যোগ্য নয়, তারকা কোচ চাই বিসিবির

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের অন্দরমহলে নাকি এখন এক অদ্ভুত অলিখিত নীতি চালু হয়েছে—জাতীয় দলে না খেললে ভাল কোচ হওয়া যায় না। অন্তত সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ দেখে তেমন মনে হওয়াই স্বাভাবিক। আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি শুরু হতে যাওয়া বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) ওয়ানডে আসরকে ঘিরে এই ধারণা প্রবল হয়েছে।

কোচ বাছাই নিয়ে যে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে, তাতে কোচিং মহলে চাপা ক্ষোভ স্পষ্ট। শোনা যাচ্ছে, এবার কোচ নির্বাচনের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা বা কোচিং দক্ষতার চেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে ‘তারকাখ্যাতি’। অর্থাৎ জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার হওয়াটাই যেন হয়ে উঠেছে প্রধান যোগ্যতা।

ক্রিকেট অপারেশনস বিভাগ প্রথমে বিসিবি টাইগার্স কর্মসূচির প্রধান সোহেল ইসলামকে চার দলের একটির দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। দেশের অন্যতম সেরা কোচ হিসেবে যাঁর সুনাম আছে, স্পিন গুরু হিসেবে যার খ্যাতি আছে—সেই সোহেলই শেষ পর্যন্ত বিসিএলের কোনো দলের হেড কোচ হিসেবে দায়িত্ব পেলেন না।

এর মধ্যে দৃশ্যপট বদলে যায় আচমকাই। শুরুতে সেন্ট্রাল জোনে মিজানুর রহমানের সহকারী হিসেবে থাকার কথা ছিল মোহাম্মদ আশরাফুলের। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনিই হয়ে গেলেন সাউথ জোনের প্রধান কোচ। এই হঠাৎ রদবদল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে অনেকের মনেই—কোন মানদণ্ডে হলো এই সিদ্ধান্ত?

এ নিয়ে বিসিবির ভেতরেও বক্তব্যে মিল নেই। ক্রিকেট অপারেশনসই কোচ ও খেলোয়াড় বেছে দিয়েছে। আবার ক্রিকেট অপারেশনস বলছে, এটা টুর্নামেন্ট কমিটির বিষয়, তাঁদের এখতিয়ার নয়। একই ঘটনায় দুই ভিন্ন ব্যাখ্যা স্বাভাবিকভাবেই স্বচ্ছতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি করছে।

সোহেল ইসলামের বাদ পড়া আরও বেশি প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তিনি যদি বিসিএলের একটি দল সামলানোর মতো যোগ্য না হন, তাহলে তাঁকে টাইগার্স কর্মসূচির প্রধান করা হলো কীভাবে? প্রশ্নটা সহজ, কিন্তু জবাবটা জটিল।

খেলোয়াড় হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা আর উচ্চ পর্যায়ে কোচিং করানো—দুটি ভিন্ন দক্ষতা। গুঞ্জন আছে, জাতীয় দলে খেলার অভিজ্ঞতা নিয়ে কোচিংয়ে এলেও বড় অঙ্কের পারিশ্রমিক পাওয়া যায়। আর যাঁরা বছরের পর বছর ঘরোয়া ক্রিকেটে কাজ করছেন, তাঁদের কদর যেন কম। বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের কাছের মানুষ হলে বাড়তি সুবিধা মেলে—এমন কথাও ফিসফাস শোনা যাচ্ছে কোচদের আড্ডায়।

ঘরোয়া ক্রিকেট তো হওয়ার কথা প্রতিভা বিকাশের জায়গা, যেখানে কাজের স্বীকৃতি মিলবে। কিন্তু সেখানে যদি জাতীয় দলের জার্সিই হয়ে ওঠে কোচিংয়ের প্রধান যোগ্যতা, তাহলে দীর্ঘদিন ধরে পরিশ্রম করা অনেক কোচের পথই ক্রমশ সংকীর্ণ হয়ে যাবে।

Share via
Copy link