দুই বাংলাদেশি টেনে তুললেন কেন্টকে!

তবে খাদে পড়ে গেলেও তো টেনে তোলা যায়। সেই দায়িত্ব একজনকে নিতে হয়। যেটা নিয়েছেন হাসান মাহমুদ। কেন্টের জার্সি গায়ে চাপিয়ে দলটার ভরসায় পরিণত হয়েছিলেন। একের পর এক ম্যাচে নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করার পাশাপাশি টেনেছেন কেন্টকে।

এক বছর আগেও ছবিটা ছিল একেবারেই অন্যরকম। ইংলিশ কাউন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে যে দলের নামের পাশে একসময় একের পর এক ট্রফি, কিংবদন্তি ক্রিকেটার আর সোনালি দিনের গল্প লেখা হয়েছে, সেই কেন্ট তখন পড়ে ছিল কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের ডিভিশন টু-এর একেবারে তলানিতে। ২০২৫ মৌসুম শেষ করেছিল তারা সবার নিচে। ওটাই কেন্টের দীর্ঘ ইতিহাসের ওপর একটা ধূসর পর্দা নামিয়ে দিয়েছিল। সেই পর্দা সরিয়ে দিলেন দুই বাংলাদেশি। হাসান মাহমুদের হাত ধরে যে পথ পাড়ি দেওয়া শুরু করেছিল, খালেদ আহমেদের হাত ধরে গন্তব্যে পৌঁছে গেল কেন্ট। দুই মৌসুমের ব্যর্থতা ছাপিয়ে আরও একবার উঠে গেল ডিভিশন ওয়ানে।

তবে খাদে পড়ে গেলেও তো টেনে তোলা যায়। সেই দায়িত্ব একজনকে নিতে হয়। যেটা নিয়েছেন হাসান মাহমুদ। কেন্টের জার্সি গায়ে চাপিয়ে দলটার ভরসায় পরিণত হয়েছিলেন। একের পর এক ম্যাচে নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করার পাশাপাশি টেনেছেন কেন্টকে।

গল্পের শুরুটা হাসানের হাতেই। জুনে কেন্টের হয়ে কাউন্টি অভিষেকেই ল্যাঙ্কাশায়ারের বিপক্ষে আগুন ঝরিয়েছিলেন বাংলাদেশের এই পেসার। প্রথম ইনিংসে নিয়েছিলেন ৩ উইকেট। পরে কেন্টের হয়ে চারটি কাউন্টি ম্যাচে তাঁর শিকার ২৬ উইকেট। শুধু সংখ্যাই নয়, তাঁর আগমন কেন্টের বোলিং আক্রমণে যে বাড়তি গতি ও ধার এনেছিল, সেটিও ছিল প্রমোশন রেসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কেন্ট নিজেও হাসানকে নিয়েছিল আন্তর্জাতিক মানের পেস যোগ করে শেষ ভাগের লড়াইকে আরও শক্তিশালী করার জন্য।

কিন্তু গল্পটা অসম্পূর্ণই থেকে যেত, যদি শেষটায় খালেদ না আসতেন। সেপ্টেম্বরের শুরুতে হাসানের সঙ্গে একই ড্রেসিংরুমে যোগ দেন খালেদ আহমেদ। চার ম্যাচের জন্য তাঁকে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তিনটি ম্যাচেই মাঠে নামেন। আর সেই তিন ম্যাচে তাঁর শিকার ১৬ উইকেট। অর্থাৎ ম্যাচপ্রতি পাঁচটিরও বেশি।

তারপর আসে ল্যাঙ্কাশায়ারের বিপক্ষে ম্যাচ। প্রমোশন রেসের চাপটা ভয় ধরাচ্ছে কেন্টের ডেরায়। সেখানেই খালেদ এসেছেন ত্রাতা হয়ে। এক ম্যাচে আট উইকেট! তাঁর বোলিংয়েই ল্যাঙ্কাশায়ারকে হারিয়ে সাত উইকেটের জয় পায় কেন্ট। সেই জয় তাদের ডিভিশন ওয়ানের পথে ধাক্কা দিয়ে এগিয়ে দেয়।

অথচ এই কেন্টের অতীতটা কেমন ছিল, ভাবুন একবার! কলিন কাউড্রেদের সেই সোনালি সময়। ১৯৬৭ থেকে ১৯৭৯, মাত্র ১৩ মৌসুমে ১১টি ট্রফি জিতেছিল তারা। কাউন্টির ইতিহাসে ছয়বার একক এবং একবার যৌথ চ্যাম্পিয়ন হওয়া দলটা কালক্রমে হারিয়ে ফেলে সেই সোনালি সময়।

হয়তো সেই দিন আর ফিরবে না সহজে, কিন্তু নবজাগরণের প্রথম স্ফুলিঙ্গটা যে জ্বলে উঠেছে, সেটা অস্বীকার করার উপায় নেই। আর এই নবজাগরণের মশাল দুই বাংলাদেশির হাতে। অন্ধকার টানেলে এরাই তো কেন্টকে আলো দেখিয়েছেন। খাদে পড়ে থাকা দলটাকে পারফরম্যান্সের দড়ি দিয়ে টেনে তুলেছেন। এক হারিয়ে যাওয়া সোনালি অতীতকে আরও একবার মাথা তুলে দাঁড় করিয়েছেন এই দুজনে।

লেখক পরিচিতি

স্টাফ রিপোর্টার

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link