এমন কিছু জীবনে দেখেননি সাবেক আইরিশ ক্রিকেটার ইসাবেল জয়েস। ধারাভাষ্যে বসে বলছিলেন, ‘মনে হয় আমার মাথা থেকে সব রক্তই নেমে গেছে।’
সকালের সেশন। আয়ারল্যান্ড তখন ইনিংস মেরামতের কাজ করছিল। তখনই কেঁপে উঠল মিরপুর, কেঁপে উঠল ঢাকা শহর। আয়ারল্যান্ডের স্কোর যখন পাঁচ উইকেট হারিয়ে ১৬৫ রান, তখনই ভূমিকম্প অনুভূত হয়।

খেলা থেমে যায়। সেন্টার উইকেটের কাছেই ছিলেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তিনি সবাইকে এক জায়গায় জড়ো করার চেষ্টা করেন, বলতে থাকেন, ‘মুশফিক ভাই, এদিকে চলে আসেন।’ আবার বলেন, ‘জয়, তুই এদিকে চলে আয়।’ খালেদ আহমেদকে হাঁটু গেড়ে মাটিতে বসে পড়তে দেখা যায়।
আইরিশ ক্রিকেটাররা ড্রেসিংরুম ছেড়ে বাইরে চলে আসেন। মিনিট পাঁচেক খেলা বন্ধ থাকে। গ্যালারিও তখন উত্তাল। মাঠে কিছু আইরিশ সমর্থকও ছিলেন। অধিনায়ক অ্যান্ডি বালবির্নির বাবা-মাকে দেখা যায়।

আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে ধারাভাষ্য কক্ষেও। সমন্বয় ঘোষ বলেন, ‘একটু বিরতি নেওয়া হয়েছে। একটা ভূমিকম্পের আঘাত পেলাম আমরা। ঢাকায়, মিরপুরে ভূমিকম্প। তাই সবাই শুধু ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করছে। আমরা কমেন্ট্রি বক্সেও বিষয়টা অনুভব করেছি। বেশ জোরে কেঁপেছে। আমরা এখনো এখানেই আছি।’
সৌভাগ্যক্রমে, মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে কোনো ক্ষতি হয়নি। ইসাবেল জয়েস বলেন, ‘মনে হয় আমার মাথা থেকে সব রক্তই নেমে গেছে। এটা আমার জীবনের প্রথম ভূমিকম্প। মনে হয়েছিল এক মিনিটের জন্য শ্বাসই বন্ধ হয়ে গিয়েছে।’

খেলা আবার শুরু হয়। ভয় কাটলেও সেই রেশ মিরপুর কিংবা ঢাকায় এখনও রয়ে গেছে।










