ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) মঞ্চে বরাবরই এক অদম্য কিন্তু অতৃপ্ত শক্তির নাম পাঞ্জাব কিংস। কখনো ঝড়ের বেগে শুরু করে মাঝপথে খেই হারিয়ে ফেলা, আবার কখনো খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়ানো, এই অনিশ্চয়তাই দলটির ডিএনএ। তবে ২০২৫ সালের রানার্স আপ তকমা গায়ে মেখে এবার ২০২৬ এর আঙিনায় যখন পাঞ্জাব পা রাখছে, তখন তাদের চোখেমুখে কেবলই প্রথম শিরোপার তৃষ্ণা।
গত মৌসুমে দীর্ঘ এক দশকের খরা কাটিয়ে ফাইনালে উঠেছিল পাঞ্জাব। ২০১৪ সালের পর ২০২৫ ছিল তাদের জন্য পুনর্জন্মের বছর। যদিও রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুর কাছে হেরে শিরোপা ছোঁয়া হয়নি, কিন্তু রিকি পন্টিংয়ের মগজাস্ত্র আর শ্রেয়াস আইয়ারের ধুরন্ধর নেতৃত্বে দলটি যেন পুরোপুরি বদলে গেছে। গতবারের সেই দাপুটে পারফরম্যান্সই এবার ভক্তদের মনে আশার প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখছে।
গত মৌসুমে পাঞ্জাবের সাফল্যের স্তম্ভ ছিল তাদের ওপেনিং জুটি। প্রভসিমরান সিং ও প্রিয়াংশ আর্য – গত আসরে এই দুই হার্ -হিটারের তান্ডবে কেঁপেছে বড় বড় বোলিং লাইনআপ। প্রভসিমরানের ৫৪৭ রান আর প্রিয়াংশের ৪৭৫ রানের অবদানই ছিল দলটির জয়ের ভিত।

মিডল অর্ডারে নোঙর হিসেবে আছেন খোদ অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার। গতবারের সাফল্যে ব্যাট হাতে পাঞ্জাবের ডেরায় সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন তিনিই। ১৭ ম্যাচে নামের পাশে যোগ করেছিলেন ৬০৪ রান। এবারও পাঞ্জাবের ব্যাটিং লাইনআপের মূল কারিগর থাকছেন নিঃসন্দেহে শ্রেয়াসই। সঙ্গে আছেন নেহাল ওয়াধেরা ও শশাঙ্ক সিং এর মতো ধারাবাহিক পারফর্মাররা। মার্কাস স্টয়নিস কিংবা আজমতউল্লাহ উমরজাইয়ের মতো অলরাউন্ডারদের উপস্থিতি দলের ব্যাটিং ও বোলিং গভীরতায় অনন্য মাত্রা যোগ করবে।
বোলিংয়ে আর্শদ্বীপ সিং ও দক্ষিণ আফ্রিকান অলরাউন্ডার মার্কো ইয়ানসেনের হাত ধরে গত বছর অনেক অসাধ্য সাধিত হয়েছে। এবার তাদের সঙ্গে জেভিয়ার বার্টলেট যুক্ত হওয়ায় পেস আক্রমণ পেয়েছে নতুন মাত্রা। আর মাঝের ওভারে প্রতিপক্ষকে বোকা বানাতে প্রস্তুত যুজবেন্দ্র চাহাল ও হারপ্রিত ব্রারের স্পিন জুটি।
পাঞ্জাব কিংসের জন্য ক্রিকেট কেবল একটি খেলা নয়, এটি এক দীর্ঘ অপেক্ষার নাম। যে অপেক্ষার প্রহর গুনছে মোহালির প্রতিটি ঘাস, চণ্ডীগড়ের প্রতিটি অলিগলি। দশ বছর পর গতবার তারা ফাইনালের দুয়ারে কড়া নেড়েছিল, কিন্তু ভাগ্যের চাবিটা ঠিকঠাক মেলেনি। এবার কী তারা পারবে সেই আক্ষেপ ঘুচিয়ে নামের পাশে ‘কিংস’ শব্দটিকে যথার্থতা দিতে?












