে। অলরাউন্ডার হওয়ার চাপটা শুষে নিতে হবে তাকে। যদিও ঘরেই তো আছেন বিশ্বমানের ক্রিকেটার। বিশ্ব ক্রিকেটের দুনিয়ায় শ্রীলঙ্কার স্বর্ণালী দিনের সারথি ছিলেন তিরাকারত্নে দিলশান। তার থেকে ভাল মেন্টর লিমানসার জন্যে আর কেই বা হতে পারেন?

বাবা যদিও ছিলেন ডানহাতি ব্যাটার। লিমানসা ব্যাট করেন বা-হাতে। কিন্তু বল ছোড়েন ওই ডানহাতেই। লিমানসার অগ্রগতির সমস্ত যাত্রা নিজে তদারকি করেন দিলশান। মেয়েকে কালজয়ী একজন অলরাউন্ডার বানানোর সুযোগ হাতছাড়া করতে চান না।

বাবার স্বপ্ন ছেলে পূরণ করে- এমন ঘটনা অহরহ রয়েছে। দিলশানের ক্রিকেট জীবনে নিশ্চয়ই তেমন কোন অপূর্ণ স্বপ্ন নেই। মনের কোণে ওয়ানডে বিশ্বকাপ জিততে না পারার আক্ষেপ নিশ্চয়ই ঘর বেঁধেছে। মেয়েকে হয়ত সেজন্যেই প্রস্তুত করছেন লংকান এই কিংবদন্তি।

প্রত্যাশার চাপকে পাশ কাটিয়ে উজ্জ্বল এক ক্যারিয়ার গড়া লিমানসার প্রধান লক্ষ্য। বাবার মত নয় কিংবা বাবাকে ছাপিয়ে যাওয়ার জন্যে নয়, নিজের জন্যেই খেলতে হবে লিমানসাকে। বাবা যেই উচ্চতায় থেকে ক্রিকেটকে বিদায় নিয়েছেন, সে উচ্চতার দিকে তাকিয়ে হাটলে বরং হোঁচট খেতে হবে। মেয়েকে নিশ্চয়ই হোঁচট খেতে দেবেন না দিলশান।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link