ক্লুইভার্টের স্মৃতি ফেরার ম্যাচে বিপর্যস্ত ইউনাইটেড

শুরুটা করেছিলেন ডিন হুইজসেন, রায়ান ক্রিস্টির সেটপিস থেকে হেডারে বল জালে জড়ান তিনি। ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে স্বাগতিকদের নাকের জল চোখের জল এক হয়ে যাবে সেটা তখনই বোঝা গিয়েছিল। দ্বিতীয়ার্ধেই স্পষ্ট হয়ে যায় সেটা, ক্লুইভার্টের সফল পেনাল্টির পরপরই আঘাত হানেন অ্যান্টনি সেমেন্যো। 

প্যাট্রিক ক্লুইভার্ট, কিংবদন্তি স্ট্রাইকার। কত শতবার প্রতিপক্ষের বুক চিরে গোল উদযাপনে মেতেছেন তিনি তার ইয়াত্তা নেই। নিজে মাঠে দাপট দেখিয়েই তুষ্ট হননি অবশ্য, চার ছেলের প্রত্যেককেই গড়ে তুলেছেন ফুটবলার হিসেবে। তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচিত নাম জাস্টিন ক্লুইভার্ট, বোর্নমাউথের এই ফরোয়ার্ড সবশেষ ম্যাচে বনে গিয়েছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হন্তারক।

তখন এক গোলে পিছিয়ে রেড ডেভিলরা, ব্যবধান দ্বিগুণ করতে ডি বক্সে ঢুকে পড়েন ক্লুইভার্ট। তাঁকে থামাতে গিয়ে ফাউল করে বসেন মাজরাউই – ফলাফল, পেনাল্টি। তিনি নিজেই স্পট কিক থেকে দলকে এগিয়ে দিয়েছেন, গোলরক্ষককে বোকা বানিয়ে পাঠিয়েছিলেন উল্টো দিকে।

এই নিয়ে চলতি প্রিমিয়ার লিগে ছয় গোল করেছেন এই ডাচ তারকা; সেই সাথে দুইটা অ্যাসিস্টও আছে তাঁর নামের পাশে। লিগে বোর্নমাউথ যে চমক দেখিয়ে চলছে সেখানে তিনি নিঃসন্দেহে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখা সদস্যদের একজন।

ম্যানচেস্টার ডার্বিতে জয়ের স্বাদই ভুলে গিয়েছিল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। তবে নগর প্রতিদ্বন্দ্বীদের দুরাবস্থার সুবাদে অবশেষে আরাধ্য সেই স্বাদ পায় তাঁরা। কিন্তু সেটস বোধহয় একটু বেশিই আত্মবিশ্বাসী করে ফেলেছে তাঁদের। আর অতি-আত্মবিশ্বাস ডেকে এনেছে পতন। একেবারে স্বর্গ থেকে রেড ডেভিলদের মাটিতে নামিয়ে এনেছে বোর্নমাউথ। ম্যাচে লড়াই করা তো দূরে, রেড ডেভিলরা এদিন দাঁড়াতেই পারেনি।

শুরুটা করেছিলেন ডিন হুইজসেন, রায়ান ক্রিস্টির সেটপিস থেকে হেডারে বল জালে জড়ান তিনি। ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে স্বাগতিকদের নাকের জল চোখের জল এক হয়ে যাবে সেটা তখনই বোঝা গিয়েছিল। দ্বিতীয়ার্ধেই স্পষ্ট হয়ে যায় সেটা, ক্লুইভার্টের সফল পেনাল্টির পরপরই আঘাত হানেন অ্যান্টনি সেমেন্যো।

রুবেন আমরিমের আগমনের পর, ডার্বিতে সিটিজেনদের হারানোর পর ইউনাইটেডবাসী যে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিল সেটা রীতিমতো ভূলুণ্ঠিত হলো – কোচ নয় বরং ক্লাব পুরোটাই একটা সমস্যা সেটাই স্পষ্ট হলো। এমন কঠিন বিপর্যয় থেকে কিভাবে উঠে আসবে তাঁরা সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Share via
Copy link