এশিয়া কাপে বাংলাদেশ হতাশ করেছে বটে। তবে বাংলাদেশের প্রতিনিধি মাসুদুর রহমান মুকুল ও গাজী সোহেল হতাশ করেননি। এবারের এশিয়া কাপে আম্পায়ারদের মধ্যে অন্যতম সেরা পারফর্মার ছিলেন মুকুল।
আইসিসির এলিট প্যানেলে যুক্ত হয়েছেন শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকত। এরপর থেকেই দেশীয় আম্পায়রদের উপর প্রত্যাশা বেড়েছে সকলের। কোন একটা বড় আয়োজনে বাংলাদেশি আম্পায়াররা কেমন করেন, সেটা জানতে মুখিয়ে থাকেন দর্শকরা। দিনশেষে যে তারাও বাংলাদেশের পতাকাবাহক।
এবারের এশিয়া কাপে অনফিল্ড আম্পায়ার হিসেবে ছিলেন না সৈকত। তবে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে মুকুলের সঙ্গী ছিলেন গাজী সোহেলও। সিদ্ধান্ত দেওয়ার শতাংশ হিসেবে অবশ্য গাজী সোহেল রয়েছেন এগিয়ে। পাঁচটি সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন সোহেল। এর মধ্যে একটি সিদ্ধান্ত রিভিউ নেওয়ার পর বদলাতে হয়েছে তাকে। শতকরা হিসেবে ৮০ শতাংশ সফল সিদ্ধান্ত দিয়েছেন সোহেল।

অন্যদিকে মুকুলকে বেশ কঠিন সময়ই পার করতে হয়েছে এবারেরে এশিয়া কাপে। ভারত-পাকিস্তান মেগা ফাইনালেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন অনফিল্ড আম্পায়ার হিসেবে। এমন সব চাপের মুহূর্তে নিজের স্নায়ুচাপকে সংবরণ করেছেন তিনি। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়েছেন।
মোট দশটি সিদ্ধান্ত দিতে হয়েছে অনফিল্ড আম্পায়ার হিসেবে। এর মধ্যে তিনটি সিদ্ধান্ত তাকে পালটাতে হয়েছে। শতকরা হিসেবে তিনি ৭০ শতাংশ সিদ্ধান্তই সঠিক দিয়েছেন। সর্বাধিক দশ সিদ্ধান্তদাতাদের মধ্যে যৌথভাবে মুকুল রয়েছেন সবার উপরে। তার সাথে রয়েছেন আফগানিস্তানের আম্পায়ার ইজাতুল্লাহ শাফি। তিনিও মুকুলের সমান পরিমাণ সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, এবং একই পরিমাণ সিদ্ধান্ত বদলাতে হয়েছে তাকেও।
তবে মুকুলের দৃঢ়তায় অন্তত বাংলাদেশের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ারকে আরও উজ্জ্বল করে তুলছে ক্রমশ। বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের অবসর পরবর্তী সময়ে আম্পায়ার হওয়ার রোল মডেল ইতোমধ্যেই হয়ে আছেন, শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকত। মুকুল কিংবা সোহেলরা বরং বাড়াচ্ছেন অনুপ্রেরণা।












