বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে গতি সম্পন্ন বোলার যে নাহিদ রানা, তা ক্রিকেট বিশ্বও জেনে গেছে। চলমান বিপিএলেও রংপুর রাইডার্সের হয়ে নিজের গতিতে ব্যাটারদের কাবু করছেন এই চাপাইনবাবগঞ্জ এক্সপ্রেস। আর সেই গতি মনে ধরেছেন খোদ ওয়াকার ইউনুসেরও।
সবশেষ ম্যাচে ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে ৪ ওভারে মাত্র ১১ রান খরচায় তুলে নেন ৩টি উইকেট। পরবর্তীতে ম্যাচ শেষে কমেন্ট্রি বক্সে গিয়ে পরামর্শ নেন কিংবদন্তি সেই ওয়াকারের কাছ থেকেই।
ম্যাচ শেষে রংপুর রাইডার্স যখন টিম হোটেলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখনই নাহিদ রানা ছুটে যান কমেন্ট্রি বক্সের দিকে। প্রায় সাত-আট মিনিটের মতো কথা চলে তাদের মধ্যে। পাকিস্তানি এই কিংবদন্তি পেসারের পরামর্শ যেন নিবিড় মনোযোগ দিয়ে শুনে যাচ্ছিলেন নাহিদ।

লোকের কথায় প্ররোচিত হয়ে নাহিদকে গতি না কমানোর পরামর্শ দেন ওয়াকার। ওয়াকার তাকে মনে করিয়ে দেন যে নাহিদের মূল অস্ত্রটাই হলো গতি। একজন বিশ্বমানের পেস বোলার হতে চাইলে অবশ্যই গতির পাশাপাশি বিভিন্ন স্কিল অর্জন করতে হবে, তবে গতিটা ঠিক রেখেই।
তিনি নাহিদকে পরামর্শ দেন যাতে নাহিদের বলের গতি কখনোই ১৫০ এর নিচে না নামে। ১৫০কে বেঞ্চমার্ক হিসেবে ধরার কথা বলেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রায় আট শতাধিক উইকেট নেওয়া এই কিংবদন্তি।
ঢাকা ক্যাপিটালসের সাথে টসে হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে ১৮১ রানের লক্ষ্য নির্ধারণ করে দেয় লিটন দাশের নেতৃত্বাধীন রংপুর রাইডার্স। তারপরেই বল হাতে যেন অগ্নি ঝরান নাহিদ। নিজের করা প্রথম ডেলিভারিতেই ঘন্টায় প্রায় ১৫০ কিলোমিটার গতিতে যাওয়া এক অপ্রতিরোধ্য বলে বোল্ড করেন জাতীয় দলের সহ-অধিনায়ক সাইফ হাসানকে। পরবর্তীতে তার শিকার হন সাব্বির রহমান ও মোহাম্মদ মিঠুন।

ম্যাচে বোলিং বিভাগের প্রায় সবার যেখানে ব্যয়বহুল ছিলেন সেখানেই নিজের গতি দিয়ে যেন বিপক্ষ দলের ব্যাটারদের এক প্রকার নাকানিচুবানি খাওয়ালেন নাহিদ। আর ম্যাচ শেষে ওয়াকার ইউনুসের মতো ক্রিকেট ইতিহাসের সফলতম এক পেসারের দেওয়া পরামর্শগুলো যে নাহিদ ক্যারিয়ার জুড়েই মনে রাখতে চাইবেন, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।










