বার্গারের এক বিচিত্র ক্রিকেট যাত্রা

জীবন ঠিক যতটুকু বিচিত্র হতে পারে, তার থেকেও বিচিত্র নান্দ্রে বার্গারের পথচলা। ক্রিকেট তার জীবনে কখনোই ছিল না মূল পরিকল্পনা।

জীবন ঠিক যতটুকু বিচিত্র হতে পারে, তার থেকেও বিচিত্র নান্দ্রে বার্গারের পথচলা। ক্রিকেট তার জীবনে কখনোই ছিল না মূল পরিকল্পনা। টেনিসের লালমাটি ছাপিয়ে মানুষের মন পড়ার মত কঠিন পথ মাড়িয়েছেন তিনি। তবে সকল আনন্দ যেন খুঁজে পেলেন ক্রিকেটের বাইশ গজে।

জোয়ানেসবার্গের ওয়েস্ট র‍্যান্ডে বেড়ে ওঠা বার্গারের স্কুল ছিল মোনুমেন্ট হাই স্কুল- যেখানে রাগবির ঐতিহ্য বেশ পুরোনো। রাগবিতে হাতেখড়ি থাকলেও, তার মন পড়ে থাকত টেনিস আর স্কোয়াশে। বয়সভিত্তিক পর্যায়ে প্রাদেশিক সেরা খেলোয়াড়দের কাতারেও ছিল তার নাম। কিন্তু একটা জেদি পিঠের ইনজুরি সবকিছু থামিয়ে দেয় হঠাৎই।

সেখান থেকেই মোড় ঘোরে গল্পের। ক্রিকেটকে আঁকড়ে ধরেন, আর সেটাই তাকে নিয়ে যায় ইউনিভার্সিটি অফ উইটওয়াটার্সর‌্যান্ডের স্কলারশিপে। পড়াশোনাই তখন অগ্রাধিকার, ক্রিকেট যেন সমান্তরালে চলা একটা সম্ভাবনা মাত্র। পড়াশুনায় মনোযোগী বার্গার এগিয়ে যাচ্ছিলেন মনোবিজ্ঞানী হওয়ার পথে। তবে ময়দানের প্রতি তার আবেগকে কখনোই দমাতে পারেননি।

প্রদেশের ফ্রাঞ্চাইজি দল লায়ন্সের নেট বোলার হিসেবে শুরু, এরপর ২০১৫-১৬ মৌসুমে অভিষেক- চুপচাপ এগিয়ে যাওয়ার এক যাত্রা। দুই মৌসুম পর হঠাৎ আলোর সান্নিধ্য পেলেন বার্গার। আফ্রিকা টি-টোয়েন্টি কাপে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হয়ে সুযোগ আসে ওয়েস্টার্ন প্রভিন্সের হয়ে খেলার। সেই সুযোগটাই বড় সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে- জোহানেসবার্গের ডিগ্রি ছেড়ে কেপ টাউনে পেশাদার ক্রিকেটে ঝাঁপ দেন।

কিন্তু জীবনের বিচিত্র গল্প কখনোই সরল পথ অনুসরণ করে না। দুই বছর যেতে না যেতেই পিঠের নিচে স্ট্রেস ফ্র্যাকচার- প্রায় এক বছর মাঠের বাইরে। অনেকের ক্যারিয়ার যেখানে থেমে যায়, বার্গার সেখান থেকেই নতুন করে শুরু করেন নতুন অধ্যায়। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে মাত্র ১২ দিনে বদলে যায় তার পরিচয়। টি-টোয়েন্টি, ওয়ানডে, টেস্ট- তিন ফরম্যাটেই অভিষেক, প্রতিপক্ষ ভারত। এরপর ঘরোয়া মৌসুমে দাপট, ঘরোয়া ওয়ানডে চ্যালেঞ্জের সেরা বোলারও বনে গেলেন।

সেই ধারাবাহিকতায় তিনি এখন দুনিয়ার সবচেয়ে জমকালো ফ্রাঞ্চাইজি ভিত্তিক টুর্নামেন্টে। রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে খেলতে নেমে সাঞ্জু স্যামসনের উইকেট তুলে নিয়ে শুরু করলেন এক বর্ণিল যাত্রা। এই পথটা যে সহসাই শেষ হচ্ছে, সেটারই আগাম বার্তা। অথচ একটা সময় তিনি র‍্যাকেট হাতে ভবিষ্যৎ খুঁজছিলেন।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link