অপরাজিত থাকায় ডি ভিলিয়ার্সকে ছাড়িয়ে গেলেন বিরাট

রান তাড়া করার সময় বিরাট যেন এক অদম্য জাদুকর। ক্রিকেটের অভিধানে 'চেজ মাস্টার' শব্দ গুচ্ছটা বোধহয় তার জন্যই সৃষ্টি হয়েছে।

বিরাট কোহলির সেই চিরচেনা এমআরএফ ব্যাটের উইলো যখন ২২ গজে কথা বলে, তখন প্রতিপক্ষের বোলিং লাইনআপ স্রেফ খড়কুটোর মতো উড়ে যায়। বিশেষ করে রান তাড়া করার সময় বিরাট যেন এক অদম্য জাদুকর। ক্রিকেটের অভিধানে ‘চেজ মাস্টার’ শব্দ গুচ্ছটা বোধহয় তার জন্যই সৃষ্টি হয়েছে। আইপিএলের উদ্বোধনী প্রহরেই এবার পঞ্চাশোর্ধ রান করে ম্যাচ জিতিয়ে নিজের প্রাক্তন সতীর্থ এবি ডি ভিলিয়ার্সকে ছাড়িয়ে গেলেন বিরাট।

  •  বিরাট কোহলি (২৪* বার)

আইপিএলে ২৪ বার পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংস খেলে অপরাজিত থেকে মাঠ ছেড়েছেন তিনি। ডি ভিলিয়ার্সকে পেছনে ফেলে এই তালিকার শীর্ষে ওঠা কোহলির জন্য কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়, বরং তার দীর্ঘদিনের ধারাবাহিকতার ফসল। ম্যাচ জেতানোর নেশা যখন তার রক্তে, তখন ২৪ সংখ্যাটি কেবল একটি রেকর্ড নয়, এটি তার অদম্য মানসিকতার দলিল।

  • এবি ডি ভিলিয়ার্স (২৩ বার)

আরসিবির জার্সি গায়ে আইপিএলের মঞ্চে নান্দনিক সব শট দিয়ে মাঠ মাতানো কিংবদন্তি এবি ডি ভিলিয়ার্স আজ অবসরে। কিন্তু ২৩ বার ফিফটি করে অপরাজিত থাকার অবিশ্বাস্য রেকর্ডটি আজও তার সামর্থ্যের প্রমাণ দেয়। আরসিবির হয়ে বিরাটের সাথে তার জুটিগুলো ছিল আইপিএলের প্রাণ। ক্রিজে তিনি থাকা মানেই ছিল অসম্ভবকেও সম্ভব করার গ্যারান্টি।

  • শিখর ধাওয়ান (২৩ বার)

ভারতীয় এই বাঁহাতি ওপেনার যেন নিরবে-নিভৃতে আইপিএলের ইতিহাসের অন্যতম সফল ব্যাটার হয়ে উঠেছেন। ডি ভিলিয়ার্সের সমান ২৩ বার তিনি পঞ্চাশোর্ধ্ব রান করে অপরাজিত থেকেছেন। ইনিংসের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দলকে টেনে নিয়ে যাওয়ার যে ধৈর্য ধাওয়ান দেখান, তা তরুণ প্রজন্মের জন্য এক পাঠ্যবই।

  • মহেন্দ্র সিং ধোনি (২০ বার)

তালিকায় ধোনির নাম থাকাটা মোটেই বিস্ময়কর নয়। চেন্নাইয়ের হলুদ জার্সি গায়ে ব্যাটিং করতে নেমে ২০ বার ফিফটি প্লাস ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকা তার ফিনিশিং দক্ষতারই পরিচয় দেয়। গ্যালারিতে যখন ‘ধোনি-ধোনি’ চিৎকার ওঠে, তখন ক্রিজে তিনি হিমশীতল মস্তিষ্কে জয় ছিনিয়ে আনার ছক কষেন। ২০টি অপরাজিত ইনিংস মানে চেন্নাইয়ের জন্য ২০টি স্মরণীয় জয়ের গল্প।

  • ডেভিড ওয়ার্নার (১৯ বার)

​আইপিএল ইতিহাসের সেরা বিদেশি ব্যাটারের কথা বললে ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে ডেভিড ওয়ার্নারের নামটা আসবেই। ইনিংসের শুরুতে তান্ডব চালিয়ে ১৯ বার তিনি পঞ্চাশোর্ধ্ব রান করে অপরাজিত থেকে জয় নিশ্চিত করেছেন। হায়দ্রাবাদ থেকে দিল্লি – যেখানেই তিনি খেলেছেন, তার উইকেটে টিকে থাকা মানেই প্রতিপক্ষের জন্য শঙ্কার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Share via
Copy link