মাস্টারক্লাস মুস্তাফিজ!

যেন নিখুঁত পরিকল্পনা আর কব্জির কারুকার্যে এক মরণ ফাঁদ তৈরি করেছিলেন, সেই পাতা ফাঁদেই পা দিয়ে কুপোকাত হয়েছেন ইরফান খান নিয়াজি। মুস্তাফিজ কেন বিশ্বসেরা সেটা প্রমাণের জন্য তাঁর এক স্পেলই যে যথেষ্ট। 

মুস্তাফিজুর রহমানের মাস্টারক্লাস বোলিং দেখল পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল)। যেমন কৃপণ তেমনই ভয়ঙ্কর এই কাটার মাস্টার। যেন নিখুঁত পরিকল্পনা আর কব্জির কারুকার্যে এক মরণ ফাঁদ তৈরি করেছিলেন, সেই পাতা ফাঁদেই পা দিয়ে কুপোকাত হয়েছেন ইরফান খান নিয়াজি। মুস্তাফিজ কেন বিশ্বসেরা সেটা প্রমাণের জন্য তাঁর এক স্পেলই যে যথেষ্ট।

ছোট মাঠ, ব্যাটিংয়ের জন্য আদর্শ উইকেট, এমন পরিস্থিতিতেও শুরু থেকেই একেবারে পরিকল্পিত বোলিং করেছেন মুস্তাফিজ। ইচ্ছে করেই ফুল লেংথ এড়িয়ে গেছেন, যাতে ব্যাটাররা হাত খোলার কোনো সুযোগ না পায়। ধারাবাহিকভাবে হার্ড লেংথে বল করেছেন, শরীর লক্ষ্য করে অস্বস্তিকর লাইনে বল ফেলেছেন। এর সঙ্গে যোগ করেছেন গতি পরিবর্তন। কখনো স্লোয়ার, কখনো কাটার, যার কোনো জবাব ছিল না ব্যাটারদের কাছে।

ফলে ব্যাটাররা ক্রিজে দাঁড়িয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে খেলতে পারেনি এবং রান তুলতে গিয়ে বাধ্য হয়েছে নতুন কিছু চেষ্টা করতে। মূলত এই চাপ তৈরি করেই তিনি তার ফাঁদ তৈরি করেছেন, যেখানে ব্যাটারদের ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে এসে শট খেলতে বাধ্য করা হচ্ছিল।

এই পরিকল্পনারই শিকার হন নিয়াজি। ক্রমাগত চাপের মুখে তিনি ক্রিজ ছেড়ে এগিয়ে আসেন, রান তোলার চেষ্টা করেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই মুস্তাফিজ স্লোয়ার কাটার করেন। লেংথ একই থাকলেও গতি কম থাকায় নিয়াজি বলটাকে বুঝে উঠতে পারেননি। ফলাফল, মুস্তাফিজের শিকার হয়ে সাজঘরে ফিরেছেন।

লাহোর কালান্দার্স অবশ্য আগে থেকেই চাপে রেখেছিল হায়দ্রাবাদ কিংসম্যানকে। মুস্তাফিজ এসে সেই চাপটাকে আরও দ্বিগুণ করে তুলেছিলেন। প্রথম ওভারে মোটে চার রান খরচা, দ্বিতীয় ওভারেও একই ধারা। মাত্র পাঁচ রান দিয়েই এক শিকার। ওখানেই মানসিক ধাক্কা খায় কিংসম্যানের ব্যাটাররা, যেটা আর সামলে নিতে পারেনি শেষ পর্যন্ত। ফলাফল, অভিষেক মঞ্চে লাহোরের কাছে হারতে হয়েছে ৬৯ রানের ব্যবধানে।

চার ওভারে মাত্র  ১৯ রান খরচা করে এক শিকার ঝুলিতে পুরেছেন। যেন টিপিক্যাল ফিজের স্বভাবসুলভ একটা দিন। একেবারে পরিপূর্ণ র্ডিফেন্সিভ বোলিং মাস্টারক্লাস।

লেখক পরিচিতি

প্রত্যয় হক কাব্য

স্বপ্ন লেখার কি-বোর্ড

Share via
Copy link