মার্ক ভারমিউলেনের ট্র্যাজিক মহাকাব্য

জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটে মার্ক ভারমিউলেন ছিলেন এক উজ্জ্বল সম্ভাবনা, যার ব্যাটে ছিল সাহসের কারুকাজ। কিন্তু এক মেঘলা দুপুরে ধেয়ে আসা এক মরণঘাতী বাউন্সার যেন সব হিসেব ওলটপালট করে দিল। যে ২২ গজ তাকে দুহাত ভরে দিতে পারত বসন্তের সুবাস, সেই মাটিই তার জীবনের জন্য হয়ে উঠল এক বিষাক্ত কন্টকশয্যা।

নিয়তির লিখন বোধহয় এমনই – কখনও তা রাজমুকুট পরায়, আবার কখনও ছিঁড়ে ফেলে জীবনের সমস্ত পাণ্ডুলিপি। জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটে মার্ক ভারমিউলেন ছিলেন এক উজ্জ্বল সম্ভাবনা, যার ব্যাটে ছিল সাহসের কারুকাজ। কিন্তু এক মেঘলা দুপুরে ধেয়ে আসা এক মরণঘাতী বাউন্সার যেন সব হিসেব ওলটপালট করে দিল। যে ২২ গজ তাকে দুহাত ভরে দিতে পারত বসন্তের সুবাস, সেই মাটিই তার জীবনের জন্য হয়ে উঠল এক বিষাক্ত কন্টকশয্যা।

ক্রিকেটটাকে বড্ড ভালোবাসতেন তিনি। ক্রিকেটকে আগলে রেখে আর আট-দশটা খেলোয়াড়ের মতো স্বাভাবিকভাবেই চলছিল তাঁর জীবন। সেই ক্রিকেটটাই যেন পরবর্তীতে ভারমিউলিনের জন্য কাল হয়ে দাঁড়াল। ২০০৪ সালে ভারতের বিপক্ষে এক ম্যাচে ইরফান পাঠানের একটি বুলেট গতির বাউন্সার চূর্ণবিচূর্ণ করে দিয়েছিল ভারমিউলেনের স্বাভাবিক জীবন।

খুলি আর মস্তিষ্কের ব্যবধান যেখানে মাত্র ৫.৭ মিলিমিটার, সেখানে ৪ মিলিমিটার গভীর ক্ষত নিয়ে মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরেছিলেন তিনি। ডাক্তাররা খেলা ছাড়ার নির্দেশ দিলেও ক্রিকেটের নেশা তাঁকে আবার মাঠে ফেরায়, কিন্তু সেই ফেরা আর সুখকর হয়নি।

মস্তিষ্কের সেই চোট ভারমিউলেনের স্বভাবে এনেছিল আমূল পরিবর্তন। মানসিক অস্থিরতা থেকে কখনো গ্যালারিতে বল ছুড়ে মারা, আবার কখনো জিম্বাবুয়ের টেস্ট স্ট্যাটাস হারানোর শোকে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবের প্রাসাদে হানা দেওয়া – সবই ছিল সেই মানসিক যন্ত্রণার বহিঃপ্রকাশ।

এমনকি ক্রিকেটের প্রতি এক অদ্ভুত আক্রোশে তিনি আগুন ধরিয়ে দিয়েছিলেন জিম্বাবুয়ের ক্রিকেট একাডেমি ও হারারে স্পোর্টস ক্লাবের প্যাভিলিয়নে। কারাবাস আর আইনি লড়াই শেষে প্রমাণিত হয়, এসবই ছিল তাঁর মস্তিষ্কের ‘ডান হেমিস্ফিয়ারের’ সেই পুরনো ক্ষতের প্রভাব।

লম্বা বিরতির পর ২০১৪ সালে শেষবার টেস্ট দলে ফিরলেও বর্ণবাদী মন্তব্যের দায়ে আবারও নিষিদ্ধ হন তিনি। ৬,৫০০-র বেশি প্রথম শ্রেণির রান আর লড়াকু মেজাজ থাকা সত্ত্বেও ভারমিউলেনের ক্যারিয়ার শেষ হয় একরাশ বিষণ্ণতায়।

আজকের ভারমিউলেন দক্ষিণ আফ্রিকার কোনো এক নিভৃত স্কুলের সবুজ চত্বরে শিশুদের ক্রিকেট ব্যাকরণ শেখান। যে ক্রিকেট তাঁকে পুড়িয়ে ছারখার করেছে, আজ সেই ক্রিকেটের ধ্বংসস্তূপ থেকেই তিনি কুড়িয়ে নিচ্ছেন বেঁচে থাকার নতুন রসদ।

লেখক পরিচিতি

ক্রীড়াচর্চা হোক কাব্য-কথায়!

Share via
Copy link