ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) ২০২৬ নিলামের সবচেয়ে বড় শিরোনামটি নিঃসন্দেহে ক্যামেরন গ্রিন। কলকাতা নাইট রাইডারসের হয়ে তাঁর নামের পাশে উঠেছে রেকর্ড ২৫ কোটি ২০ লাখ রুপি। অঙ্কটা দেখলে চোখ কপালে ওঠাই স্বাভাবিক। সেই তুলনায় মাথিশা পাথিরানার ১৮ কোটি টাকার দাম যেন অনেকটাই ছোট মনে হয়। কিন্তু হিসাবের মারপ্যাঁচে চিত্রটা বদলে গেছে পুরোপুরি, ১৮ কোটির পাথিরানাই ২৫ কোটির গ্রিন থেকে বেশি আয় করবেন।
আইপিএলের নিয়ম, ভারতের করব্যবস্থা এবং খেলোয়াড়দের নিজ নিজ দেশের ট্যাক্স আইন, সব মিলিয়ে হিসাব কষলে এমন এক বাস্তব চিত্র সামনে আসে, পাথিরানাই শেষ পর্যন্ত গ্রিনকে আর্থিক হিসাবে পেছনে ফেলতে পারেন।
আইপিএলের ২০২৬ মিনি নিলামেই একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম চালু হয় বিদেশি খেলোয়াড়দের জন্য। নিয়মটি হলো, নিলামে দর ১৮ কোটির বেশি উঠতে পারে, কিন্তু বিদেশি খেলোয়াড়ের হাতে যে বেতন যাবে, তার সর্বোচ্চ সীমা ১৮ কোটিই। এই সীমার অতিরিক্ত অংশ বিসিসিআইয়ের একটি প্লেয়ার ওয়েলফেয়ার ব্যবস্থায় জমা হবে। ফলে দুজনেরই আইপিএল থেকে প্রাপ্য মোট মূল্য দাঁড়ায় ১৮ কোটি।

ভারতে নন-রেসিডেন্ট ক্রীড়াবিদদের আয়ের ওপর নির্দিষ্ট হারে কর কাটা হয়। আইনের ধারা অনুযায়ী, মোট আয়ের ওপর ২০ শতাংশ কর বসে, তার সঙ্গে যোগ হয় সারচার্জ ও ৪ শতাংশ সেস। বড় অঙ্কের আয়ের ক্ষেত্রে সারচার্জের হার সর্বোচ্চ ৩৭ শতাংশ পর্যন্ত যেতে পারে।
এই হারগুলো ধরে ১৮ কোটি টাকার একটি গড় হিসাব করলে দেখা যায়, উৎসে কর কাটার পর কার্যকরভাবে প্রায় ২৮.৫ শতাংশ কমে যায়। ফলে দুজনের হাতেই ভারতে পাওয়া অর্থ দাঁড়ায় আনুমানিক ১২ কোটি ৮৭ লাখ।
আসল পার্থক্য তৈরি হয় নিজের দেশের মাটিতে। অস্ট্রেলিয়ার কর নিবাসী হিসেবে অস্ট্রেলিয়া গ্রিনের বিশ্বব্যাপী আয়ের ওপর কর আরোপ করে। সেখানে সর্বোচ্চ করের হার প্রায় ৪৫ শতাংশ। অন্যদিকে, পাথিরানার ক্ষেত্রে শ্রীলঙ্কার নবকার্যকর হওয়া নিয়মটি বড় ভূমিকা রাখে। ওই নিয়ম অনুযায়ী, বিদেশে অর্জিত আয় যদি বৈদেশিক মুদ্রায় ব্যাংকের মাধ্যমে দেশে আনা হয়, তবে নির্দিষ্ট শর্তে তা ১৫ শতাংশ হারে করযোগ্য হতে পারে।











