এক অনন্য কৌশলের প্রদর্শনী দেখাল পাকিস্তান যুব দল

ক্রিকেট শুধু ব্যাট-বলের লড়াই নয়, পেছনে থাকে অনেক অজানা অঙ্ক সমাধান করার চেষ্টা, থাকে  দূরদর্শী সব পরিকল্পনা আর কৌশল।যুব বিশ্বকাপে নিজেদের গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে পাকিস্তান সেটাই দেখালো যেন। 

ক্রিকেট শুধু ব্যাট-বলের লড়াই নয়, পেছনে থাকে অনেক অজানা অঙ্ক সমাধান করার চেষ্টা, থাকে  দূরদর্শী সব পরিকল্পনা আর কৌশল।যুব বিশ্বকাপে নিজেদের গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে পাকিস্তান সেটাই দেখালো যেন।

হারারেতে স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মাঠে নামে পাকিস্তান। লক্ষ্যটা ছিল মাত্র ১২৯ রানের। নিশ্চিতভাবেই পাকিস্তানের মতো দলের জন্য তা নিতান্তই সহজ এক গল্প হওয়ার কথা। শুরুটাও হয়েছিল তেমনই। প্রথম ১৬ ওভারে মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে ৯৩ রান তোলে পাকিস্তান।

কিন্তু হঠাৎ করেই ম্যাচের ছন্দে ঘটে অদ্ভুত এক পরিবর্তন। হঠাৎ করেই মন্থর হয়ে পড়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং। পরের ৩৬ রান তুলতে ব্যাটাররা খরচা করেন ৬২বল।

যেখানে স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ম্যাচটি আরও অনেক আগেই শেষ হয়ে যাওয়ার কথা। সেখানে সহজ বলেও শট খেলতে অনীহা, অপ্রয়োজনীয় ডট সব মিলিয়ে যেন ইচ্ছাকৃত ধীরগতি।

এটি বোলারদের আধিপত্য কিংবা উইকেটের আচরণের ফল ভাবলে নিতান্তই ভুল করবেন। বরং এর পেছনে ছিল এক সুপরিকল্পিত কৌশল। ২৫.২ ওভারের আগে ম্যাচ শেষ হলে জিম্বাবুয়ের সঙ্গে সমান পয়েন্ট নিয়েও নেট রান রেটে এগিয়ে সুপার সিক্সে উঠত স্কটল্যান্ড।

যা পাকিস্তানের জন্য তুলনামূলক কম লাভজনক ছিল। কারণ সুপার সিক্সে ওঠা দলগুলোর গ্রুপপর্বের পারস্পরিক ম্যাচের পয়েন্ট ও নেট রান রেট বহাল থাকে। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে আগের ম্যাচে পাকিস্তানের নেট রান রেট তুলনামূলক কম ছিল।

অন্যদিকে, ম্যাচ দেরিতে জিতলে সুপার সিক্সে জায়গা পাবে জিম্বাবুয়ে। যাদের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে জয় পাকিস্তানের নেট রান রেটকে আরও শক্তিশালী করবে পরের পর্বে। সেই হিসাব মাথায় রেখেই ১৬ ওভারের পর থেকে ম্যাচকে ইচ্ছাকৃতভাবে টেনে নেয় পাকিস্তান। শেষ পর্যন্ত ২৬ ওভার পর্যন্ত খেলা গড়ায়, তারপর টানা দুই ছক্কায় ম্যাচের ইতি টানেন সামির মিনহাস।

ফলে এটি শুধু একটি জয়ই নয়। বরং ক্রিকেট কৌশলের এক নিখুঁত বাস্তবায়ন করে দেখা পাকিস্তান যুব দল।

লেখক পরিচিতি

ক্রীড়াচর্চা হোক কাব্য-কথায়!

Share via
Copy link