মেসির চোখে বিতর্ক নয়, অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের গল্প

ম্যাচ শেষে মেসি বলেন, ‘আমরা আবারও অনেক কষ্ট করেছি। কিন্তু এটাই বিশ্বকাপ। প্রতিটি ম্যাচই এমন কঠিন, কারণ সব দলই খুব কাছাকাছি মানের।’

মিশরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার নাটকীয় জয়ে রেফারিং নিয়ে জল ঘোলা হচ্ছে। যদিও, সেদিকে নজর দিতে চাননি লিওনেল মেসি। ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনা অধিনায়ক জানিয়ে দিয়েছেন, তার কাছে এই ম্যাচের সবচেয়ে বড় গল্প হলো দলের অবিশ্বাস্য লড়াই এবং অসম্ভব প্রত্যাবর্তন।

শেষ বাঁশি বাজার পর আবেগে ভেঙে পড়েন মেসি। চোখের জলেই যেন ফুটে ওঠে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার আনন্দ।

ম্যাচ শেষে মেসি বলেন, ‘আমরা আবারও অনেক কষ্ট করেছি। কিন্তু এটাই বিশ্বকাপ। প্রতিটি ম্যাচই এমন কঠিন, কারণ সব দলই খুব কাছাকাছি মানের।’

ম্যাচের ৭৯ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে ছিল আর্জেন্টিনা। বিদায়ের শঙ্কা যখন তীব্র, ঠিক তখনই জয়ের পথে ফেরান মেসি। তার করা ২-২ সমতার গোলই দলের প্রত্যাবর্তনের ভিত্তি গড়ে দেয়। শেষ পর্যন্ত নাটকীয়ভাবে ৩-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

প্রত্যাবর্তনের অনুভূতি নিয়ে মেসি বলেন, ‘২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার পর ম্যাচটা খুব কঠিন হয়ে গিয়েছিল। সেখান থেকে ফিরে আসাটা ছিল ভীষণ আবেগের। দুই গোলে পিছিয়ে থেকে ঘুরে দাঁড়ানো সহজ নয়। কিন্তু এই দল কখনও হাল ছাড়ে না। আমরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করে যাই।’

ম্যাচের প্রথমার্ধে একটি পেনাল্টি মিস করলেও পরে গুরুত্বপূর্ণ সমতার গোল করেন মেসি। সেই গোলের মাধ্যমে ২০২৬ বিশ্বকাপে তার গোলসংখ্যা দাঁড়ায় আট, যা তাকে এককভাবে আবারও টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসিয়েছে। দলের প্রশংসা করে মেসি বলেন, ‘নকআউট ম্যাচে আজ এই দল যা করেছে, সেটা অবিশ্বাস্য।

এর আগের রাউন্ডেও কেপ ভার্দের বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছিলেন মেসি। সেই ম্যাচে প্রথম গোল করে অতিরিক্ত সময়ে ৩-২ ব্যবধানে জয় পেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।

৩৯তম জন্মদিন উদযাপনের কয়েক দিনের মধ্যেই আবারও পুরো ৯০ মিনিট খেললেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। আরও একবার দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের নায়ক হয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখলেন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই তারকা। আরেকটি বিশ্ব শিরোপা থেকে এখন মাত্র তিন ম্যাচের দূরত্বে দাঁড়িয়ে লিওনেল মেসিরা।

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Share via
Copy link