পুরনো চাল ভাতের বাড়ে। নাসির হোসেন বাংলা সেই প্রবাদের উদাহরণ সৃষ্টি করলেন বাইশ গজে। দ্বাদশ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে দ্রুততম হাফ সেঞ্চুরি হাঁকালেন নাসির। অথচ দিনকতক আগেই প্রশ্ন উঠেছিল কাইল মায়ার্সের দ্রুততম হাফসেঞ্চুরি কেউ টপকাতে পারবে কি-না। এক সময়ে দেশের সেরা ফিনিশার, দ্রুততম হাফসেঞ্চুরি করেই ক্ষান্ত হননি, দলের জয় নিশ্চিত করে তবেই তিনি ময়দান ছেড়েছেন।
নাসির হোসেন, একটা সময় বাংলাদেশ ক্রিকেটের ধ্রুবতারা ছিলেন। কিন্তু নানা বিতর্কে জর্জরিত হয়ে তিনি ক্রমশ অন্ধকার গলিতে হারিয়ে যেতে বসেছিলেন। সাথে অফফর্মের প্রবল প্রহার তো ছিলই। সব মিলিয়ে ক্ষয়ে যাওয়া নক্ষত্রদের মিছিলে সামিল প্রায় হয়েই গিয়েছিলেন।
কিন্তু এবারের বিপিএলে তিনি আবারও নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে চাইলেন ঢাকা ক্যাপিটালসের জার্সি গায়ে। সে ধারাবাহিকতায় নোয়াখালী এক্সপ্রেসের বিপক্ষে স্রেফ ২১ বলে ফিফটি হাঁকালেন ডানহাতি এই অলরাউন্ডার। এর আগে চার ম্যাচ খেলে মাত্র একটি জয়ের দেখা পেয়েছিল রাজধানীর দলটি।

তৃতীয় জয়ের অন্বেষণে তাদের সামনে ছিল আরেক ধুকতে থাকা দল নোয়াখালী এক্সপ্রেস। এদিন বল হাতেও নাসির নোয়াখালীকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করেছেন। তিন ওভারে ২৪ রানের বিনিময়ে তুলে নিয়েছিলেন মাজ সাদাকাতের গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। ঢাকার বাকি বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে স্রেফ ১৩৩ রানেই থামে নোয়াখালীর সংগ্রহ।
১৩৪ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে, ঢাকাও যে শুভসূচনা পেয়েছিল তেমনটি নয়। ১৪ রান তুলতেই দলটি হারায় দু’টো উইকেট। এরপরই দৃশ্যপটে হাজির নাসির হোসেন। ঢাকা ক্যাপিটালসের উপর সৃষ্টি হওয়া চাপকে তিনি বাউন্ডারির মূর্ছনায় হাওয়ায় মিশিয়ে দিলেন। এবারের বিপিএলে দ্রুততম হাফসেঞ্চুরির মালিক বনে গেলেন।
রংপুর রাইডার্সের বিদেশি ক্রিকেটার কাইল মায়ার্স, ২৩ বলে হাফসেঞ্চুরি গড়ে ভেবেছিলেন হয়ত তাকে কেউ টপকাতে পারবে না। কিন্তু অভিজ্ঞ নাসির একদিন বাদেই মায়ার্সকে টপকে গেলেন। তিনি প্রমাণ করলেন, বয়স বাড়লেও সক্ষমতা একেবারে উবে যায় না। এখনও ম্যাচের ভোল পালটে দেওয়ার সক্ষমতা রাখেন তিনি। আগ্রাসী ব্যাটিংও করতে ভুলে যাননি।
শেষ অবধি নাসিরের সংগ্রহ ৫০ বলে ৯০ রান। ১৮০ স্ট্রাইকরেটের ইনিংসটিতে তিনি ১২টি বাউন্ডারি হাঁকিয়েছেন, দু’টো ছক্কার মারও এসেছে তার ব্যাট থেকে। দলের দ্বিতীয় জয় তুলে নিতে সহয়তা করেছেন নাসির। একেবারে জাত ফিনিশারের মতই তিনি খেলে গেছেন পুরোটা সময়জুড়ে। প্রয়োজনের মুহূর্তে আগ্রাসী হয়েছেন, পরিস্থিতি অনুযায়ী ঝুঁকি বাড়াননি। ফিনিশার সত্ত্বা এখনও তার রন্ধ্রে রন্ধ্রে ধাবমান।











