হোবার্ট মহাকাব্যের রচয়িতা গিলক্রিস্ট

জয়ের জন্য তখনও লাগে ২৪৩ রান। এমন সময় ক্রিজে আসেন অ্যাডাম গিলক্রিস্ট। বলে রাখি, এটা ছিল গিলক্রিস্টের ক্যারিয়ারের মাত্র দ্বিতীয় টেস্ট! নিয়মিত উইকেটরক্ষক ইয়ান হিলিকে সরিয়ে আগের টেস্টেই তাঁর অভিষেক হয়েছে।

টেস্টের চতুর্থ ইনিংসে সর্বকালের সেরা ইনিংস কোনটি? এ প্রসঙ্গে বেশ তর্ক-বিতর্ক চলছে গত কয়েকদিন ধরে। প্রায় সবার আলোচনাতেই ঘুরেফিরে আসছে কেবল তিনটি নাম। ব্রায়ান লারা (১৫৩*), কুশল পেরেরা (১৫৩*) এবং বেন স্টোকস (১৩৫*)।

এখন এই তিনটি ইনিংসকে যদি ‘টপ থ্রি’ ধরে নিই, তাহলে চতুর্থ সেরা ইনিংস বলবেন কোনটিকে? আপনাদের কাছে হয়ত এই প্রশ্নের অনেক উত্তর পাওয়া যাবে কিন্তু আমার কাছে উত্তর একটাই। গিলক্রিস্টের ১৪৯*, পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৯৯৯ সালে হোবার্টে।

শুরুতেই বলে রাখি, প্রায় এক ‍যুগ আগে ওয়াসিম, ওয়াকার, শোয়েব, সাকলাইন আর আজহার মেহমুদকে নিয়ে গড়া বিশ্বের সেরা বোলিং আক্রমণ ছিল পাকিস্তানের। তো এরকম দুর্ধর্ষ বোলিং লাইনআপের বিপক্ষে চতুর্থ ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার টার্গেট দাঁড়িয়েছিল ৩৬৯ রান। তখনকার দিনে ফোর্থ-ফিফথ ডে’র পিচে এই রান তাড়া করে জেতা অনেকটা হিমালয় পর্বত জয় করার মতই ব্যাপার ছিল।

গ্রেগ ব্লিউয়েট (২৯) আর মাইকেল স্ল্যাটারের (২৭) উদ্বোধনী জুটি অস্ট্রেলিয়াকে একটা ‘মোটামুটি’ শুরু এনে দিলেও একসময় নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে তারা। অধিনায়ক স্টিভ ওয়াহ করেছিলেন ২৮ রান; মার্ক ওয়াহ আর রিকি পন্টিং দুজনেই ফিরে যান ০ রানে! ফলে মাত্র ১২৬ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। অথচ জয়ের জন্য তখনও লাগে ২৪৩ রান।

এমন সময় ক্রিজে আসেন অ্যাডাম গিলক্রিস্ট। বলে রাখি, এটা ছিল গিলক্রিস্টের ক্যারিয়ারের মাত্র দ্বিতীয় টেস্ট! নিয়মিত উইকেটরক্ষক ইয়ান হিলিকে সরিয়ে আগের টেস্টেই তাঁর অভিষেক হয়েছে।

তো গিলক্রিস্ট সেদিন নেমেই স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে শুরু করলেন কাউন্টার অ্যাটাক। বিশ্বস্ত সহচর হিসেবে পাশে পেলেন জাস্টিন ল্যাঙ্গারকে। বলে রাখা উচিত, অস্ট্রেলিয়া দলে ল্যাঙ্গারের জায়গাটা কিন্তু তখন বেশ নড়বড়ে ছিল। ল্যাঙ্গার আসলে তখনও ঠিক ‘ল্যাঙ্গার’ হয়ে ওঠেন নি। ব্যাট করতেন তিন নম্বরে; চার বছরের টেস্ট ক্যারিয়ারে টেস্ট খেলেছেন সাকুল্যে আটটি!

