নেইমারের ক্যারিয়ার যেন আবারও এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে ছিল। সান্তোসে ফিরে আসার পর একের পর এক চোট, অস্ত্রোপচারের শঙ্কা, আর মানসিক ক্লান্তি – সব মিলিয়ে ব্রাজিলিয়ান এই সুপারস্টার এক সময় ভেবেই ফেলেছিলেন, এই পথটা হয়তো এখানেই শেষ।
তাঁর বাবা নেইমার দা সিলভা নিজেই জানিয়েছেন, মাস কয়েক আগে ছেলে তাঁকে বলেছিল, এই ব্যথা আর অনিশ্চয়তা সহ্য করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। অস্ত্রোপচার করেও আদৌ ফিরতে পারবেন কি না, তা নিয়েও সন্দেহ তৈরি হয়েছিল।
এই কঠিন সময়ে নেইমার মানসিকভাবে প্রায় ভেঙেই পড়েছিলেন। ভবিষ্যৎ নিয়ে আস্থা নড়ে গিয়েছিল, প্রেরণাও হারাতে বসেছিলেন। তবু সান্তোসই যেন তাঁকে আবার টেনে ধরেছে।

ক্লাবের সংকটময় মুহূর্তে, চিকিৎসকদের পরামর্শ উপেক্ষা করেই চোট নিয়েও মাঠে নেমেছেন তিনি। সেই উপস্থিতিই বদলে দিয়েছে অনেক কিছু। অবনমন এড়িয়েছে সান্তোস, এমনকি মৌসুম শেষে জায়গা করে নিয়েছে কোপা সুদামেরিকানাতেও।
২০২৫ মৌসুম শেষে ব্রাজিলিয়ান সিরি আ-তে সান্তোসের অবস্থান ছিল দ্বাদশ, আর এই লড়াইয়ে নেইমারের অবদান অস্বীকার করার অবকাশ নেই। এর মধ্যেই এসেছে বড় সিদ্ধান্ত। ট্রান্সফার গুঞ্জন, ফ্লামেঙ্গোর আগ্রহ – সব জল্পনা ছাপিয়ে নেইমার বেছে নিয়েছেন নিজের শৈশবের ক্লাবকেই।
ফ্যাব্রিজিও রোমানোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালেই শেষ হওয়ার কথা ছিল তাঁর চুক্তি। তবে দুই পক্ষের সমঝোতায় সেটি বাড়ানো হয়েছে আরও এক বছরের জন্য, ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত। অর্থাৎ, সান্তোসের জার্সিতেই ক্যারিয়ারের পরবর্তী অধ্যায় লিখতে যাচ্ছেন নেইমার।
এরই মধ্যে তিনি সফলভাবে মিডিয়াল মেনিস্কাসের অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেছেন। সব ব্যথা, সব সংশয় পেছনে ফেলে নেইমারের এই সিদ্ধান্ত শুধু একটি চুক্তি নবায়ন নয়, যেন নিজের শিকড়ের কাছে ফিরে গিয়ে আবারও লড়াই করার এক দৃঢ় ঘোষণা। সান্তোসের ইতিহাসে তিনি শুধু তারকা নন, বরং এক জীবন্ত প্রতীক। যিনি ভেঙে পড়েও ফিরে আসতে জানেন বারংবার।











