হাল্যান্ডের নরওয়েকে হারিয়ে পর্তুগালের জয়!

উয়েফা নেশনস লিগের রোমাঞ্চকর দ্বৈরথে হাল্যান্ডের নরওয়েকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে মূল্যবান তিন পয়েন্ট অর্জন করেছে পর্তুগাল।

উয়েফা নেশনস লিগের রোমাঞ্চকর দ্বৈরথে হাল্যান্ডের নরওয়েকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে মূল্যবান তিন পয়েন্ট অর্জন করেছে পর্তুগাল। অসলোর উলেভাল স্টেডিয়ামে বল দখল ও আক্রমণের পরিসংখ্যানে নরওয়ে এগিয়ে থাকলেও, কাউন্টার অ্যাটাকিং ধার এবং নরওয়েজীয় রক্ষণভাগের মারাত্মক কিছু ভুলের পূর্ণ সুযোগ নিয়ে ম্যাচটি নিজেদের করে নেয় সফরকারীরা।

ম্যাচে পর্তুগালের শুরুর একাদশে বেশ কিছু ট্যাকটিকাল চমক ছিল। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে বেঞ্চে রেখে মূল স্ট্রাইকার হিসেবে নামানো হয় গনসালো রামোসকে। ফরমেশনও প্রচলিত ৪-৩-৩ থেকে বদলে করা হয় ৪-৩-১-২। যেখানে রামোসের সাথে ফরোয়ার্ড লাইনে ছিলেন জোয়াও ফেলিক্স এবং তাদের ঠিক পেছনে ‘নাম্বার টেন’ বা অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার ভূমিকায় খেলেন ব্রুনো ফার্নান্দেস।

তিন জন সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার থাকায় মাঝমাঠে নরওয়ের মার্টিন ওডেগার্ডের জন্য ক্রিয়েটিভ স্পেস তৈরি করা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। ডাইরেক্ট ফুটবলের বদলে পর্তুগাল সেন্ট্রাল কম্বিনেশন প্লে এবং দ্রুত ট্রানজিশনের ওপর জোর দেয়। এর ফলেই ১৭ মিনিটে ফেলিক্সের পা থেকে আসে প্রথম গোল।

পুরো ম্যাচে ৬২ শতাংশ বল দখলে রেখে এবং ২২টি শট নিয়ে ম্যাচটিতে স্পষ্ট প্রভাব বিস্তার করেছিল নরওয়ে। তবে ট্যাকটিকাল দিক থেকে তাদের কৌশল সবসময় কার্যকর রূপ নেয়নি। পর্তুগালের সংহত ৪-৩-১-২ ফরমেশনের কারণে সেন্ট্রাল করিডোর ব্লক থাকায় নরওয়েকে বারবার উইং দিয়ে আক্রমণে যেতে বাধ্য হতে হয়।

সেন্ট্রাল ডিফেন্ডাররা আর্লিং হাল্যান্ডকে প্রতিপক্ষ বক্সের ভেতর কড়া পাহারায় রাখেন। হাল্যান্ড পুরো ম্যাচে কয়েকটি সূক্ষ্ম সুযোগ পেলেও এবং একটি গোল করলেও মুক্তভাবে নিজের শারীরিক শক্তির ব্যবহার করার মতো জায়গা পাননি। অন্যদিকে নরওয়ের আক্রমণভাগ পুরোপুরি ওডেগার্ডের ওপর নির্ভরশীল ছিল, যাকে মাঝমাঠে বারবার আটকে দেওয়া হয়।

উচ্চমাত্রার পজেশনভিত্তিক ফুটবল খেলতে গিয়ে নরওয়ে তাদের নিজেদের ট্রানজিশনে দুর্বলতা দেখায়। ৫১ মিনিটে হাল্যান্ডের গোলে নরওয়ে খেলায় সমতা ফেরানোর পরই তাদের সবচেয়ে বড় ভুলটি ঘটে।

৫৪ মিনিটে নরওয়েজীয় গোলরক্ষক ওরজান নাইল্যান্ড ও ডিফেন্সের মধ্যে যোগাযোগহীনতার সুযোগ নিয়ে বল কেড়ে নেন গনসালো রামোস। কোচের আস্থার প্রতিদান দিয়ে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে জয়সূচক গোলটি করেন এই পর্তুগিজ স্ট্রাইকার।

​নরওয়ে দলীয় শক্তি ও কৌশলগত দিক থেকে নিজেদের মাঠে দাপট দেখালেও, পর্তুগাল দেখিয়েছে নিখুঁত কার্যকারিতা। একাদশে রোনালদোর অনুপস্থিতিতে ৪-৩-১-২ ফরমেশনের দারুণ প্রয়োগ এবং ক্ষুরধার কাউন্টার অ্যাটাকই শেষ পর্যন্ত পর্তুগালকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেয়।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

Share via
Copy link