প্রাপ্তির খেরোখাতায় জয় লেখা হলেও ভাগ্যবিধাতা পাকিস্তানের কপালে লিখে রেখেছিলেন বিদায়ের ললাট লিখন। লঙ্কান বধের রাতে পাকিস্তানের হাহাকার হয়ে রইল নেট রান রেটের সেই নিষ্ঠুর ব্যবধান। ম্যাচ শেষে অধিনায়ক সালমান আলী আঘার কণ্ঠে ঝরল একরাশ আক্ষেপ আর দলের ব্যর্থতার করুণ আখ্যান।
ম্যাচের শুরুটা ছিল রীতিমতো এক টর্নেডোর মতো। শাহিবজাদা ফারহানের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি এবং ফখর জামানের বিধ্বংসী ৮৪ রানের ওপর ভর করে পাকিস্তান যখন এগোচ্ছিল, তখন মনে হয়েছিল স্কোরবোর্ডে রানের পাহাড় জমবে। এক পর্যায়ে মনে হচ্ছিল ২৩০ কিংবা ২৪০ রান ছোঁয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র।
কিন্তু শেষ মুহূর্তের ব্যাটিং বিপর্যয়ে আট উইকেটে ২১২ রানে থামে পাকিস্তানের ইনিংস। ১৮ ওভার দাপট দেখালেও শেষ দুই ওভারে যেন খেই হারিয়ে বসে পাকিস্তান দল।

সেমিফাইনালের সমীকরণটা ছিল বেশ কঠিন। নিউজিল্যান্ডকে টপকাতে হলে শ্রীলঙ্কাকে আটকে রাখতে হতো মাত্র ১৪৭ রানের ভেতর। কিন্তু পাকিস্তানের বোলাররা এই লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হন। শিশিরভেজা পিচে বল করা কতটা দুরূহ ছিল, তা ম্যাচ শেষে আক্ষেপের সঙ্গেই জানালেন অধিনায়ক আঘা।
তিনি বলেন, ‘টস হারটাই ছিল ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট। শিশিরের কারণে আমাদের পরিকল্পনাগুলো মাঠে মারা গেছে। তবে হারের চেয়েও বড় যন্ত্রণা হলো আমাদের দীর্ঘদিনের ব্যাটিং দুর্বলতা, যা এবারও আমাদের ডুবিয়েছে।’
বাবর আজম ও সায়িম আইয়ুবের বাদ পড়ার দিনে ফখর জামানকে সাথে নিয়ে অনবদ্যভাবে লড়ে গেছেন শাহিবজাদা ফারহান। ম্যাচসেরার পুরস্কার হাতে নিলেও তার চোখেমুখে ছিল বিষণ্ণতা। তিনি বলেন, ‘সেঞ্চুরি করেও যদি দল লক্ষ্য পূরণ করতে না পারে, তবে সেই ব্যক্তিগত অর্জনের কোনো মূল্য থাকে না।’

অন্যদিকে, বিদায় নিশ্চিত হয়ে যাওয়া স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা দেখিয়ে দিয়েছে হার না মানা মানসিকতা। দাসুন শানাকার ৩১ বলে অপরাজিত ৭৬ রানের অবিশ্বাস্য ইনিংস ম্যাচটিকে নিয়ে গিয়েছিল রুদ্ধশ্বাস এক উচ্চতায়। ম্যাচ শেষে লঙ্কান অধিনায়ক ভক্তদের কাছে দুঃখপ্রকাশ করে বলেন, ইনজুরি জর্জরিত দল নিয়েও তারা সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।
ভক্তদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে আক্ষেপের সুরে তিনি বলেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত, আমরা চোটের কারণে পিছিয়ে পড়েছি। আমরা ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা এবং মাথিশা পাথিরানার মতো দুজন মূল বোলারকে মিস করেছি।’
সুপার এইট পর্ব শেষে নিউজিল্যান্ড ও পাকিস্তান উভয়েরই পয়েন্ট সমান তিন হলেও, নেট রান রেটের বিচারে শেষ হাসি হেসেছে কিউইরা। ইংল্যান্ডের সাথে সেমিফাইনালের মঞ্চে যাচ্ছে তারাই। আর এক বুক দীর্ঘশ্বাস নিয়ে মাঠ ছাড়তে হচ্ছে পাকিস্তানকে।










