চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের ভরাডুবির সবটুকু দায় যেন অবলীলায় চড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে বাবর আজম আর শাহীন আফ্রিদিদের কাঁধে। নামের ভারে বড় তারকা হওয়ায় সমালোচনার তপ্ত বাণগুলোও তাদের দিকেই ধেয়ে যাচ্ছে বেশি। শেষ ম্যাচে শাহীন জ্বলে উঠলেও ধারাবাহিক ব্যর্থতায় প্রশ্নবাণে জর্জরিত হচ্ছেন বাবর। কিন্তু তাদের সমালোচনায় এক প্রকার আড়ালে রয়ে যাচ্ছে অধিনায়ক সালমান আঘা ও সায়িম আইয়ুবের বেহাল দশা।
দ্বিপাক্ষিক সিরিজগুলো ভালো খেললেও টুর্নামেন্ট এলেই যেন নিভে যায় সায়িম ও আঘার আলো। এশিয়া কাপ ব্যর্থতার পর এখন বিশ্বমঞ্চে এসেও তাদের এই বেহাল দশায় ভীষণ বেগ পেতে হচ্ছে দলকে।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে ১৪ ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ১৩০ রান সংগ্রহ করতে পেরেছেন সায়িম। বছর জুড়ে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ ও ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ গুলো দাপিয়ে বেড়ানো এই পাকিস্তানি ওপেনার আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে ম্যাচ প্রতি দশ রান করেও সংগ্রহ করতে পারেননি।

এশিয়া কাপের ব্যর্থতার পর যখন সালমান আঘার দলে থাকা নিয়ে হাজারো প্রশ্ন উঠেছিল, ঠিক তখনই দ্বিপাক্ষিক সিরিজে দাপুটে পারফরম্যান্স করে তিনি ফিরেছিলেন নতুন রূপে। বিশ্বকাপে তাকে ঘিরে সমর্থকদের প্রত্যাশাও ছিল আকাশচুম্বী, কিন্তু বিশ্বমঞ্চে নেমেই যেন আবারও ব্যর্থ তিনি।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে ১২ ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে সব মিলিয়ে মাত্র ১৩২ রান সংগ্রহ করেছেন তিনি। ম্যাচ প্রতি নিয়েছেন ১২ রান করে। এমনকি স্ট্রাইকরেটটাও দুই অঙ্কের।
প্রতিটি ম্যাচের পর বাবর আজমকে টি-টোয়েন্টি দল থেকে ছেঁটে ফেলার যৌক্তিক দাবি উঠলেও, লোকচক্ষুর আড়ালে থেকে যাচ্ছেন এই দুই ব্যর্থ সৈনিক। ধারাবাহিকভাবে অধারাবাহিক এই ক্রিকেটারদের ভবিষ্যত নিয়ে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড কী ভাবছে, তা-ই এখন প্রশ্নের বিষয়।

বিশ্বকাপ থেকে এক প্রকার ছিটকে পড়া পাকিস্তানের এই ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে এখন শুধু বাবরের সমালোচনায় সমাধান খুঁজলে চলবে না, বরং সায়িম-আঘাদের মতো পারফর্মারদের দায়বদ্ধতা নিয়েও কঠোর ভাবনার সময় এসেছে।










