উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের রাতগুলো যেখানে নিত্যনৈমিত্তিক ভাবেই লিভারপুলের রঙে রঙিন থাকে। অ্যানফিল্ড মানেই যেখানে ইউরোপের বড় বড় দল গুলোর কাছেও ডেঞ্জার জোন। এবারের মৌসুমে যেন পরিলক্ষিত হচ্ছে ঠিক তার বিপরীত চিত্র। যারই আংশিক প্রতিফলন হলো পিএসভি আইন্দহোভেনের কাছে ঘরের মাঠে ৪-১ গোলে লজ্জাজনক পরাজয়।
গত ১২ ম্যাচে ৯ টি হার- স্মরণকালেও লিভারপুলের সমর্থকরা এমন পরিসংখ্যানের সম্মুখীন হন নি। পরপর বড় ব্যবধানে পরাজয়, তিন ম্যাচে তিন বা তার বেশি গোল হজম, এ লিভারপুল যেন কল্পনাতীত।
লিভারপুলের সাম্প্রতিক সব পরাজয়ের কারণ বিশ্লেষণে মিলবে গোড়ায় গলদ। অলরেডদের রক্ষণে সমন্বয়হীনতা অভাব দিনের আলোর মত স্পষ্ট। ভ্যান ডাইকের ভুল সিদ্ধান্ত, ইব্রাহিমা কোনাতের পজিশনিং দূর্বলতা। পুরো ব্যাকলাইন জুড়ে যোগাযোগের ঘাটতি। ফুটবলে এসব ভুল মানেই প্রতিপক্ষকে সুযোগ করে দেওয়া।

সাম্প্রতিক সময়ে লিভারপুলের স্কোয়াডকে শক্তিশালী করতে বড় অঙ্কের টাকা ব্যয় করা হয়েছে। আলেকজান্ডার ইসাকের মতো তারকা স্ট্রাইকারকে ভেড়ানো হয়েছে দলে। কিন্তু চোট, ফিটনেস কিংবা ফর্ম সবকিছু মিলিয়ে প্রত্যাশা আর বাস্তবতা যেন একদম দুই মেরুতে। এদিকে নতুন সাইনিং ফ্লোরিয়ান ভার্টজ চোটে পড়ায় মিডফিল্ডের সৃজনশীলতা আরও কমে গেছে।
খেলোয়াড়দের মান নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ করার অবকাশ না থাকলেও তাদের নিয়ে সাজানো পরিকল্পনার ঘাটতি একদম স্পষ্ট। এ ডাউনফল শুধু কৌশলে নয় মনোবলেও প্রভাব ফেলেছে। ম্যাচ শেষে দলীয় অনেক খেলোয়াড় প্রকাশ্যে হতাশা জানিয়েছেন। মাঠে শরীরী ভাষা, ম্যাচে গতিপ্রকৃতি বদলানোর তাগিদ – কোথাও যেন নেই আগের সে ছন্দ। নেতৃত্ব নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন।
কোচ আর্নে স্লট স্বাভাবিকভাবেই ভীষণ চাপের মুখে। মিডিয়া, দর্শক, বোর্ড সবারই প্রশ্নের তীর তাঁর দিকে। স্লট নিজে অবশ্য বলেছেন, ‘এই পারফরম্যান্স আমাদের কাউকেই সন্তুষ্ট করতে পারছে না। তবে আমরা লড়াই চালিয়ে যাবো।’ তবে বাস্তবতা হলো এ পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন না হলে তার অবস্থান নিয়ে আলোচনা আরও বাড়বে বৈকি কমবে না।

এই পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ পেতে প্রয়োজন অতি দ্রুত রক্ষণভাগ পুনর্গঠন ও সমন্বয় ফিরিয়ে আনা। ট্যাকটিক্যাল সিস্টেমে পরিবর্তন নিয়ে আসার তাগিদও নিশ্চয়ই অনুভব করছেন আর্নে স্লট। দলের ভেতর আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনা এবং ফিটনেস-রিকভারি সিস্টেম শক্তিশালী করাও আবশ্যক। অন্যথায় এই মৌসুম হতে যাচ্ছে লিভারপুলের সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে হতাশজনক অধ্যায়।










