পাকিস্তান ক্রিকেটের আকাশে এখন পরিবর্তনের ঘনঘটা। ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভরাডুবির পর নড়েচড়ে বসেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। ব্যর্থতার দায়ভার নিরূপণ এবং আগামীর রূপরেখা ঠিক করতে বোর্ড প্রধান মোহসিন নাকভি এখন রীতিমতো অ্যাকশন মোডে। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি পৃথকভাবে জরুরি বৈঠকে বসেন টি-টোয়েন্টি সেনাপতি সালমান আঘা এবং ওয়ানডে অধিনায়ক শাহীন শাহ আফ্রিদির সাথে।
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠতে না পারার গ্লানি এখনো কাটেনি দেশটির ক্রিকেট মহলে। বোর্ড চেয়ারম্যানের সাথে বৈঠকে সালমান আঘা বিশ্বকাপের ব্যর্থতার নেপথ্য কারণগুলো ব্যাখ্যা করেন। তবে গুঞ্জন রয়েছে, এশিয়া কাপ এবং বিশ্বকাপের টানা ব্যর্থতায় নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম শঙ্কায় আছেন আঘা। ব্যাট হাতে নিজের অফফর্ম এবং নেতৃত্বের দুর্বলতা তাকে খাদের কিনারে এনে দাঁড় করিয়েছে।
অন্যদিকে, ওয়ানডে অধিনায়ক শাহীন আফ্রিদির সাথে আলোচনায় প্রাধান্য পেয়েছে আসন্ন বাংলাদেশ সফরের দল গঠন। নিকট ভবিষ্যতে কোনো টি-টোয়েন্টি সিরিজ না থাকায় পিসিবি এখন সম্পূর্ণ মনোযোগ দিচ্ছে বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডে এবং পরবর্তীতে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজে।

পরিবর্তনের ছোঁয়া লাগছে লাল বলের ফরম্যাটেও। গুঞ্জন রয়েছে, সরফরাজ আহমেদকে পাকিস্তান টেস্ট দলের প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দিতে যাচ্ছে পিসিবি। গুঞ্জন সত্যি হলে পাকিস্তান ক্রিকেট ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ টেস্ট কোচ হিসেবে নাম লেখাতে যাচ্ছেন ২০১৭ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ী এই অধিনায়ক।
আজহার মাহমুদের অন্তর্বর্তীকালীন অধ্যায় শেষ হওয়ার পর, ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরফরাজকেই যোগ্য মনে করছে বোর্ড। বিশেষ করে পাকিস্তান শাহিনস এবং অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সাথে মেন্টর হিসেবে তার সাম্প্রতিক সাফল্য নীতিনির্ধারকদের নজর কেড়েছে।
৫৪টি টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন সরফরাজকে এমন এক সময়ে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে, যখন বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে পাকিস্তানের পারফরম্যান্স তলানিতে। আসন্ন সিরিজগুলোতে দলের ভাগ্য বদলানোই হবে তার প্রধান অগ্নিপরীক্ষা। তার প্রখর ক্রিকেটীয় মস্তিস্ক আর তরুণদের সাথে কাজ করার দক্ষতা কি পারবে পাকিস্তানের টেস্ট ভাগ্য ফেরাতে? ক্রিকেট প্রেমীদের নজর এখন সেদিকেই।











