অবিশ্বাস্য এক ওভারে তিন ওয়াইড, তিন উইকেট

সাগরিকার বুকে অবিশ্বাস্য একটা ওভারই করে গেলেন ম্যাথু হামফ্রিস। বাংলাদেশের সমস্ত প্রতিরোধ এক লহমায় চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিলেন আইরিশ স্পিনার।

এক ওভারে তিন ওয়াইড, তিন উইকেট। বল ছোড়া হল সব মিলিয়ে মোট নয়বার। সাগরিকার বুকে অবিশ্বাস্য একটা ওভারই করে গেলেন ম্যাথু হামফ্রিস। বাংলাদেশের সমস্ত প্রতিরোধ এক লহমায় চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিলেন আইরিশ স্পিনার।

ইনিংসের ১৩ তম ওভার। ৫ রানে ৩ উইকেট হারানো বাংলাদেশ তখনও ম্যাচে ফেরার সংগ্রাম করে যাচ্ছে। কিন্তু হামফ্রিসের ছিল ভিন্ন পরিকল্পনা। চট্টগ্রামের সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি জিতেছিল আয়ারল্যান্ড। সেই ধারা তিনি অব্যাহত রাখতে চাইলেন। দ্রুতই সমস্ত চাপ কমিয়ে জয়ের পথকে মসৃণ করতে চাইলেন।

তাইতো ১৩ তম ওভারে বল হাতে এসেই তিনি তুলে নেন তানজিম হাসান সাকিবের উইকেট। বাউন্ডারির আশায় শট চালিয়ে লং অনে কাঁটা পড়েন সাকিব। হ্যারি টেক্টর লুফে নেন ক্যাচ। তখনও আন্দাজ পাওয়া যায়নি হামফ্রিসের পরিকল্পনা ঠিক কি। এরপর ব্যাটিং প্রান্তে এলেন রিশাদ হোসেন।

তার হিটিং জোনে বল পেলে সেই বলকে স্টেডিয়াম ছাড়ার ক্ষমতা রাখেন রিশাদ হোসেন। সেটা বেশ ভালভাবেই জানা ছিল হামফ্রিসের। বোঝাই যাচ্ছিল পড়াশুনা করেই তিনি হাজির হয়েছিলেন বাংলাদেশের বিরুদ্ধে। রিশাদকে খানিকটা ধোঁয়াশার মধ্যে ফেলে দিতে চাইলেন হামফ্রিস।

অফ স্ট্যাম্পের বেশ খানিকটা বাইরে দু’টো ওয়াইড বল করলেন হামফ্রিস। এরপরের বলটাও করলেন অফ স্ট্যাম্পের বাইরের করিডোরে। কাভারে ঠেলে দিয়ে কোন রান নিতে পারলেন না রিশাদ। এর পরের বলেই মূলত স্ট্যাম্প চ্যানেলে করেছিলেন হামফ্রিস, লেফ বিফোরের ফাঁদে ফেলার উদ্দেশ্যে। কিন্তু সফল হলেন না, উল্টো আরও একটি ওয়াইডে পরিণত হল সেই বলটি।

এরপরের বল তিনি ঠিকই করলেন স্ট্যাম্প চ্যানেলে। ততক্ষণে দ্বিধার রাজ্যে ঘুরপাক খাচ্ছেন রিশাদ। হামফ্রিসের ছোড়া সপ্তম বলে এলো সফলতা। ওই অফ স্ট্যাম্প চ্যানেলের একটা আর্ম বলে কুপোকাত রিশাদ হোসেন। আউট হলেন লেগ বিফোরে। ঠিক যেন টেস্টের মত ব্যাটারকে ফাঁদে ফেলে আউট করলেন হামফ্রিস।

এরপরের বলে স্বাভাবিকভাবে পালটা আক্রমণ করতে চাইবে নাসুম আহমেদ। তাইতো লেফ স্ট্যাম্পের খানিকটা বাইরের বোলারদের জন্য ছাড় দেওয়া লাইনটা ধরে বল করলেন হামফ্রিস। ব্যালেন্স হারিয়ে ফেলেন নাসুম। দ্রুততার সাথে তাকে স্ট্যাম্পিং আউট করেন উইকেটরক্ষক লরকান টাকার।

সেটি ছিল হামফ্রিসের ছোড়া অষ্টম বল। নবম বলে হ্যাটট্রিকের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে। কোন মতে তার হ্যাটট্রিকের সুযোগ নস্যাৎ করে দেন শরিফুল ইসলাম। নয়টা বল ছুড়ে, তিনটি উইকেট নিজের পকেটে -পুরে ফেলেন ম্যাথু হামফ্রিস। রান দেন মোটে তিনটি, তাও তিনটি ওয়াইড থেকে।

এদিন চার ওভারে স্রেফ ১৩ রান খরচা করেন হামফ্রিস। উইকেট নিয়েছেন তিনি চারটি। ব্যাটারদের ছুড়ে দেওয়া ১৮২ রানের লক্ষ্যকে বাংলাদশের জন্য এভারেস্টের মত বিশাল বানিয়ে দেন মূলত আইরিশ এই বা-হাতি স্পিনার। যার সূচনা তিনি করেছিলেন ইনিংসের প্রথম ওভারে তানজিদ হাসান তামিমের উইকেট তুলে নিয়ে।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link