মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, সত্যিকারের ‘ফিনিশার’

বরাবরই মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ মুখে কোন প্রতিবাদ করেন না। তার প্রতিবাদের ভাষা হয়ে ওঠে মাঠের পারফরমেন্স।

রিভার্স সুইপে ঝাড়ু মেরে সকল সমালোচনা উড়িয়ে দিলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। আগের দিন এক বলে এক রানের সমীকরণ মেলাতে ব্যর্থ হয়ে তুমুল সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন তিনি। কিন্তু ঠিক তার পরের দিনেই রিয়াদ দেখালেন ‘ফিনিশার’ তকমার যথার্থতা। ভীষণ চাপের মুখে আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে রংপুর রাইডার্সকে ম্যাচ জেতালেন ডানহাতি এই ব্যাটার।

বরাবরই মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ মুখে কোন প্রতিবাদ করেন না। তার প্রতিবাদের ভাষা হয়ে ওঠে মাঠের পারফরমেন্স। যখনই তাকে নিয়ে হাসি-ঠাট্টার রোল পড়ে গেল সর্বত্র, ঠিক তখনই তিনি হয়ে উঠলেন রুদ্র। মেহেদী হাসান মিরাজকে তুলোধুনো করলেন তিনি। তিন চার ও এক ছক্কায় চার বলে রিয়াদ আদায় করলেন ১৮ রান।

চারিদিকে তখন রাজ্যের চাপ। দুই সেট ব্যাটার সদ্যই ফিরেছেন প্যাভিলিয়নে। ৩১ বলে ৫০ রান নিতে হবে জয়ের জন্য। আগের দিনের চাইতেও বেশ জটিল এদিনের সমীকরণ। কিন্তু ঘন কুয়াশার মত ঘিরে ধরা চাপকে সূর্যের তীব্র তাপে ভষ্ণ করে দিয়েছেন রিয়াদ। মারকাটারি ব্যাটিংয়ের সত্যিকারের প্রতিমূর্তি হয়ে উঠেছিলেন তিনি।

উইকেটের চারিপাশে, বলের মেরিট বুঝে শট চালিয়েছেন। ফিল্ডিংয়ের ফাঁকা জায়গাগুলো খুঁজে খুঁজে বাউন্ডারি আদায় করেছেন। জটিল সমীকরণকে এক একটি দারুণ শটে সরল করেছেন পানির মত। এদিন তিনি ব্যাট করেছেন প্রায় ২১২ স্ট্রাইকরেটে। একটা পর্যায়ে তো ৭ বলে ২১ রান নিয়ে, স্ট্রাইকরেট ছিল তার ৩০০।

সেখান থেকে প্রয়োজনের খাতিরেই একটু রয়েসয়ে পরবর্তীতে ব্যাট চালিয়েছেন। ১৬ বলে ৩৪ রানে অপরাজিত থেকেছেন। পাঁচ খানা চার ও এক খানা ছক্কায় দলের জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছেড়েছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তার সাথে যোগ্য সঙ্গ দিয়েছেন খুশদিল শাহও। এই দুইজনের যুগলবন্দীতে আর কোন চাপই কাবু করতে পারেনি রংপুর রাইডার্সকে। সিলেট টাইটান্সের দেওয়া ১৪৫ রানের লক্ষ্যমাত্রা রংপুর উৎরে গেছে সাত বল ও ছয় উইকেট বাকি থাকতেই।

 

Share via
Copy link