মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে এদিন আর জয় বঞ্চিত হতে হয়নি রংপুর রাইডার্সকে। ধুন্ধুমার ব্যাটিংয়ে তিনি এদিন জয় লিখলেন দলের পক্ষে। শঙ্কা উড়িয়ে, ভীষণ চাপের মুখে দলের তরী ভেড়ালেন জয়ের বন্দরে। সিলেট টাইটান্সকে পার্থক্য বোঝাল রংপুর রাইডার্স।
টসে হেরে সিলেট টাইটান্স নামে ব্যাটিংয়ে। যথারীতি আবারও তাদের টপ অর্ডার ব্যর্থ। এদিন পারভেজ হোসেন ইমনও বেশিদূর এগোতে পারেননি। ১৯ বলে তার ১৫ রানের ইনিংসটি পুরোপুরি তার বিপরীত ঘরনার ইনিংস। এরপর ইনিংস মেরামতের দায়িত্ব নেন আফিফ হোসেন ধ্রুব। তাকে সঙ্গ দেন ইথান ব্রুকস।
এই দুইজনের জুটি থেকে সিলেটের স্কোরবোর্ডে যুক্ত হয় ৬৬টি মহাগুরুত্বপূর্ণ রান। আফিফ ছিলেন ব্রুকসের তুলনায় আক্রমণাত্মক। ফিফটি করার পথে এগিয়ে যাচ্ছিলেন বা-হাতি এই ব্যাটার। কিন্তু মুস্তাফিজুর রহমানের ৪০১ তম টি-টোয়েন্টি উইকেটে পরিণত হতে হয়েছে তাকে। ৩১ বলে ৪৬ রানেই থামে আফিফের ইনিংস।

এদিন আজমতউল্লাহ ওমরজাইও নিজের ইনিংসটিকে দীর্ঘায়িত করতে পারেননি। রংপুর রাইডার্সের নিয়ন্ত্রিত ডেথ ওভার সিলেটের সংগ্রহকে সংকুচিত করে দেয়। বিশেষ করে মুস্তাফিজুর রহমানের দু’টি ওভার। ১৮ ও ২০ তম ওভারে মুস্তাফিজ খরচ করেন মোটে ১৪টি রান, তুলে নেন দুইটি উইকেট। যার ফলে ১৪৪ রানেই থেমে যায় সিলেটের রান তোলার মিশন।
মুস্তাফিজ ছাড়াও রংপুরের ফাহিম আশরাফ, ১৮ রানের বিনিময়ে শিকার করেন তিনটি উইকেট। বোলারদের কল্যাণে সিলেটকেও স্বল্প রানে আটকে ফেলে রংপুর রাইডার্স। বাকি কাজটা করত হতো তাদের ব্যাটারদের। রাজশাহী ওয়ারিয়ার্সের বিরুদ্ধে সুপার ওভার রোমাঞ্চে ম্যাচ হেরেছিল রংপুর। তাইতো জয়ের জন্য মুখিয়ে ছিল রাইডার্স ব্যাটাররা।
কিন্তু খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি তাদের ব্যাটিং অর্ডার। ডেভিড মালান ১৯ রান তুলতেই ২০ বল খরচ করে ২১ বলের মাথায় আউট। লিটন দাসও জড়তা নিয়ে ব্যাটিং করে যাচ্ছিলেন। তাওহীদ হৃদয় ১১ বলে ৬ রান করে আউট। এরপর কাইল মায়ার্স ও লিটন মিলে রংপুরের জয়ের সম্ভাবনা জ্বালিয়ে রেখেছিলেন। কিন্তু স্বল্প দূরত্বে এই দুই ব্যাটার প্যাভিলিয়নে ফিরে গেলেই ভীষণ চাপে পড়ে যায় রংপুর রাইডার্স।

সেই চাপকে ২১২ স্ট্রাইকরেটের টর্নেডোতে ধূলিসাৎ করে দেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তার ১৬ বলে ৩৪ রানের ইনিংসটি দলের জয়ের রেখেছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। তার সাথে খুশদিল শাহয়ের যুগলবন্দীতে জয়ের রাস্তা পরিষ্কার হয়েছে রংপুর রাইডার্সের। ছয় উইকেট ও সাত বল বাকি রেখেই জয় ছিনিয়ে নেয় রংপুর রাইডার্স। এদিন সিলেটের পক্ষে একটি করে উইকেট নিয়েছেন চারজন বোলার। চাপ সৃষ্টি করলেও রংপুরকে দমাতে পারেনি কোন বোলার।











