প্রথম ১০ বলে তাঁর রান ছিল মাত্র ১৪। ইনিংসের শুরুটা ছিল অদ্ভুত শান্ত, ধীর, অনেকটা ঝড়ের আগের নিস্তব্ধতার মতো। পাতিদার যেন সময় নিচ্ছিলেন, উইকেটের ভাষা বুঝছিলেন, বোলারদের পড়ছিলেন। কিন্তু সেই শান্ত মুখোশের আড়ালে যে ভয়ংকর বিস্ফোরণ জমে উঠছিল, সেটার আভাস পায়নি গুজরাট।
১৪ ওভার পর্যন্ত সবকিছু ঠিকঠাকই চলছিল। স্কোরবোর্ডে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুর রান তখন ১৪০। রান খুব একটা লাগামছাড়া হয়নি। চাইলেই এক ওভারেই ঘুরে যেতে পারে গুজরাটের ভাগ্য। কিন্তু এরপরই বদলে গেল দৃশ্যপট। মাঠে নামল এক তাণ্ডব, যা মুহূর্তেই ভেঙেচুরে দিল গুজরাটের সাজানো বাগান।

পাতিদার যা শুরু করলেন, সেটাকে ক্রিকেট বলা অন্যায়। ওটা ছিল ভিডিও গেমসের কোনো নিষ্ঠুর লেভেল, যেখানে বোলারদের কাজ শুধু দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ধ্বংস দেখা। কখনও বল ছুটে যাচ্ছে এক্সট্রা কাভারের ওপর দিয়ে, কখনও ডিপ মিড উইকেট তাকিয়ে দেখছে সাদা বলের আকাশ ভ্রমণ। সামনে রশিদ খান থাকুক কিংবা অন্য কেউ, পাতিদারের ব্যাট তখন কাউকেই আলাদা গুরুত্ব দেয়নি।
২১ বলেই ফিফটি ছুঁয়ে ফেলার পর যেন তাঁর শরীর থেকে সব বাঁধন খুলে গেল। প্রলয়নৃত্য শুরু করলেন বাইশ গজের বুকে। চার হাত চওড়া সেই ব্যাট প্রতিটা আঘাতে লিখে যাচ্ছিল ধ্বংসের কবিতা। কোনো পরিকল্পনা, কোনো বোলিং পরিবর্তন কিছুই আর তাঁকে থামাতে পারবেনা, তিনি ততক্ষণে সবকিছুর ঊর্ধ্বে।
শেষমেষ ইনিংস থামল, তবে পাতিদারকে এই রাতে আর থামানো যায়নি। নামের পাশে তখন ৩৩ বলে ৯৩ রান। হাঁকিয়েছে নয়খানা ছক্কা, স্ট্রাইক রেটটাও তাই ২৮১। এমন ঝড়ের পর ব্যাঙ্গালুরুর রানও আকাশ ছুঁয়েছে, সেটা ২৫৪।

পুরো আসরজুড়ে যতবার ব্যাঙ্গালুরুর ওপর বিপদের ঘণ্টা বেজেছে, ততবারই ব্যাট হাতে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন পাতিদার। সেই দৃশ্য আরও একবার দেখালেন কোয়ালিফায়ারে এসে। প্রতিপক্ষকে বলে গেলেন একবার সুযোগ দিলে তিনি ম্যাচ কেড়ে নিতে জানেন। সেই সাথে বুঝিয়ে দিলেন ‘নেতারা এমনই হয়।’
Share via:










