২০ বলে ২৬ রানে দাঁড়িয়ে ফখর জামান পর্যবেক্ষণ করছিলেন বিপর্যয়। ১১ ওভার ৩ বলের মাথায় পাঁচ উইকেট হারিয়ে পাকিস্তানের সংগ্রহ স্রেফ ৮০ রান। এরপরের গল্পে ফখর রাখলেন নিজের ব্যাটিং সক্ষমতার প্রমাণ। তার আগ্রাসী দৃঢ়তায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে শেষ অবধি ১৭১ রানের সংগ্রহ পেয়েছে পাকিস্তান। উইকেট ট্যালিতে তখনও পাঁচ উইকেট দৃশ্যমান।
মোহাম্মদ নাওয়াজের সাথে তার গড়া অপরাজিত ৯১ রানের জুটিতে কার্যত সবচেয়ে বেশি রান ফখরই আদায় করেছেন। ২৪ বলে ৫১ রান যুক্ত করেছেন তিনি নিজের নামের পাশে। অর্থাৎ পাঁচ উইকেট যাওয়ার পর আরও আগ্রাসী হয়েছেন ফখর। প্রায় ২১২ স্ট্রাইকরেটে রান তুলেছেন তিনি পাঁচ উইকেট যাওয়ার পরও। এ কারণেই তো তিনি এতটা সমাদৃত, এই কারণেই তার এতটা কদর।
একটা সংশয় ছিল, ইনজুরির কারণে ফখরকে ছাড়াই পাকিস্তানের এশিয়া কাপ খেলার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সেই সম্ভাবনার মাঝেও পাকিস্তান শেষ অবধি অপেক্ষা করেছে ফখরের জন্যে। অবশেষে ইনজুরির শঙ্কাকে পাশ কাটিয়ে ফখর আবারও পাকিস্তানের উদ্ধারকর্তায় পরিণত হওয়ার বার্তাই যেন দিলেন।

ফখরের ব্যাট থেকে বড় ইনিংসের দেখা মিলছিল না বহুদিন ধরেই। প্রায় ১৫ ইনিংস পর ফখর পেয়েছেন অর্ধশতকের দেখা। তার মত একজন ব্যাটারের এত দীর্ঘ সময় ধরে অর্ধশতকের খরা বড্ড বেমানান। তবে এই সময়ে বা-হাতি এই ব্যাটারের উপর থেকে আস্থা হারায়নি পাকিস্তান। তাকে লাগাতার সুযোগ দেওয়া হয়েছে তার দলের পক্ষ থেকে।
ফখর যে একাহাতে ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে জানেন, সে উদাহরণ আরও একবার রাখলেন বর্ষীয়ান এই ব্যাটার। ১৭৫ স্ট্রাইকরেটের ইনিংসটিতে ফখর বাউন্ডারি হাঁকিয়েছেন ১০টি, ওভার বাউন্ডারি আছে আরও ২টি। আর এই বাউন্ডারিতেই মূলত তিনি চাপকে উড়িয়েছেন বাউন্ডারির ওপারে।
দূর্যোগের মুহূর্তে ফখরের এই ইস্পাত কঠিন আক্রমণাত্মক মানসিকতাই তার আলাদা এক জায়গা সৃষ্টি করে দিয়েছে। এশিয়া কাপেও এমন ফখরের প্রত্যাশায় উন্মুখ হয়ে থাকবে সকলে।












