বাপ কা বেটা, সিপাহী কা ঘোড়া!

তাঁর জিনেই যেন লুকিয়ে ছিল ক্রিকেটের অনবদ্য পরাক্রম! যেন ‘বাপ কা বেটা, সিপাহী কা ঘোড়া’-র মতো ব্যাপার।

তাঁর জিনেই যেন লুকিয়ে ছিল ক্রিকেটের অনবদ্য পরাক্রম! যেন ‘বাপ কা বেটা, সিপাহী কা ঘোড়া’-র মতো ব্যাপার। বুলাওয়েতে জিম্বাবুয়ের ঘরোয়া অনূর্ধ্ব-১৪ টুর্নামেন্টের এক ওয়ানডেতে সিবিসির মুখোমুখি হয় হেলেনিক একাডেমি।

দলটির হয়ে জিম্বাবুয়ের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সিকান্দার রাজার যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে নিজের রাজকীয় আগমনই জানান দেন ১৩ বছর বয়সী ছেলে ঈসা বাট। সবাইকে স্তব্ধ করে তিনি খেলেন ১৪৬ বলে ২৭৯ প্রাণের অতিমানবীয় ইনিংস।

হেলেনিকের ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই ওয়ান ডাউনে ব্যাট করতে নামেন ঈসা। এরপরই এক অবিশ্বাস্য মহাকাব্য রচনায় হাত দেন তিনি। দীর্ঘ ২৫৩ মিনিট উইকেটে থেকে ২৭৯ রানের এক দানবীয় ইনিংস খেলেন এই উদীয়মান কিশোর। ১৯১.১০ স্ট্রাইক রেটের এই ঝোড়ো ইনিংসে ছিল ৩০টি চার এবং ২০টি চোখধাঁধানো ছক্কার মার। অর্থাৎ, কেবল চার-ছক্কা থেকেই তিনি সংগ্রহ করেন ২৪০ রান।

চতুর্থ উইকেট জুটিতে তাওয়ানান্যাশা জভবোকে সঙ্গী হিসেবে পেয়ে আরও বিধ্বংসী হয়ে ওঠেন ঈসা। অবিশ্বাস্যভাবে মাত্র ১৬২ বলে তাঁরা স্কোরবোর্ডে যোগ করেন ৩০৭ রান। যার সুবাদে নির্ধারিত ৫০ ওভারে হেলেনিক একাডেমির বিশাল সংগ্রহের অঙ্ক গিয়ে ঠেকে ৫১৮ রানে। শেষপর্যন্ত ৪৩৩ রানের বড় ব্যবধানে জয় পায় ঈসার দল।

এর পর থেকেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসেন সিকান্দার পুত্র। বাবার মতোই তাঁর পাওয়ার হিটিংয়ের কারিকুরি পরখ করে সকলেই প্রশংসায় ভাসাচ্ছেন তাঁকে। ব্যাটিং নৈপুণ্যের পাশাপাশি দারুণ নেতৃত্ব গুণও আছে তাঁর।

বিরাট কোহলি, এ বি ডি ভিলিয়ার্স ও বাবর আজমের মতো মহাতারকাদের আদর্শ মানা ঈসা হেলেনিক একাডেমির বয়সভিত্তিক এই দলের অধিনায়কও বটে। এখানেও বাবার সঙ্গে রয়েছে তাঁর মিল। একইসঙ্গে, দলটির উইকেটকিপিংয়ের দায়িত্বও সামলান তিনি।

ঈসার স্বপ্ন একটাই, বাবার সঙ্গে যেকোনো ফরম্যাটে একই দলের হয়ে মাঠে নামা। সম্প্রতি গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘বাবার বয়স বাড়ছে, হয়তো কিছুদিনের মধ্যেই অবসর নেবেন। তবে, আমি আশা করি আমার ১৮ বছর হওয়া পর্যন্ত অন্তত একটি ফরম্যাটে তিনি খেলা চালিয়ে যাবেন। অবসর নেওয়ার আগে তাঁর সঙ্গে আমি অন্তত একটি ম্যাচ হলেও খেলতে চাই।’

ঈসার সেই স্বপ্ন সত্যি হোক বা না হোক, তিনি যে বাবার পথেই হাঁটছেন সেটা অবশ্য সত্যি হতে চলেছে। সিকান্দার রাজার মতোই পাওয়ার হিটিংয়ের ঐতিহ্য বজায় রেখে তাঁর এই দানবীয় ইনিংস খেলার দৃষ্টান্ত সেটিরই প্রমাণ। ভবিষ্যৎ তাঁকে কোথায় নিয়ে যায় এখন সেটি দেখার পালা!

লেখক পরিচিতি

সাব এডিটর

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link