রাহুলের মোহনীয় শতক!

একটা শান্ত-শীতল সেঞ্চুরি, লোকেশ রাহুলের আরও এক ক্লাসিকাল নক। দিনে দিনে যেন নিজের ব্যাটকে অজেয় করে তুলছেন তিনি। সেই সাথে একা হাতে আগলে রাখছেন দলকে। এই রাহুলের ব্যাট যতটা না মোহনীয়, প্রতিপক্ষের জন্য ততটাই চাপা এক আতঙ্ক।

একটা শান্ত-শীতল সেঞ্চুরি, লোকেশ রাহুলের আরও এক ক্লাসিকাল নক। দিনে দিনে যেন নিজের ব্যাটকে অজেয় করে তুলছেন তিনি। সেই সাথে একা হাতে আগলে রাখছেন দলকে। এই রাহুলের ব্যাট যতটা না মোহনীয়, প্রতিপক্ষের জন্য ততটাই চাপা এক আতঙ্ক।

ওয়েস্ট ইন্ডিজকে মাত্র ১৬২ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পর যখন গুটি গুটি পায়ে ক্রিজে এলেন রাহুল, আহমেদাবাদের বাইশ গজে নেমে এলো অটল এক ভরসা। একেকটা শট সীমানা দড়ি পেরিয়ে মাঠের সবুজ ঘাস ছুঁয়ে যাচ্ছে অপার স্নিগ্ধতায়।

প্রথম দিনটা ফিফটি তুলে শেষ করেছিলেন। দ্বিতীয় দিনের সকালটাও শুরু করলেন সেখান থেকেই। নেই কোনো তাড়াহুড়ো, নেই কোনো বাড়তি চাপ—মনে হচ্ছিল বাইশ গজই তাঁর চিরচেনা ঠিকানা। আর যখন ব্যাট দ্বিতীয়বার উঁচু করলেন, নামের পাশে যোগ হলো ১১তম টেস্ট সেঞ্চুরি। চলতি বছরেই এলো এর মধ্যে তিনটি।

হেলমেট খুলে চুম্বন করলেন, সিটি বাজিয়ে, ব্যাট উঁচিয়ে তিনি উদযাপন করলেন। এই সেঞ্চুরিটা যে একটু বিশেষ। ঘরের মাঠে দীর্ঘ নয় বছর পর আরও এক সেঞ্চুরির দেখা পেলেন। শেষবার নিজের দেশে ব্যাট উচিয়ে ধরেছিলেন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২০১৬ সালে।   এবারের শতক তাই যেন রাহুলের জন্য শুধু পরিসংখ্যান নয়, এক আবেগঘন পুনর্জাগরণ।

এই রাহুলকেই তো দল থেকে ছিটকে ফেলা হয় গতবছর। ইনজুরি, সমালোচনা আর হতাশার মাঝে যেন নিজেকে হারিয়ে খুঁজছিলেন। অবশেষে পেলেন, তবে এবার ভারতের ভরসা এলেন। টেকনিক, ধৈর্য আর পরিণত ইনিংসে ভর করে আবারও যেন জানান দিলেন, ভারতীয় ব্যাটিং লাইনে তিনি এখন অপরিহার্য।

তাই হয়তো শতক হাঁকানো রাহুলের চোখেমুখে কেবল প্রশান্তির ছাপ।  এই ইনিংস যে শুধু রানের মাইলফলক নয়, বরং বিশ্বাস জাগানিয়া এক বার্তা—লোকেশ রাহুল এখন ভারতের ব্যাটিং স্তম্ভ।

লেখক পরিচিতি

প্রত্যয় হক কাব্য

স্বপ্ন লেখার কি-বোর্ড

Share via
Copy link