রজত পাতিদারের তাণ্ডবলীলা!

কিছু ভুলের শাস্তি স্কোরবোর্ডে নয়, পুরো ম্যাচজুড়ে দিতে হয়। আর পাতিদারের মতো ব্যাটারকে দ্বিতীয় জীবন দেওয়া মানেই আগুনের সামনে শুকনো বন ফেলে রাখা।

২০ রানের মাথায় কাগিসো রাবাদা হাতছাড়া করলেন রজত পাতিদারের এক মহামূল্যবান ক্যাচ। তখনও কেউ বুঝতে পারেনি, গুজরাট আসলে নিজেদের হাতেই ডেকে আনছে সর্বনাশ। কিছু ভুলের শাস্তি স্কোরবোর্ডে নয়, পুরো ম্যাচজুড়ে দিতে হয়। আর পাতিদারের মতো ব্যাটারকে দ্বিতীয় জীবন দেওয়া মানেই আগুনের সামনে শুকনো বন ফেলে রাখা।

প্রথম ১০ বলে তাঁর রান ছিল মাত্র ১৪। ইনিংসের শুরুটা ছিল অদ্ভুত শান্ত, ধীর, অনেকটা ঝড়ের আগের নিস্তব্ধতার মতো। পাতিদার যেন সময় নিচ্ছিলেন, উইকেটের ভাষা বুঝছিলেন, বোলারদের পড়ছিলেন। কিন্তু সেই শান্ত মুখোশের আড়ালে যে ভয়ংকর বিস্ফোরণ জমে উঠছিল, সেটার আভাস পায়নি গুজরাট।

১৪ ওভার পর্যন্ত সবকিছু ঠিকঠাকই চলছিল। স্কোরবোর্ডে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুর রান তখন ১৪০।  রান খুব একটা লাগামছাড়া হয়নি। চাইলেই এক ওভারেই ঘুরে যেতে পারে গুজরাটের ভাগ্য। কিন্তু এরপরই বদলে গেল দৃশ্যপট। মাঠে নামল এক তাণ্ডব, যা মুহূর্তেই ভেঙেচুরে দিল গুজরাটের সাজানো বাগান।

পাতিদার যা শুরু করলেন, সেটাকে ক্রিকেট বলা অন্যায়। ওটা ছিল ভিডিও গেমসের কোনো নিষ্ঠুর লেভেল, যেখানে বোলারদের কাজ শুধু দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ধ্বংস দেখা। কখনও বল ছুটে যাচ্ছে এক্সট্রা কাভারের ওপর দিয়ে, কখনও ডিপ মিড উইকেট তাকিয়ে দেখছে সাদা বলের আকাশ ভ্রমণ। সামনে রশিদ খান থাকুক কিংবা অন্য কেউ, পাতিদারের ব্যাট তখন কাউকেই আলাদা গুরুত্ব দেয়নি।

২১ বলেই ফিফটি ছুঁয়ে ফেলার পর যেন তাঁর শরীর থেকে সব বাঁধন খুলে গেল। প্রলয়নৃত্য শুরু করলেন বাইশ গজের বুকে। চার হাত চওড়া সেই ব্যাট প্রতিটা আঘাতে লিখে যাচ্ছিল ধ্বংসের কবিতা। কোনো পরিকল্পনা,   কোনো বোলিং পরিবর্তন কিছুই আর তাঁকে থামাতে পারবেনা, তিনি ততক্ষণে সবকিছুর ঊর্ধ্বে।

শেষমেষ ইনিংস থামল, তবে পাতিদারকে এই রাতে আর থামানো যায়নি। নামের পাশে তখন ৩৩ বলে ৯৩ রান। হাঁকিয়েছে নয়খানা ছক্কা, স্ট্রাইক রেটটাও তাই ২৮১। এমন ঝড়ের পর ব্যাঙ্গালুরুর রানও আকাশ ছুঁয়েছে, সেটা ২৫৪।

পুরো আসরজুড়ে যতবার ব্যাঙ্গালুরুর ওপর বিপদের ঘণ্টা বেজেছে, ততবারই ব্যাট হাতে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন পাতিদার। সেই দৃশ্য আরও একবার দেখালেন কোয়ালিফায়ারে এসে।  প্রতিপক্ষকে বলে গেলেন একবার সুযোগ দিলে তিনি ম্যাচ কেড়ে নিতে জানেন। সেই সাথে বুঝিয়ে দিলেন ‘নেতারা এমনই হয়।’

লেখক পরিচিতি

স্টাফ রিপোর্টার

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Share via
Copy link