বিশ্বকাপের বেদনা এবং একজন বিরাট কোহলি!

ক্রিকেটে বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ যেমন অম্লান হয়, পরাজয়ের ক্ষতের দাগও ততটাই গভীর! আর সেই বেদনাটা যদি হয় বিরাট কোহলির মতো কোনো বিশ্বসেরা ব্যাটারের, তবে তো কথাই নেই!

ক্রিকেটে বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ যেমন অম্লান হয়, পরাজয়ের ক্ষতের দাগও ততটাই গভীর! আর সেই বেদনাটা যদি হয় বিরাট কোহলির মতো কোনো বিশ্বসেরা ব্যাটারের, তবে তো কথাই নেই!

টানা দুটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জয়ের পর ভারতের ট্রফি খরা কেটেছে ঠিকই। কিন্তু, পুরোনো পরাজয়ের ট্র্যাজেডি বিরাট কোহলিকে এখনও তাড়া করে ফেরে প্রতিনিয়ত। বিশেষ করে ২০১৯ ও ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপে শিরোপার কাছাকাছি গিয়েও ভারতের ব্যর্থ হওয়ার দু:সহ স্মৃতি কোহলি কিছুতেই ভুলতে পারেন না!

২০১৯ সালের ম্যানচেস্টার সেমিফাইনালটাকে নিজের খেলোয়াড়ি জীবনের অন্যতম বড় ধাক্কা হিসেবেই দেখেন তিনি। বৃষ্টিতে দুই দিনে গড়ানো সেই ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের ২৩৯ রানের জবাবে ভারত হেরে যায় মাত্র ১৮ রানে। ৪৯তম ওভারে মাহেন্দ্র সিং ধোনির সেই হৃদয়বিদারক রানআউট আর প্রতিপক্ষের নতুন বলের আক্রমণ কোহলির বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নকে চুরমার করে দেয়।

সম্প্রতি গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি নিজেই রোমন্থন করেছেন বিশ্বকাপে হৃদয় ভাঙ্গার স্মৃতি। বিরাট বলেন, ‘২০১৯ বিশ্বকাপ ছিল আমাদের জন্য এক ধাক্কা! আমাদের সামনে মাত্র ২৪০ রানের লক্ষ্য ছিল। এরপর বৃষ্টি এল, আমরা যদি সেদিনই ব্যাট করতে পারতাম তবে হয়তো সবকিছু অন্যরকম হতো। কিন্তু, পরদিন সকালে ব্যাটে নেমে একেবারে নতুন বলের আক্রমণে আমরা পরাস্ত হই।’

সেই হার মেনে নেওয়া কঠিন ছিল উল্লেখ করে এই ডানহাতি ব্যাটার বলেন, ‘এটা হজম করা আমাদের জন্য অত্যন্ত কঠিন ছিল। আমি খুবই বিরক্ত হয়ে পড়েছিলাম। এরপর কয়েক মাসের জন্য আমি মানসিকভাবে পুরোপুরি ভেঙে পড়ি।’

এরপর আসে ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপ। ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ মিশনের শুরুতেই হার্দিক পান্ডিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে হারিয়েও পুরো টুর্নামেন্টে অসাধারণ খেলে ভারতের প্রতিটি খেলোয়াড় ধরেই নিয়েছিলেন এবার অবশেষে কাপটি তাঁদেরই হতে চলেছে। পারফরম্যান্স ও প্রতিভার এক অনবদ্য মিশেলও ছিল সেবার ভারতের স্কোয়াডে।

কিন্তু বিধি বাম! ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে আবারও কপাল পোড়ে কোহলিদের। অজিদের বিপক্ষে ৫৪ রানে ব্যাট করার সময় কোহলির লক্ষ্য ছিল বড় সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে দলকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যাওয়া। কিন্তু, প্লেইড অন হয়ে আউট হওয়ার পর বিষাদ ঘিরে ধরে তাঁকে।

বিরাট বলেন, ‘সেদিন যখন ৫৪ রানে অপরাজিত ছিলাম, তখন আমি ভাবছিলাম ১৪০-১৫০ রান করা গেলে ম্যাচটা জেতার জন্য আমরা ভালো একটা অবস্থানে পৌঁছাতে পারব। কিন্তু, আমি প্লেইড অন হওয়ার পর ব্যাপারটা গ্রহণ করতে আমার বহুদিন লেগেছে।’

২০২৩ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালের হার তাঁর কাছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুর হয়ে ২০১৬ আইপিএল ফাইনালে পরাজয়ের সমার্থক হয়ে ওঠে। তাঁর ভাষায়, ‘২০২৫ সালে আইপিএল জেতার আগে আমি যেমন ২০১৬ আইপিএল ফাইনালে হারের কথা ফ্ল্যাশব্যাক করতাম, বিশ্বকাপের ফাইনালে হারের ঘটনাটা নিয়েও আমার সেই রকম অনুভূতিই হয়।’

সে যাইহোক, কোহলির মতো খেলোয়াড়েরা কখনোই হার মানতে মাঠে নামেন না। ম্যান ইন ব্লুজদের হয়ে ৩১৪ ওয়ানডেতে রেকর্ড ৫৪টি সেঞ্চুরিসহ ১৪ হাজার ৯৪১ রান করা এই ব্যাটার বিশ্বাস করেন, বিশ্বকাপে তাঁর কাজ এখনও অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে।

২০২৭ আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপই ভারতের হয়ে নিজের শেষ বিশ্বকাপ বলে নিশ্চিত করেছেন কোহলি। জীবনের এই শেষ বিশ্বকাপ লড়াইকে সামনে রেখে আফ্রিকার ভিন্ন কন্ডিশনে নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করাই এখন তাঁর মূল অনুপ্রেরণা!

লেখক পরিচিতি

সাব এডিটর

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link