গিলক্রিস্ট নামার পর চতুর্থ দিনের শেষ সেশনটা ডমিনেট করেছিল অস্ট্রেলিয়ানরাই। দিনশেষে স্বাগতিকদের স্কোর দাঁড়াল ১৮৮/৫। ল্যাঙ্গার ৪৫* এবং গিলক্রিস্ট অপরাজিত ছিলেন ৫২ রানে।

পঞ্চম দিনেও একই অবস্থা। গিলক্রিস্ট-ল্যাঙ্গার জুটিকে যেন থামানোই যাচ্ছিল না। ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে দুজনে মিলে যোগ করলেন ২৩৮ রান! সর্বকালের অন্যতম সেরা, ক্লাসিক এক জুটি! একদিকে লক্ষ্য পূরণে অবিচল ল্যাঙ্গারের প্রতিরোধ আর অন্যদিকে, জয়ের নেশায় উন্মত্ত গিলক্রিস্টের আগ্রাসী স্ট্রোকপ্লে!

টার্গেট থেকে মাত্র পাঁচ রান দূরে থাকতে ল্যাঙ্গারকে আউট করে শেষমেশ জুটিটা ভেঙেছিলেন সাকলাইন মুশতাক। আর উইনিং শটটা এসেছিল গিলক্রিস্টের ব্যাট থেকে।

১২ বাউন্ডারিতে ল্যাঙ্গার করেছিলেন ২৯৫ বলে ১২৮ রান। আর ১৮ টি চার ও একটি ছক্কার সাহায্যে গিলক্রিস্ট খেলেছিলেন ১৬৩ বলে ১৪৯ রানের বিধ্বংসী এক ইনিংস। ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি হাঁকানোর জন্য এর চাইতে ভালো উপলক্ষ বোধ হয় আর হতে পারত না!

গিলক্রিস্টের ১৪৯* নিঃসন্দেহে একটি কালজয়ী ইনিংস। সর্বকালের অন্যতম সেরা বোলিং আক্রমণকে নিয়ে গিলক্রিস্ট যেভাবে ছেলেখেলা করেছিলেন, বিশেষ করে ফিফথ ডে’র উইকেটে সাকলাইনের মত অফ স্পিনারকে তিনি যেভাবে সামলেছিলেন তা ছিল বলার বাইরে।

এ প্রসঙ্গে উইজডেন লিখেছিল, ‘The way he (Gilchrist) took apart Saqlain with his booming cover drives, clockwork sweeps and massive pulls over mid-wicket gave the world one of the first glimpses of what Adam Gilchrist was capable of.’

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এর আগে সর্বোচ্চ তাড়া করা ছিল ৩৩২ রান। প্রায় ৭১ বছরের পুরনো রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়া ‘মনুমেন্টাল’ এই রান চেজে গিলির ইনিংসের ইম্প্যাক্ট ছিল সবচেয়ে বেশি। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় ল্যাঙ্গারের ২৯৫ বলে ১২৮ রানের ইনিংসটাও কোন অংশে কম তাৎপর্যপূর্ণ ছিল না।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

আফগান ঘূর্ণির মায়াজালে ধরাশায়ী হবে মিরাজ-রাজারা?

তবে স্পিনের লড়াইয়ে বাংলাদেশকেও খাটো করে দেখার অবকাশ নেই। দুই বছরের ওয়ানডে পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের স্পিনাররা শিকার করেছেন মোট ৮২টি উইকেট। যদিও চলতি বছরে ১২ ম্যাচে স্পিন থেকে বাংলাদেশের প্রাপ্তি ২৬ উইকেট, ২০২৫ সালে ১১ ম্যাচে রিশাদ, মিরাজ, তানভীর, নাসুমদের শিকার ছিল ৫৬ উইকেট। গত বছর বাংলাদেশের অধিকাংশ ম্যাচেই স্পিন সহায়ক উইকেট থাকলেও চলতি বছরে দলটি খেলেছে তুলনামূলক স্পোর্টিং উইকেটে। ফলে কন্ডিশনের সহায়তা পেলে বাংলাদেশের স্পিনাররাও যে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপে বিপর্যয় নামিয়ে আনতে সক্ষম, তার ইঙ্গিত মিলছে পরিসংখ্যানেই। রিশাদ হোসেনের আক্রমণাত্মক লেগ স্পিন, মেহেদী হাসান মিরাজের নিয়ন্ত্রিত অফ স্পিন, তানভীর ইসলামের বাঁহাতি অর্থোডক্স স্পিনের সঙ্গে নতুন সংযোজন রহস্য স্পিনার আলিস আল ইসলাম। বৈচিত্র্য আর কৌশলের সমন্বয়ে প্রতিপক্ষকে মরণকামড় দিতে মরিয়া থাকবে বাংলাদেশও।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Share via
Copy link