মারিয়া কোনো দিনও অ্যাটলেটিকোর অ্যাঞ্জেল নন!

সব মিলিয়ে অ্যাটলেটিকোর বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে তিন ম্যাচ খেলেছেন। সেখানে দু’টো গোল আর একটা অ্যাসিস্ট তাঁর। দু’টো গোলের মাঝে দশ বছরের ব্যবধান। না, মারিয়া বদলাননি এক বিন্দুও।

ডি মারিয়া হলেন ফুটবলের অ্যাঞ্জেল। সেটা তিনি রিয়াল মাদ্রিদে থাকুন কিংবা বেনফিকায়। তবে, অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের কোনো ভাবেই তাঁকে অ্যাঞ্জেল ভাবার কোনো কারণ নেই। কারণ, এই উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচে বারবারই তিনি অ্যাটলেটিকোকে কুপোকাত করার ওস্তাদ।

অঘটন কিংবা চমকপ্রদ সব ফলাফলের রাতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচে ৪-০ গোলে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদকে উড়িয়ে দিয়েছে পর্তুগিজ ক্লাব বেনফিকা। ম্যাচে গোল পেয়েছেন আর্জেন্টাইন বিশ্বকাপজয়ী তারকা অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া। তিনি ও তাঁর দল আক্ষরিক অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদকে উড়িয়ে দিয়েছে।

অপ্রত্যাশিতভাবেই স্পেনের ক্লাবটিকে পর্যুদস্ত করল অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়ার দল। ম্যাচের ১২ মিনিটে আকটুরকোগলুর গোলে এগিয়ে যায় বেনফিকা। ৫২ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ডি মারিয়া। ৭৫ মিনিটে তৃতীয় গোলটি করেন অ্যালেক্সান্ডার বাহ। ৮৪ মিনিটে ওর্কুন কোচু পেনাল্টি থেকে গোল করে বেনফিকার ৪-০ গোলে জয় নিশ্চিত করেন।

এ জয়ে পয়েন্ট তালিকায় তিনে উঠে এলো বেনফিকা। তবে, জয় ছাপিয়ে নায়ক ডি মারিয়া। খুব বেশিদিন হয়নি তিনি আন্তর্জাতিক ফুবলকে বিদায় জানিয়েছেন। তবে, বিশ্বকাপ জয়ী এই ফুটবলারের ফর্মে যে সেকালের হারানো ছোঁয়া আজও আছে সেটা টের পাওয়া গেল স্প্যানিশ জায়ান্টদের বিপক্ষে তাঁর পারফরম্যান্সেই।

সব মিলিয়ে অ্যাটলেটিকোর বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে তিন ম্যাচ খেলেছেন। সেখানে দু’টো গোল আর একটা অ্যাসিস্ট তাঁর। দু’টো গোলের মাঝে দশ বছরের ব্যবধান। না, মারিয়া বদলাননি এক বিন্দুও।

ডি মারিয়া বেনফিকার সঙ্গে আরও চুক্তির মেয়াদ বাড়াচ্ছেন বলেই শোনা গিয়েছিল ক’দিন আগে। সেটা হলে ২০২৫ নাগাদ পর্তুগিজ ক্লাবটিতে দেখা যাবে তাঁকে। এরপর তিনি ফিরতে পারেন তাঁর নিজের দেশ আর্জেন্টিনার ঘরোয়া ফুটবলকে। স্বদেশী দর্শকদের হাত নাড়িয়ে ফুটবল ক্যারিয়ারকে বিদায় জানানোর সৌভাগ্য ক’জনারই বা হয়।

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Share via
Copy link