প্রায়শই বেশ তাচ্ছিল্যের সুরে বলা হয় মুস্তাফিজুর রহমান মিরপুরের রাজা। স্রেফ ঘরের মাঠেই তিনি পারফরম করতে পারেন। মিরপুরের কচ্ছপগতির উইকেটেই কেবল তিনি কার্যকর। বাংলাদেশের বাইরে একেবারেই নিষ্ফলা মুস্তাফিজ। কিন্তু এই তিরস্কার তত্ত্ব মোটেও সঠিক নয়। স্রেফ একটা বিভ্রম।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে মুস্তাফিজুর রহমানের উইকেট সংখ্যা ১৪২টি। এর মধ্যে বিদেশের মাটিতে ৬২ ইনিংসে তিনি নিয়েছেন ৭৯ টি উইকেট। ঘরের মাঠে যে সংখ্যা ৫০ ম্যাচে ৬৩টি। অতএব বিদেশের মাটিতে উইকেট তোলার দিক থেকে খুব একটা পিছিয়ে নেই মুস্তাফিজ।
এমনকি ঘরের মাঠে মুস্তাফিজের স্ট্রাইকরেট ১৭। অর্থাৎ প্রতি ১৭ বলে একটি করে উইকেট নিজের পকেটে পুরেছেন কাটার মাস্টার। বিদেশের মাটিতে তার স্ট্রাইকরেট ১৭.১। অতএব ভিনদেশে তিনি প্রতিটি উইকেট তুলে নিতে তার সামন্য বাড়তি কষ্ট করতে হয়েছে। এই পার্থক্য খুব একটা বেশি নয়।

আবার ইকোনমির দিকটা চিন্তা করলেও বিদেশের মাটিতে খুব একটা মন্দ মুস্তাফিজ করেছেন, তা বলারও উপায় নেই। ৭.৮৭ ইকোনমি রেটে তিনি রান দিয়েছেন। দেশের মাটিতে সে সংখ্যা ৬.৫৯। এখানেও পার্থক্য খুব একটা বেশি না। আর টি-টোয়েন্টিতে আটের নিচের যেকোন ইকোনমি রেটই বেশ ভাল হিসেবেই বিবেচিত হয়।
তবুও মুস্তাফিজকে ঘিরে সমালোচনার বলয় সৃষ্টি হয়। কারণ স্লো উইকেটে মুস্তাফিজুর রহমান দুর্ধর্ষ। একেবারে অপ্রতিরোধ্য তিনি। এমন উইকেটে মুস্তাফিজকে যদি বিশ্বের সেরা টি-টোয়েন্টি বোলারও বলা হয়, তাতেও সম্ভবত বাড়াবাড়ি কিছু বলা হয় না। এ কারণেই মূলত সৃষ্টি হয় বিভ্রম। একটু স্পোর্টিং কিংবা ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে সেই দূর্দান্ত মুস্তাফিজ পরিণত হন ভাল মানের বোলারে। আর একারণেই যত সমালোচনা।
ফারাকটা চোখে পড়ে। মুস্তাফিজকে তাই বিশ্বমানের বোলার হিসেবে গণ্য করতে অনেকের অনীহা। তবে বাস্তবতা হচ্ছে মুস্তাফিজের চাইতে ভাল বিকল্প এই মুহূর্তে বাংলাদেশের কাছে নেই। যেকোন দিন, যেকোন পরিস্থিতিতে তিনি বাংলাদেশের ম্যাচ উইনার বনে যেতে পারেন। তর্ক সাপেক্ষে টি-টোয়েন্টির ডেথ ওভারে মুস্তাফিজের সমকক্ষ বোলারের সংখ্যা একেবারেই হাতেগোনা।

অতএব যতটা সমালোচিত হন মুস্তাফিজ বিদেশের মাটিতে পারফরমেন্সের জন্যে, ততটা সমালোচনা তার প্রাপ্য না। আর আসন্ন এশিয়া কাপে মুস্তাফিজ যে বাংলাদেশের অন্যতম অস্ত্র, সেটাও নিশ্চয়ই ফলাও করার বলতে হচ্ছে না। আরব আমিরাতের উইকেটে দুর্ধর্ষ মুস্তাফিজের অপেক্ষা।











