আস্থা রাখুন, ক্লপ হতাশ করতে জানেন না

টানা কয়েক বছরের অস্থিরতা ও আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে ব্যর্থতার পর জার্মান ফুটবল পুনর্গঠনের ভার এখন ইয়ুর্গেন ক্লপের কাঁধে। ডর্টমুন্ড ও লিভারপুলে শূন্য থেকে ট্রফিজয়ী দল গড়ে তোলার ইতিহাস রয়েছে তাঁর।

হ্যান্সি ফ্লিক থেকে জুলিয়ান নাগেলসম্যান। টানা কয়েক বছরের অস্থিরতা ও আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে ব্যর্থতার পর জার্মান ফুটবল পুনর্গঠনের ভার এখন ইয়ুর্গেন ক্লপের কাঁধে। ডর্টমুন্ড ও লিভারপুলে শূন্য থেকে ট্রফিজয়ী দল গড়ে তোলার ইতিহাস রয়েছে তাঁর। অথচ দায়িত্ব গ্রহণের পরই নেশনস লিগে নড়বড়ে শুরুর জন্য নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে ক্লপের পরিকল্পনা। তবে জাতীয় দলের বর্তমান প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হয়, এই হার হঠাৎ কোনো বিপর্যয় নয়, বরং এক দীর্ঘমেয়াদি পুনর্গঠনের স্বাভাবিক অংশ।

বিশ্বমঞ্চে জার্মানির হারানো গৌরব ফেরাতে ক্লপ আপাতত দল নিয়ে নানা ধরণের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন। একেক দলের সাথে খেলাচ্ছেন একেক স্কোয়াড। অভিজ্ঞদের পাশে এনে নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেওয়াই এখন তাঁর মূল অগ্রাধিকার। এই ট্রায়াল-অ্যান্ড-এরর বা কৌশলের পরিবর্তনের কারণে মাঠের ফল সাময়িকভাবে অনুকূলে না এলেও, বড় আসরের আগে নিখুঁত স্কোয়াড তৈরির জন্য এই ঝুঁকি নেওয়া ছাড়া বিকল্প নেই।

ম্যাচ শেষে সমর্থকদের একাংশের ক্ষোভ ও শিষের জবাবেও ক্লপ তাঁর এই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রতি অনড় অবস্থান দেখিয়েছেন। তিনি তরুণ ফুটবলারদের সরাসরি সুরক্ষার চাদরে ঢেকে নিয়েছেন।

তাঁর স্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি – সব দায়ভার কোচের, তরুণ খেলোয়াড়দের ওপর কোনো আক্রমণ না করার অনুরোধ করেছেন ক্লপ। একইসাথে একটিমাত্র পরাজয়ের ওপর ভিত্তি করে পুরো দলকে কাঠগড়ায় তোলার কিংবা সবকিছু এক মুহূর্তে চূর্ণবিচূর্ণ করে দেওয়ার তাড়াহুড়োকে তিনি সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয় মনে করেন।

গ্যালারির অসন্তোষে বিস্ময় প্রকাশ করলেও ক্লপ বিশ্বাস করেন, জার্মান ফুটবলের ভবিষ্যৎ ততটাই উজ্জ্বল হবে যতটা তারা কঠোর পরিশ্রম দিয়ে গড়ে তুলবেন। তাই যেকোনো পরিস্থিতিতে এই নির্ধারিত পথেই এগিয়ে যাওয়ার পক্ষে তিনি।

​হ্যান্সি ফ্লিক বা নাগেলসম্যানের আমলে দ্রুত ফল পাওয়ার তাড়াহুড়ো জার্মান ফুটবলের মূল সংকট দূর করতে পারেনি। ইতিহাস বলে, ক্লপের প্রেস অ্যান্ড রান ট্যাকটিক্স ও দলগত মানসিকতা দাঁড় করাতে সময় লাগে। যা তিনি লিভারপুলেও প্রমাণ করেছেন। তাই ক্ষণিকের পরাজয়ে অস্থির না হয়ে, নতুনদের বিকশিত হওয়ার সুযোগ দিয়ে ক্লপের প্রক্রিয়ার ওপর আস্থা রাখাই হতে পারে জার্মানির পুনর্জাগরণের ভিত।

 

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

Share via
Copy link